শিব ঠাকুরের পরনে বাঘছাল থাকে কেন? (Why does lord shiva sit on a tiger skin?)

  • by

আপনি কি শিবের ভক্ত? তাহলে নিশ্চয়ই জানেন শিব ঠাকুর সম্বন্ধিত সব তথ্য, সব ছোট খাটো খুঁটি নাটি? তাহলে বলুন দেখি, সুঠাম দেহের ভগবান শিব কি পরে থাকেন? বাঘের ছাল। যাই বলুন ভোলানাথকে এই পোশাকে কিন্তু মানায় দারুন। একেই তার সুঠাম চেহারার একটা তেজ সাথে বোনের শ্রেষ্ঠ প্রাণীর ছাল গায়ে পড়লে , তার শরীরের জ্যোতি যেন আরো দ্বিগুন বেড়ে যায়। কিন্তু প্রশ্নটা হলো- দেবাদিদেব কেন পড়ে থাকেন এই পোশাক? চলুন খুঁজে বের করি এর উত্তর।

প্রচলিত কাহিনী –

শিব পূরণে কথিত আছে এর ওপরই একটি কাহিনী। আগে নাকি দেবাদিদেব নগ্ন অবস্থায় মানে বস্ত্রহীন অবস্থায় বোনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন, নিজের মনে। এইভাবেই ঘুরতে ঘুরতে একদিন এক মুনি ঋষিদের আস্তানায় হাজির হন তিনি। তবে ওই মুনি ঋষিরা কিন্তু সভ্য সমাজের নিয়মে চালিত ছিলেন মানে পোশাক পড়তেন, রান্না করে খেতেন, এমনকি জঙ্গলের মধ্যে ওই আশ্রমে, স্ত্রী কন্যাদের নিয়েই বাস করতেন। সেখানে হঠাৎ একজন বিনা বস্ত্রের সুঠাম চেহারার যুবক এসে পড়ায়, সকলেই একটু বিরক্ত হলেন।

ফলে তাকে আশ্রম থেকে তাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকলেন। ফন্দি আঁটলেন, তাকে হত্যা করার। বলাই বাহুল্য, সমাজের সভ্যতা রক্ষায় তারা হত্যা করতেও পিছপা হননি । জঙ্গলের মধ্যে ফাঁদ পেতে মানে গর্ত করে, সেই গর্তে হিংস্র বাঘ রেখে, তার ওপর শুকনো পাতা দিয়ে, গর্তটি ঢেকে দিলেন। মহাদেব সবটাই বুজতে পেরেছিলেন, তাও ইচ্ছা করেই তাদের ফাঁদে পা দিলেন।

গর্তে পড়ার পরেই হিংস্ৰ বাঘটির গর্জন শোনা গেল, কিন্তু মহাদেবের কোনো আওয়াজ পাওয়া গেল না। সকলেই আস্বস্ত হলেন, নগ্ন যুবকটির হত্যা সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু কিছু পরেই, যুবকটি ওপরে উঠে এলেন সেই বাঘটির ছাল পরে। তাতে যেন তার রূপ আরো বেশি ফেটে পড়ছে। সকলেই বুঝলেন ইনি কোন সাধারণ মানুষ নিন, স্বয়ং দেবতা। তার পর থেকেই নাকি শিব ঠাকুরের পরনে শোভা পায় এই বাঘছাল।

১২ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন প্রফেশনাল জ্যোতিষবিদ এবং তন্ত্র বিশেষজ্ঞ স্বদেশ ঘোষ আচার্য্যের কাছে জানুন সুখী ভবিষ্যতের ঠিকানা- https://spark.live/consult/fortune-telling-and-black-magic-advice-by-swadesh-ghosh-acharya-bengali/

কাহিনীটির পক্ষে বিপক্ষে অনেক মতামত আছে ঠিকই, কিন্তু এই কাহিনীটিই বহুল প্রচারিত। কাহিনী যাই থাকুক না কেন, বাঘের মতো তেজস্বী প্রাণীর চামড়া কিন্তু একমাত্র মানায় মহাদেবকেই। আপনি কি মনে করেন? কমেন্টে জানান আমাদের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।