প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে কেন টলিউডের একমাত্র রোমান্টিক হাসব্যান্ড বলে মনে করা হয় (Here’s why Prasenjit is the most romantic husband)

  • by

বয়স ৫৬, কিন্তু দেখে বোঝার যে আছে কি? এখনো রোমান্টিক চরিত্রের অভিনয়ে, তার বিকল্প কেউ নেই। বুম্বা দা – প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় যার মানেটাই হলো ইন্ডাস্ট্রি। সেই মানুষটি রিল হোক কিংবা রিয়াল লাইফে রোমান্টিক হাসব্যান্ড বা কখনো রোমান্টিক হিরো সর্ব ক্ষেত্রেই সমানভাবে খ্যাত। কিন্তু একই মানুষ দুই ক্ষেত্রেই পারদর্শী কিভাবে? চলুন আজ খুঁজেই বের করা যাক সেই রহস্যটি।

১২ বছরের বেশি সময় ধরে একইভাবে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছে এই নায়ক স্ত্রী অর্পিতা চ্যাটার্জির সাথে। তৃষাণজিৎ নাম তাদের একটি পুত্রসন্তানও আছে। দীর্ঘ ১২ বছরে বেশি কাটানোর পরও এই দুই অভিনেতা অভিনেত্রী স্বামী স্ত্রীয়ের সম্পর্কে চির ধরতে দেখা যায়নি কখনো। বরং আরো দৃঢ় হয়েছে। বুম্বাদা নিজের প্রফেশনে মানে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে খুব বেশি একটিভ হলেও, স্ত্রী কিন্তু বিয়ের পর থেকেই সেইভাবে ধারাবাহিক ছন্দে ফিল্মে কাজ করেননি। মাঝে মধ্যেই একটা লম্বা ব্রেক নেন, আবার ফিরে আসেন নিজের পছন্দসই চরিত্রে।

মূলত ছেলে তৃষাণজিৎের যাবতীয় দায়িত্ব সামলানোর স্বার্থেই অর্পিতা নিজে থেকেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে এখন পড়াশোনার জন্য ছেলে বাইরে থাকায়, বেশ কয়েকটি ফিল্ম তিনি করছেন।

এই দম্পতি বহুবার কিছু সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাদের এই অটুট সম্পর্কের মূল মন্ত্রই হল একে অপরের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রাখা, সন্মান করা। বুম্বা দা নিজেই স্বীকার করেন, অর্পিতা তার স্ত্রী হলেও, অন্য নায়িকাদের সাথে বুম্বাদার কাজে তিনি কখনোই বাধা সাধেননি। কাজটাকে প্রফেশনাল ভাবেই পরিচালনা করেছেন , নিজের জীবনেও। বরং দুজনে দুজনের কাজ নিয়ে কমপ্লিমেন্ট করেন সুযোগ পেলেই।

অন্যদিকে অর্পিতা কলকাতার বাইরে কাটিয়েছেন বেশ কিছুটা সময়, তার নতুন বিজনেসকে অন্য মাত্রা দেয়ার জন্য, একেবারে একজন দক্ষ প্রফেশনালরের মতো। সেই খেত্রেও বুম্বাদা কোনো ভাবেই বাঁধ সাধেননি।

৩৬ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে আসছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ভাবা যায়! একটা দীর্ঘ সময়। রিয়েল লাইফের মতো রিল লাইফেও এখনো পর্যন্ত বুম্বাদার পরিপূরক রোমান্টিক হিরো আসতে পারেন নি। এই বয়সেও তিনি যদি হন কোনো ফিল্মের নায়ক, তাহলে সেই ফিল্ম দেখার আগ্রহ আমাদের বেড়ে যায় দ্বিগুন। নবাগতা নায়কদের কাছেও তিনিই প্রথম চয়েস।

অর্পিতা এবং বুম্বাদার মধ্যে বয়সের পার্থক্য অনেকটাই, মানে অর্পিতা বয়সে অনেকটাই ছোট, তাও প্রথম থেকেই অভিজ্ঞের মতো সংসার কাজ আর বুম্বা ডাকে সামলে যাচ্ছেন তিনি। দুজনেই নিদের মতো সময় কাটানোর সুযোগ খুবই কম পান। কিন্তু যতটুকু সময় পান, ততটুকুই নিজেদের কথা, পারিবারিক কথা বা ছেলে তৃষাণজিৎের কথাই বলেন। কাজের জগতের আলোচনা বাড়ির ডাইনিংয়ে বসে আলোচনা করেন না। আবার নিজেদের কোয়ালিটি সময় কাটানো মানেই, একসাথে বসে বেশ কয়েকটি ফিল্ম দেখা। তবে দুজন যে বিষয়টায় ভীষণ সিরিয়াস সেটি হলো ছেলেকে নিয়ে।

খুব বেশি দর্শনদারিতে যেমন আস্থা রাখেন না এই দম্পতি, তেমনি নিজেদের সম্পর্কের জাদুকাঠি হিসাবে মানেন- একে অপরকে বোঝার ক্ষমতা। আপনার কতটা পছন্দের প্রসেনজিৎ অর্পিতা চ্যাটার্জীর সম্পর্ক?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।