চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস ও জাঁকজমক

Video Description

দুর্গা পুজোর বিজয়া দশমীর বিষাদের সুর যখন বাংলার আকাশ বাতাস ছুঁয়ে যায়, তখন থেকেই আরও এক মাকে বরণ করে নেওয়ার অপেক্ষা শুরু হয় ঐতিহ্যের শহর চন্দননগরে। জগদ্ধাত্রী পুজো উপভোগ করতে দুর-দূরান্ত থেকে দর্শক বা ভক্ত জনের উপস্থিতি হয় চন্দননগরে। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন নিয়ে অনেক রকম মত শুনতে পাওয়া যায়। উল্লিখিত এই ইতিহাস কতটা সঠিক তা বলা খুবই কঠিন কারণ সমস্ত তথ্যই সবই শোনা কথার উপর ভিত্তি করে লেখা। তবে আজ চেষ্টা করবো কিছু বহুল প্রচলিত মত আপনাকে জানাতে। ১। কথিত যে ১৭৬১ সালে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তৎকালীন বাংলার নবাব মিরকাসিমের কাছে সময় মত খাজনা না দেবার কারণে মুর্শিদাবাদে বন্দি ছিলেন দুর্গা পূজার সময়। কাজেই দুর্গা পূজা করা সম্ভব হয়নি। তবে ছাড়া পেয়ে বিজয়াদশমীর দিনে নৌকায় ফেরার পথে স্বপ্নাদিষ্ট হন কার্তিক শুক্লা নবমীর সময় জগদ্ধাত্রী পূজা করার জন্যে। যথাবিহিত ভক্তি সহকারে তিনি জগদ্ধাত্রী পূজা করেন এবং বিভিন্ন জায়গায় এই পূজার প্রচলনেও উদ্যোগী হন। এই সূত্রেই তাঁর দেওয়ান দাতারাম সুর চন্দননগরের দক্ষিণে ভদ্রেশ্বরের গৌরহাটি বা গরুটি গ্রামের বাড়িতে ১৭৬২ সালে জগদ্ধাত্রী পূজা আরম্ভ করেন। ২। সার্বজনীন বা বারোয়ারী পদ্ধতিতে পূজা ১৭৯০ সালে এখানকার প্রধান বাজার এলাকা লক্ষ্মীগঞ্জের চাউলপটিতে স্থানীয় চালের ব্যবসায়ীরা আরম্ভ করেন। শোনা যায় চাউলপটির পরে কাপড়েপটিতে পূজা আরম্ভ হয়। তবে এই গঞ্জের সকল প্রকার ব্যবসায়ীরা গোষ্ঠী-গত হয়ে পূজার সূত্রপাত করেন। তাই ইতিহাস যাই হোক,এই পূজার ব্যবস্থাপনা, জাঁকজমক, ভক্ত বা দর্শক সমাগম- কোন কিছুরই তুলনা হয় না। এই পূজার বহু বৈশিষ্ট্যের মধ্যে প্রতিমার উচ্চতা ও ডাকের অর্থাৎ সোলার সাজের উল্লেখ করতেই হয়। প্রায় সব প্রতিমারই সাজ, চালচিত্র সহ শুভ্র। মোট প্রায় ২০০ পূজা হয়ে থাকে এখানে। সার্বজনীন হলে কি হবে, ভক্তি, শ্রদ্ধা, নিয়ম, নিষ্ঠা কোনটারই ঘাটতি বেশির ভাগ পূজা প্যান্ডালেই হয় না। তবে যে বিষয়ে এখানকার পূজা একদম অনন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা হলো আলোর সাজ। এখানকার এই আলোক-শিল্পীদের কীর্তি সারা ভারত কেন, বিশ্বের উন্নত দেশ গুলিতেও বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। শুক্লা ষষ্ঠী থেকেই দশমীর প্রতিমা নিরঞ্জনের শোভাযাত্রা দেখার দিন পর্যন্ত প্রতিদিন কয়েক লক্ষ করে ভক্ত বা দর্শক সমাগম হয়। যেখানে এত মানুষের ভিড় হবে সেখানে মেলা বসবে না তাও কি হয়। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগরের পরিবেশ কেমন থাকে সেটা কেবল মাত্র কয়েকটি প্রতিমার ছবি, কিছু প্যান্ডেলের ছবি বা আলোক সজ্জার ছবি দিয়ে বোঝানো সম্ভব নয়। কিভাবে উপভোগ করতে হলে জীবনে একবার হলেও জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় চন্দননগর থেকে ঘুরে যাবেন।

Join more than 1 million learners

On Spark.Live, you can learn from Top Trainers right from the comfort of your home, on Live Video. Discover Live Interactive Learning, now.