সরস্বতী পূজার দিন গোটা সিদ্ধ খাওয়া হয় কেন? (Why do we eat ‘gota seddho’ after Saraswati Puja day ?)

  • by

সরস্বতী পুজোর পরের দিন গোটা সিদ্ধ কেন খাওয়া হয় তা কি জানেন। বাঙালির মধ্যে সাধারনত এদেশীরাই এই নিয়ম ও মেনে থাকেন।

কারণ-

এই প্রথা যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। প্রথা অনুযায়ী সরস্বতী পুজোর পরের দিন শীতল ষষ্ঠী। বসন্তর পঞ্চমী তিথি কাটা মাত্রই সন্তানের মঙ্গল কামনায়, ব্রতী হন বাংলার মায়েরা। সরস্বতী পুজোর পরের দিনই বাজারের থলে হাতে বেরিয়ে পরেন, গৃহস্থরা।

অরন্ধন-

প্রথা মানতেই চড়া দাম হলেও বাজার থেকে চড়া দামে সামগ্রী কিনে আনতে হয় তাঁদের। এদিন বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে অরন্ধন পালিত হয়। তাই গোটাসিদ্ধ আগের দিন রান্না করে পরেরদিন খাওয়াই নিয়ম। শুধু তাই নয় অনান্য খাওয়ারও এদিন ঠান্ডাই খেতে হয় বলে আগের দিন রাতেই রান্না গুলি করে রাখা হয়।

কি কি লাগে-

আলু, বেগুন, সিম, মটরশুঁটি সমস্ত শীতকালীন সবজি গুলিকেই কোনো গোটা মশলা ছাড়াই নুন এবং তেল ও জলের সহযোগে সিদ্ধ করা হয়। ফলে রান্নার পর এটিতে অসাধারণ একটি স্বাদ পাওয়া যায়।

আধ্যাত্বিক ও বৈজ্ঞানিক যুক্তি-

প্রতিটি ঋতুর সাথে আমাদের শরীর যাতে তাল মিলিয়ে চলতে পারে একমাত্র সেই কারণেই প্রাচীনকালে মুনী ঋষিরা এই প্রথা চালু করেছিলেন। এর পেছনেও রয়েছে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই অনেক ক্ষেত্রে এইসময় পক্স হওয়ার সম্ভবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ফলে শীতকালীন নানা সবজির সমাহারে বানানো গোটা সেদ্ধ খেলে, শরীর ঠান্ডা হয় এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ডাক্তাররাও এই খাওয়ারকে কমফোর্ট ফুড বলেন।

রীতি অনুযায়ী এদিন ছয় রকম মরশুমি সবজি একসাথে গোটা সেদ্ধ করে, খাওয়া হয়৷ এই সবজি গুলি মধ্যে থাকে আলু, রাঙাআলু, বেগুন, কড়াইশুঁটি, সিম এবং পালং শাখ সঙ্গে কাঁচা তরকার ডাল।

বর্তমানে কর্মব্যস্ত বাঙালি এই রীতি ভুলেতে বসেছে। তবে এই প্রথার বিষয়ে অনেকেই জানেন না। মা ঠাকুমাদের হাতে তৈরী সেই গোটা সেদ্ধর স্বাদ অনেকটাই ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।