সাধারণ মেয়ের অসাধারণ জীবন কাহিনী

Video Description

মা আমি বাঁচতে চাই ভারতের মত দেশে কন্যা সন্তান হয়ে জন্মানো যেন এক অভিশাপ। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত পরিবারে কন্যা সন্তান হলেই জন্মানোর পর পরই আজও বহু জায়গায় তাকে মেরে ফেলে হয়। কন্যা ভ্রূণ নষ্ট করাও এদেশে এখনও ঘটে। তার পরেও যদি কোনও কন্যা সন্তান পৃথিবীর আলো দেখে ফেলে তার বাকি জীবন খুব একটা সুখকর হয় না। জীবনের প্রতি পদে পদে তাকে দিতে হয় সহ্য শক্তির পরীক্ষা। নানা বঞ্চনা, লাঞ্ছনা হয়ে পড়ে তার জীবনের নিত্য দিনের সাথী। পড়াশুনা করা বা স্কুলে যাওয়া তো দূর অস্ত। পরিবারের এবং বাইরের সমাজের পুরুষ দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া যেন তার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু তার মধ্যেই কিছু কিছু মেয়ে লড়াই করে যায় নিজের জন্য। সুস্য্র ভাবে বাঁচতে নিজের রাস্তা নিজেই পার করে শুধু মাত্র অসীম মানসিক শক্তির সাহায্যে। এরকমই এক সাহসী মেয়ে খুশবুর জীবনের লড়াই-এর কথা জানব। হাল ছেড়ো না বন্ধু মাত্র ষোলো বছর বয়সেই খুশবুর পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাকে বাধ্য করা হয় বিয়ে করার জন্য। বরাবরই খুশবুর বাবা ছিল নেশাগ্রস্ত। ছোটো বেলা থেকেই খুশবুর সামনেই তার বাবা তার মাকে ধরে মারত। খুশবুর বাদ যেত না সেই মারের হাত থেকে। তার জীবনের স্বপ্নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবার। বাবার এই অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে খুশবুর অনেকবার আত্ম্যহত্যার কথাও ভেবেছিল। বাবার হাত থেকে বাঁচাতে খুশবুকে তার মা বিয়ে করে নিতে বলে। বিয়ের পর পড়াশুনা চালানোর প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুশবুও রাজি হয়ে যায় বিয়েতে। বিয়ে করে চলে যায় মাইসোর। কিন্তু সেখানেও ভাগ্য সহায় হয় না তার। শুরু হয় স্বামীর অত্যাচার। অর্ধেক সময় না খেয়ে থাকতে হত তাকে। বিয়ের আট মাসের মধ্যেই গর্ভবতী হয়ে পড়ে খুশবুর। মাত্র সতেরো বছর বয়সে মা হন খুশবু। জন্ম দেন পুত্র সন্তানের। যার নাম আজান। ছেলেকে নিয়ে মায়ের কাছে মুম্বই ফিরে আসে সে। আবার পড়াশুনা শুরু করে পাশ করে দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা। তিন বছরেরও বেশী সময় ধরে খুশবু কাজ করছেন একটি এনজিও-তে। আজানের বয়স এখন ছয় বছর। খুশবুর জীবন যুদ্ধের কাহিনী যে কোনও নারীকেই জীবনে চলের পথে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

Join more than 1 million learners

On Spark.Live, you can learn from Top Trainers right from the comfort of your home, on Live Video. Discover Live Interactive Learning, now.