ভাই ফোঁটার গুরুত্ব ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা

Video Description

‘ভাইফোঁটা’ হচ্ছে বাঙ্গালীর ঘরে সবচেয়ে আনন্দময়, নির্মল, একটি পরব। ভাইফোঁটার ধর্মীয় গুরুত্ব অপেক্ষা সামাজিক ও পারিবারিক গুরুত্ব অনেক বেশী, যেখানে ভাই-বোনের মধ্যেকার প্রীতি ও ভালোবাসার স্বর্গীয় সম্পর্কটিই মূখ্য। তবে পৌরাণিক কাহিনী কি বলছে এই দিনটা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক? সূর্য দেবের যমজ সন্তান, মৃত্যুদন্ড দাতা যম ও তাঁর বোন যমুনা বড় হয়ে পরস্পর থেকে অনেক দূরে থাকতেন। দীর্ঘকাল অদর্শনে থেকে বোন যমুনার একদিন খুব ইচ্ছে হল ভাই যমকে একটু দেখার। ভাইকে নিমন্ত্রণ করতেই তিনি এসে উপস্থিত হলেন বোনের বাড়িতে। ভাইকে যথাসাধ্য আপ্যায়ন করেন এবং ভাইয়ের সর্বাঙ্গীন কুশল কামনা করে প্রার্থনা করেন যমুনা। ভাই যমরাজ খুব খুশি হন বোনের এই আকুলতা দেখে। তিনি যমুনাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে বোনের ডাক পেলেই তিনি ছুটে চলে আসবেন সবসময়। যমুনা ভাইয়ের কাছ থেকে এই আশ্বাস পেয়ে আনন্দে অশ্রু ফেলেন। সেই থেকেই ভাইয়ের মঙ্গল কামনা উৎসবের প্রচলন। ভাই-বোনের মধ্যেকার অনিন্দ্যসুন্দর সম্পর্ক ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এই উৎসব। ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে, ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় ঈশ্বরের কাছে বোনের আকুতি বা ভাইয়ের সাফল্য, সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্য বোনের প্রার্থণাই ‘ভাইফোঁটা’- কে মহিমান্বিত করেছে। ভাইরাও কথা দেয় সবসময় বোন বা দিদিকে সমস্ত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করবে, প্রতিজ্ঞা করে সব পরিস্থিতিতে তাদের পাশে থাকবে। সারা বছর খুনসুটি, ঝগড়া-ঝাঁটি করলেও, ভাই বোন দুজনেই অধীর আগ্রহে এই দিনটার অপেক্ষা করে। খাওয়া-দাওয়া, হাসি-ঠাট্টা র মধ্যেই, আনন্দে কেটে যায় এই দিনটা।

Join more than 1 million learners

On Spark.Live, you can learn from Top Trainers right from the comfort of your home, on Live Video. Discover Live Interactive Learning, now.