ওর্য়াক ফর্ম হোম- কিভাবে মেন্টেন করবেন আপনার ওয়ার্ক চার্ট? (Work from home- keep working by maintaining a proper work chart)

ওর্য়াক ফর্ম হোম- কথাটি শুনতে খুব মজার লাগে, যাক বাইরে বেরোতে হবে না. অফিস যাওয়ার জন্য সাত তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে উঠতে হবেনা. একটু দেরি করে উঠে টাইম এডজাস্ট করে কাজে বসলেই হলো. কেউ তো আর দেখতে যাবে না, কিভাবে কাজ করছি. কিন্তু বাস্তব চিত্রটা যে একেবারেই আলাদা, সে আর বলতে? যারা বরাবর বাড়ি থেকে কাজ করেন, তারা না হয় এডজাস্ট করে ফেলেছেন. কিন্তু যাদের এই অভিজ্ঞতাটি নতুন, তারা কিন্তু ভালো মতো টের পাচ্ছেন ওর্য়াক ফর্ম হোমের আসল সমস্যাগুলি.

লক ডাউনের দিন গুলিতে অনেক মহিলারাই বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছেন। ওর্য়াক ফর্ম হোম কথাটি শুনতে সহজ মনে হলেও, এই মুহূর্তে মহিলাদের ক্ষেত্রে এটি অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের জেরে এখন অধিকাংশ অফিসই তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার অনুমতি দিয়েছে। ফলে অনেকেই বাড়িতে বসেই কাজ করছেন। এমনিতে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যাপারটা শুনতে সহজ মনে হলেও একবার করতে শুরু করলে বুঝবেন ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্সের খেলাটা আসলে কতটা জটিল! কারণ অফিসে থাকলে আপনি শুধু অফিসের কাজই করেন, সেখানে অন্য কোনো কাজ আপনার মনযোগ কারতে পারে না।

কিন্তু বাড়িতে বসে কাজ মানেই দুইটি কাজ একসাথে করা। কারণ বাড়িতে থেকেও যেমন দায়িত্ব নিয়ে আপনার অফিসের কাজ তুলে দিতে হবে তেমনি বাড়ির দায়িত্বগুলি থেকেও আপনি কখনও সরে আসতে পারবেন না। বিবাহিত হলে তো কথাই নেই। যেহেতু আপনি বাড়িতে সেহেতু শ্বশুর-শাশুড়ি আপনার অজান্তেই তাঁরা প্রত্যাশা করবেন আপনি তাদের সাথে কাজ ভাগ করে নেবেন। আর স্বামী থাকলেও সংসারের কাজগুলো আপনাকে ভাগাভাগি করে করে নিতেই হবে। এর উপরে সন্তান থাকলে তো আর কথাই নেই। ফলে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের প্রসঙ্গ উঠলেই ভুক্তভোগী অনেক মেয়েরাই আশঙ্কায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু এর উপায়ই কী? এই পরিস্থিতিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমই একমাত্র অপশন। তাই সংসার এবং চাকরির মধ্যে ব্যালান্স করার চেষ্টা করে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। সেই ব্যালান্সিংয়ের কাজটাই আপনি কত ভালোভাবে করতে পারেন, তার উপরেই নির্ভর করবে আপনার সাফল্য।

১) প্ল্যানিং করুন :

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগেই প্ল্যান করে নিন, পরের দিন সকালে কি কি ভাবে আপনার কাজ গুলো করবেন। প্রতিদিন চাকরি করার সময়টুকুতে সংসারের কাজেও মাথা ঘামাতে হচ্ছে? কাজের সময় সন্তানের দেখতেও হচ্ছে। রান্নাঘরেও ঢুকতে হচ্ছে কখনও কখনও। সেক্ষেত্রে সমস্ত অফিসের কাজগুলো একজায়গায় লিস্ট করে নিন, সবক’টা কাজ করতে কত সময় লাগতে পারে, তারও একটা সময় বেঁধে দিন। এবার নিজেকে বলুন একটা কাজ শেষ না করে আপনি কিছুতেই উঠবেন না। একটা কাজ শেষ করে নিজেকে দশ মিনিটের ব্রেক দিন, এই দশ মিনিটে সংসারের টুকটাক কাজ করে নিতে পারেন।

২) অফিসের বস ও সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন :

এইসময় বাড়িতে বসে কাজ করতে খুব অসুবিধে হলে সে কথা আপনি আপনার বস অথবা সহকর্মীকে জানাতে পারেন। তাদের অনুরোধ করুন আপনার ডেডলাইনগুলি যাতে তারা প্রয়োজনে সামান্য পিছিয়ে দিতে পারে। আপনি দক্ষ কর্মী হলে আপনার এই আবেদন ওরা অবশ্যই মেনে নেবেন।

৩) কথা বলুন পরিবারের সাথে :

কাজই আপনার পরিচয় ফলে আপনি যে কাজটাই করবেন তাতে যেন কেনো ভুলভ্রান্তি না থাকে। দরকার পড়লে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন। পরিস্থিতির কারণে আপনি বাড়িতে বসে কাজ করছেন ঠিকই, কিন্তু আসলে এটা অফিস টাইমই, এ কথাটা ভালো করে তাদের বুঝিয়ে দিন এবং এই সময়টায় অফিসের কাজ বাদ দিয়ে অন্য কোনো দিকে মাথা দেওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়, সেটাও বলুন। প্রথম দু’একদিন অসুবিধে হবে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি ঠিক হবে।

৪) স্বামীর সঙ্গে কথা বলুন :

আপনার স্বামীও যদি ওর্য়াক ফর্ম হোম করে থাকেন তবে, সেক্ষেত্রে আপনি নিজের ব্যাপারটা নিয়ে তার সাথে কথা বলতে পারেন। আপনার অসুবিধেগুলো তার সাথে শেয়ার করুন। দু’জনে মিলে পরামর্শ করে এগোলে দু’জনেরই সুবিধে হবে।

৫) নিজের যত্ন নিন :

এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ! অফিসের কাজ আর সংসারের কাজ, এই দুই এর চাপে পড়ে নিজের প্রতি অনেকেই নেন না। ফলে এতে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার প্রবনতা অনেকটাই থাকে। এর জন্য আপনি পুষ্টিকর খাবার খান এবং প্রচুর পরিমানে জল ও ফলের রস খান। এছাড়াও নিয়মিত ফ্রি হ্যান্ড বা মেডিটেশন করলে মন শান্ত থাকবে। নিজের যত্ন নিন, দেখবেন এই সময়টাও দেখতে দেখতে হঠাৎই কেটে যাবে।

ব্যাস এইভাবেই যদি মেনে চলতে পারেন, তাহলে ওর্য়াক ফর্ম হোম-এর কাজ করার অভিজ্ঞতা কিন্তু আনন্দময় হয়ে উঠবে.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।