স্নেহ বন্ধন

Video Description

নিশির ডাক - এপিসোড - ৪ স্নেহ বন্ধন আকাশ ভাঙা বৃষ্টি মাথায় নিয়ে অফিস থেকে বেরোলো মিতালি। উফ , সেই দুপুর থেকে শুরু হয়েছে। কনকনে শীতের সন্ধ্যায় এমন ঝড় বৃষ্টি বড়োই যন্ত্রণার, আগামীকাল ভোরে পশ্চিম মেদিনীপুরে যাওয়ার প্লানটা ক্যানসেল করতে হয়েছে বলে মন খারাপ হয়ে আছে মিতালীর। প্রতি শনিবার "দিশা"য় যাওয়াটা অভ্যেস এ পরিণত হয়েছে , বছর পাঁচেক আগে এক পারিবারিক বন্ধু এই নিঃসন্তান দম্পতিকে মেদিনীপুরের এক অনাথ আশ্রমে নিয়ে যায় , 'দিশা অনাথ আশ্রম'। সেই থেকে সম্রাট, মিতালীর জীবনের দিশাই বদলে যায়। সবাই জানে প্রতি শনিবার ওদের গন্তব্য মেদিপুরের দিশা। সম্রাট এখন অফিস টুর এ রাজস্থান এ গেছে , যেহেতু সম্রাটই ড্রাইভ করে, তাই আগামীকাল মিতালীর একার পক্ষে মেদিনীপুর যাওয়া সম্ভব না। আশ্রমে যাওয়ার সাথে সাথেই রাজু,বাপ্পা,রিক,ভিকি,গুড্ডু,জয়,শুভ... কচিকাঁচা গুলো হৈহৈ করে এসে ঘিরে ধরে ,আর একটু দূরে মায়াময় চোখ দুটো নিয়ে বিট্টু , বিট্টু -মিতালীর বিট্টু, সম্রাটের বিট্টু। সব বাচ্চাদেড় থেকে যেন আলাদা একটা মায়া আছে ওর মধ্যে, যেহেতু আগামীকাল মিতালি যেতে পারছেনা তাই আশ্রমের ম্যানেজার সমীরণ বাবু আজ সন্ধ্যে বিট্টুকে নিয়ে আসবেন কথা দিয়েছিলেন , কিন্তু এত ঝড় বৃষ্টির কারণে বেরোতে পারছেনা বলে জানিয়েছে দুপুরে। প্রতি শনিবারের মতোই এই সপ্তাহেও মিতালি ওদের সকলের জন্য অনেক খেলনা, শীতের পোশাক, ক্রিম, শ্যাম্পু, সাবান, খাতা, পেন, পেন্সিল আর বিট্টুর জন্য একটা ভিডিও গেম কিনে রেখেছে, ওটা বিট্টুর ফরমায়েশ ছিল। এর আগেও কয়েকবার সমীরণ বাবুর সঙ্গে বিট্টু এসেছে মিতালীর কাছে, আজও ছেলেটাকে কাছে পাবে এই আশা ছিল। বিট্টু আসলে যেন হাজার ঝাড়বাতি জলে ওঠে ওদের সংসারে। আশ্রম অথোরিটির সাথে দত্তক সংক্রান্ত বিষয় কথা বলে রেখেছে সম্রাট,খুব শিগগিরই এই শুভ কাজটা করে ফেলতে হবে এবার , বাস এ বসে বসে এমনি হাজার ভাবনা ভিড় করে আসে মিতালীর মনে। বাইরে যেন প্রলয় চলছে , প্রচন্ড জোরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। মিতালির ফোন এ একফোঁটা চার্জ নেই অনেক্ষন আগেই বন্ধ হয়ে গেছে। বাস থেকে নেমেই মিতালি বুজলো পাওয়ার কাট , ঊফ। ..অসহ্য। ফোনেও চার্জ দেবার উপায় নেই আর , ফ্লাট এ ঢুকে কোনোরকমে জামাকাপড় ছেড়ে এক কাপ কফি নিয়ে বসলো, এত্ত ঠান্ডা লাগছে ! আজকে বিট্টু আসলে সবার আগে ভিডিও গেমটা ওর হাতে তুলে দেবে ভেবেছিলো , ওর ওই আনন্দে চকচকে চোখ দুটোর কথা ভাবতে ভাবতে মিতালীর তন্দ্রা এসে গেলো , চিন্তার জাল ছিঁড়ে দরজায় টোকা - বেশ জোরে জোরে। আবার। কিন্তু এমন ভয়াবহ ঝড় জলের রাতে কে হতে পারে?... হুড়মুড়িয়ে উঠে ছুট্টে গিয়ে দরজা খুললো মিতালি - ওমা ! সামনে দাঁড়িয়ে ওর প্রাণের প্রাণ বিট্টু। কিরে তুই??? আসবিনা বলেছিলি যে ? একা কেন? সমীরণ বাবু কোই ? এমন হাজার প্রশ্ন করতে করতে কোলে তুলে নিয়ে আদোরে ওকে ভরিয়ে দিলো মিতালি, বিট্টু বললো- সমীরণ কাকু রাস্তার মোড়ে একটা দোকানে গেছে আসছে। মিতালি বিট্টুকে বুকে আঁকড়ে ঘরে এনে বিছানায় বসালো , বিট্টুকে পেয়ে এক পৃথিবী আনন্দ আজ। হাত পা মুছিয়ে একটা গরম চাদর ওর গায়ে দিলো মিতালি , ছেলের মুখের দিকে পরম তৃপ্তিতে চেয়ে রইলো , অন্ধকার ঘরে মোমবাতির আলোয় চকচক করছিলো দুজনেরই চোখমুখ। কিন্তু বিট্টুর তো খিদে পেয়েছে নিশ্চিয়ই এতটা পথ এসেছে, কিন্তু ছেলেটা জড়িয়ে রেখেছে মিতালীকে কিছুতেই ছাড়ছেনা।, 'মাম এবার আর তোমাকে ছেড়ে যাবোনা , তোমাকে ছেড়ে আর থাকতে পারছিনা'। পাকাপাকা কথা শোনো ছেলের আঁচল ধরে রেখেছে কিছুতেই ছাড়ছেনা। এদিকে ওই ছোট্ট মোমবাতি প্রায় শেষ হয়ে এল। বাইরে আজ ঘুটঘুটে অন্ধকার , অমাবস্যা মনে হয়. মিতালি ওই অন্ধকারেই পাশের ঘর থেকে হাতড়ে হাতড়ে বিট্টুর ভিডিও গেমটা এনে ছেলের হাতে দিয়েই রান্নাঘরে ছুটলো কিছু খাবার বানাতে। মোমবাতির আলোটা নিভে আসছে এর মধ্যেই খাবারটা বানিয়ে ফেলতে হবে. খুব মন দিয়ে বিট্টুর প্রিয় চাউমিন বানালো মিতালি, প্লেট এ তুলবে এমন সময় গাঁকগাঁক করে ল্যান্ড লাইনের ফোন টা বেজে উঠলো। তাড়াতাড়ি ছুটে গিয়ে ফোনটা ধরলো। (ANCHOR VOICE ) একি এটা কি শুনছে , টেলিফোনের ওপার থেকে এমন কিছু শুনলো মিতালি যাতে ভয়ঙ্কর আর্তনাদ করে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লো মেঝেতে। মিতালীর আর্তনাদে ছুটে আসে অন্য বাসিন্দারা , তারপর ডাক্তার এম্বুলেন্স হসপিটাল। ...কিন্তু শেষ রক্ষা হলোনা, সেদিন মিতালীর শেষকৃত্যে বিট্টুও হাজির ছিল। পাশাপাশি দুটো খাটে দুজন। আশ্রম থেকে সমীরণ বাবু ফোন করেছিলেন ঐদিন , প্রবল ঝড় এ সবার অলক্ষ্যে বিদ্যুৎ এর তার ছিঁড়ে উঠোনের জমা জলে পড়েছিল। আর সেই জলেই খেলতে গিয়ে চিরদিনের জন্য স্থির হয়ে যায় -বিট্টু।

Join more than 1 million learners

On Spark.Live, you can learn from Top Trainers right from the comfort of your home, on Live Video. Discover Live Interactive Learning, now.