সরস্বতী পূজাকে বাঙালিদের ভ্যালেন্টাইন্স ডে বলা হয় কেন? (Why Saraswati puja is called Bengal`s valentines day?)

  • by

প্রেম আর বাঙালি – এক কথায় অবিচ্ছেদ্য। যে বাঙালি প্রেম করতে জানেন না, তার অন্তত এই রবি ঠাকুরের বাংলায় থাকা বেমানান। কারণ বাঙালি মানেই প্রেমের পূজারী।

শাড়ি – পাঞ্জাবি –

এখনো ব্লেসার বা সুট পরে হাঁটু গেড়ে এনগেজমেন্ট রিং দিয়ে প্রপসে করার থেকে, বাঙালি পছন্দ করে, পাঞ্জাবি পড়া ছেলেটা যখন একটা লাল গোলাপের আড়ালে ঢাকা চিঠি দিয়ে মনের কথা ব্যক্ত করতে আগ্রহী হয়, তার প্রিয় বান্ধবীটির কাছে। সাথে একটা চকলেট থাকলেও মন্দ নয়। আর কথাতেই আছে, বাঙালি রমনীদের বেশি মানায় শাড়িতে। আর বলাই বাহুল্য, ছেলের পরনে যদি পাঞ্জাবি থাকে, তাহলে অবশ্যই মেয়েটির পরনে শাড়ি থাকা মাস্ট। আর এটিই প্রধান কারণ বলে গণ্য হয়, সরস্বতী পূজা বাঙালির প্রেম দিবস হওয়ার ক্ষেত্রে।

কারণ চিরাচরিত ভাবে, সরস্বতী পূজাতেই মেয়েরা, নিয়ম মতো শাড়ি পড়তে ভালোবাসে। সে স্কুলের ছোট্ট তিন্নি হোক বা এমএ পাঠরত তিয়াসা। সেদিন শাড়ি পরে মন মতো সেজে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো বা জমিয়ে আনন্দ করার দিন। মা বাবা, টিচাররা বেশ একটু আলগা ছাড় দেন সেইদিন। আর ছেলেরাও রীতি মেনে পাঞ্জাবি পরে। আর দিনটির ভঙ্গিতে নিজেকে সাজানোর পাশাপাশি, ছেলেরা মেয়েদের প্রানভরে ঝাড়ি মারার লাইসেন্স পেয়ে যান। তবে কোনো ভাবেই সেটা কিন্তু কেউ রুচিকর মন্তব্য বা বাজে কোনো কিছুর ইঙ্গিত নয়। কারণ বাঙালি রমণীকে শাড়িতে দেখা প্রতিটি বাঙালি পুরুষের দুর্বলতা।

নিজের মনের মানুষটিকে অন্য ছন্দে দেখা-

সরস্বতী পূজার দিনটি হলো বাড়ির পূজা সেরেই ভালো করে সাজুগুজু করে স্কুলের সরস্বতী পূজাতে অংশগ্রহণ করা। যারা বাংলা মিডিয়ামের ছাত্র ছাত্রী তাদের কথা যদি বলি- অনেক সময় কিছুটা দূরত্বের ব্যবধানেই থাকতো গার্লস আর বয়স স্কুল। আর ওই দিনটিতে প্রত্যেক স্কুলের ছাত্র ছাত্রীই অন্য স্কুলে যেতে পারে। তো এইটা সেই সুবর্ণ সুযোগ যখন যে মেয়েটিকে, স্কুলে আসা যাওয়ার পথে, গ্যারেজে সাইকেল রাখার সময়ে দেখে ভালো লেগে গেছিলো, বার বার তাকে দেখতে স্কুলের কিছুটা দূরে তার চলার পথেই অপেক্ষা করাটা রুটিন হয়ে গেছে, তাকে আজ সামনাসামনি শাড়ি পরে দেখার পালা। আবার নিজের সাজটিকেও একটু অন্যরকম করে তোলা, যাতে মেয়েটিও আমাকে লক্ষ্য করে। ভিড়ের মধ্যে যাতে আমার ওপর একটুও নজর পরে, তাই বার বার তার সামনে দিয়ে ঘুরে বেড়ানো- সবটাই এই দিনটির স্পেশালিটি।

না বলা কথা গুলো বলার দিন-

ওই যে যে মেয়েটিকে একভাবে ভালো লেগে আসছিলো, কিন্তু স্কুল বা কলেজে ব্যস্ততার মধ্যে কিভাবে যে বলবো তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না, আজ তাকে যদি নিজের মনের কথা বলি, আশা করি, সে মুখ ফিরাতে পারবে না। এমনটা কিন্তু সরস্বতী পূজার আগে বারকয়েক বাঙালি পুরুষদের মনে উঁকি দেয়। দিনটির জন্য রীতি মতো নিজেদের প্রস্তুত করে। আর যদি বন্ধুরা জানতে পারে তাহলে তো দশ বারো জন জোগাড় হয়ে যায়, তাকে সাহস জোগাতে। ব্যাস বন্ধুদের দল নিয়ে পাঞ্জাবি পড়া ছেলেটা সাহস করে জানিয়েই ফেলে মেয়েটিকে ঘিরে তার ভালো লাগার মুহূর্ত গুলি। ব্যাস খুব একটা না বলতে দেখা যায় না মেয়েদের।

পারফেক্ট ডেটিং এর দিন-

যারা ইতিমধ্যেই সম্পর্কে আছেন, তাদের তো একটা স্পেশাল ডে। বাড়ির পূজা সেরেই , শাড়ি পরে সুন্দর ভাবে বাঙালিয়ানা সেজে হাত ধরে বেরিয়ে পড়েন ঘুরতে। কারণ, এই দিনটায়, বাড়ির সবাই তো জানে বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে গেছে, কেউ আর খোঁজ করতে যান না। তাই আজ কেস খাওয়ার কোনো চাপই নেই। বয়ফ্রেন্ডের যদি বাইক থাকে, তাহলে তো কেল্লা ফতে, হু হু করা বাইকের টানে বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে ঘুরে আসার দারুন সুযোগ দেয় দিনটি।

কি মিলাতে পারলেন তো সব কটা মুহূর্ত? তো বুঝতে পারছেন তো কেন এই দিনটিকে ঘিরে প্রেমের উদ্দ্যাপনা বাড়ে? আপনি দিনটিকে কিভাবে পালন করেন, জানার অপেক্ষায় রইলাম।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।