বহু মেয়েরাই অবিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন, কিন্তু কেন ? (Why so many women are perfectly happy to stay single? )

  • by

জন্ম মৃত্যু বিয়ে তিন বিধাতা নিয়ে- এই প্রবাদ আমাদের সকলেরই জানা, এরমধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর উপর আমাদের অধিকার না থাকলেও বিয়ের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে অবশ্যই , বাল্যবিবাহ , বিধবাবিবাহের চল ছিল আগেকার দিনের প্রথা, এখন আবার সিঙ্গেল ওমেনহুড এর যুগ। যার পোশাকি নাম হলো- স্পিনস্টার।

একটা বয়সের পর বিয়ে করে সংসার করতেই হবে, এইটা কিন্তু এখনকার মেয়েরা মানতে নারাজ। পড়াশোনা, চাকরি করে রীতিমতো নিজের এবং পরিবারের দায়িত্ব ভালো করে নিতে পারে এখন মেয়েরা। তাই বিয়ের অপশনটাকে জাস্ট এড়িয়ে চলে-

বিয়ে কি সত্যি মনের মিলনমাত্র?

আমাদের সমাজবাবস্থায় বিয়েটা অনেকের কাছেই মানসিক, শারীরিক ইত্যাদি লক্ষপূরণের জন্য তৈরি এক পারস্পরিক সম্পর্কের মেলবন্ধন হলেও কিছুজনের কাছে কেবলই তা নিজের স্বাধীনতা হরণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। একজন পুরুষের পক্ষে সমাজের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করা যতটা সহজ একজন নারীর জন্য তা খুব কঠিন।

বিয়ের পরবর্তী জীবনে আসা নানা নেতিবাচক প্রভাব বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিয়ে নিয়ে এক বিভীষিকা তৈরী করছে। অবিবাহিত জীবন কাটানো সহজ কথা নয় , নানারকম পারিবারিক চাপ এর সম্মুখীন হতে হয়, বাবা মা এর প্রধান চিন্তা থাকে মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়ে তাই তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে অগত্যা বিয়ে করতে হয় ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও। কিন্তু মনের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটা কিন্তু কখনো ভালো করে কার্যকরী করা যায়না।

গবেষণা বলছে- সিঙ্গেল ওমেনরা গতানুগতিক চিন্তাধারার ঘেরাটোপ ভাঙছেন , তাই একা থাকার জীবনকে বেশি করে আপন করে নিচ্ছেন তারা । ৩০ এর কোঠায় এসেও যদি আপনার বিয়ের কোনো প্ল্যানিং না থাকে তাহলে বুজতে হবে আপনি বিয়ে করছেননা তবে বেতিক্রম ও থাকে অনেকেই।

বিয়ে না করার কিছু ফায়দা আছে –

অনেক গবেষণা এটাও বলছে যে – সিঙ্গেল মেয়েরা বাচ্চা ও স্বামী নিয়ে সংসার করা মেয়েদের থেকে অনেক বেশি সুখী ও স্বাস্থবতী হয়। এমনকি তারা কম মানসিক অশান্তি ও ডিপ্রেশন এ ভোগেন।
সংসার ঘরকন্নার ঝক্কি নেই , বাচ্চা সামলানোর চাপ নেই , নিজেকে প্রয়োজন মতো সময় দিতে পারেন , পছন্দমতো ঘুরতে পারবেন, কাউকে জবাবদিহি করতে হবেনা। কারোর উপর নির্ভরশীল হতে হয়না , স্বাধীন বিহঙ্গের জীবন কাটাতে পারবেন দায়িত্ব ছাড়াই।

নিজের আত্মমূল্যায়ন করুন, নিজের নেওয়া সিদ্ধান্তের উপর অটুট থাকুন এবং অনুশোচনকে মনে জায়গা করতে দেবেননা। সেভিংস শুরু করুন যাতে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়। কারোর সঙ্গে সমঝোতা বা স্যাক্রিফাইস এর পথে হাঁটবেননা , তাই নিজের মধ্যে কঠোর মনোভাব রাখুন। লিভ ইন বা সিঙ্গেল মাদারের দিকটাও ভেবে রাখতে পারেন। শুধুমাত্র নিরাপত্তার জন্য সম্পর্কে জড়িয়ে নিজেকে ঠকাবেননা , সবসময় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলুন।

নিজের ওপর নির্ভরশীল হওয়া-

বিয়ে না করায়, আপনি কারোর উপর নির্ভরশীল হননা। ফলে নিজের মতোন কাজ করতে পারেন। সকল বিবাহিত মানুষজনেরাই নিজেদের থেকে আগে নিজেদের সংসার দেখে। অবিবাহিত হওয়ার ক্ষেত্রে আপনি শুদুমাত্র নিজের দিকে তাকাতে পারেন। বিয়ের পড় শ্বশুর বাড়ি থেকে মেয়েদের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসে। আর সেই অভিযোগ গুলি অনেক বিবাহিত মেয়েই আছেন, মাথা পেতে নেন। তবে আপনি আপনি বিয়ে না করলে, এই সমস্ত ঝক্কি গুলো আপনাকে সামলাতে হবে না। অনেক বিবাহিত মেয়েরাই আছেন, যারা কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই তার স্বামী এবং শ্বশুর বাড়ির সদস্যাদের জানান, ফলে অনেক সময় আপনার সিদ্ধান্তে শ্বশুর বাড়ির তরফে বাধা আসতে পারে। ফলে আপনি অবিবাহিত হলে, আপনি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে নিতে পারবেন।

মানসিক অবসাদ-

বিয়ের পর অনেকেই মানসিক অবসাদে ভোগেন,বিভিন্ন কারনে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্দেহপ্রবনতা আরও বেড়ে যায়। ফলে আপনি বিয়ে না করলে, এই ব্যাপার গুলি কখনোই আপনার মাথায় আসবে না। আপনি প্রতিটা রাতে ভালোভাবে ঘুমোতে পারবেন। এক কথায় আপনি সুখী।

তাই যদি আপনি মনে করেন যে বিয়ে না করেই ভালো আছেন, তো থাকুন না। সমাজের গতানুগতিক নিয়ম, নাইবা মানলেন, তাতে কারোর কিছু ক্ষতি নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।