বেল গাছকে এইভাবে পূজা করলেই পাওয়া যায় ভগবান শিবের আশীর্বাদ (Why beal leaves are a must while worshiping Lord Shiva?)

  • by

মোটামুটি পুজোতে তিন পাতা বিশিষ্ট বেল পাতার রমরমা তো আমরা সকলেই দেখেছি। বিশেষ করে শিবপূজাতে লাগেই এই বেল পাতা। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, কেন তিন পাতা বিশিষ্ট বেল পাতাই লাগে পূজাতে?

শাস্ত্র ঘাটলে এর নেপথ্যে কিছু যুক্তি মেলে। যা বহু গুণী ব্যক্তিদের দ্বারা স্বীকৃত আবার অনেকেই মানেন না যুক্তি গুলি। যাই হোক আমরা বরং একটু কি কি সেই যুক্তি গুলি-

বৈশিষ্ট্য-

তিন পাতা বিশিষ্ট বেল পাতা হলো জগৎসংসারের ত্রয়ীর প্রতীক। মানে ত্রিভুবনের তিন শক্তি – যথা ব্রহ্মা , বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে উল্লেখ করে এই তিনটি পাতা। বেলগাছকে মহাদেবের বিশেষ আশীর্বাদ পুষ্ট গাছ হিসেবে মানা হয়। কোথায় আছে, দেবী পার্বতীর কপালের ঘাম মাটিতে পরে, এই বেল গাছে সৃষ্টি হয়েছিল। তাই বেল গাছ মহাদেবের বেশ প্রিয়। তাই বেল গাছের ক্ষতি যেমন বেল গাছ কেটে ফেলা, বা যখন তখন বেল পাতা তোলা, এইগুলিতে মহাদেব রুষ্ট হন।

বেল গাছ ও পাতা সম্বন্ধীয় কিছু নিয়ম বলা থাকলো-

১। কোনোদিনই সোমবার বেল গাছের কোনো ক্ষতি করার কথা ভাববেন না। কারণ সোম্বারকে শিব ঠাকুরের দিন বলে মানা হয়। ওই দিন বেল পাতায় না তোলাই ভালো। একই নিয়ম মানুন একাদশী ও পূর্ণিমার ক্ষেত্রে।
২। স্নান না করে এমনকি বাসি কাপড়েও বেল পাতা তুলবেন না।
৩। কচি কলাপাতা রংয়ের বেলপাতা তুলবেন না। আর কোনোদিনই দেবদেবীকে নোংরা বা অপরিষ্কার বেলপাতা উৎসর্গ করবেন না। এতে দেবতারা ক্ষুব্দ হন।
৪। বাড়িতে বা বাড়ির আশেপাশে যদি কোনো বেলগাছ থাকে, তো স্নান করার পর প্রতিদিন বা বিশেষ করে সোমবার বেলগাছের গোড়ায় জল দিয়ে তিন বার ‘ওম নমঃ শিবায় ‘ উচ্চারণ করুন। জীবনের সব বাধা বিপদ দূর হবে।
৫। মহাদেবকে যে বেল পাতা দেবেন তা যেন পরিষ্কার পাত্রে রাখা থাকে, আর পাতা উৎসর্গ করার আগে ধুয়ে নেবেন ভালো ভাবে।

বুঝতেই পারছেন নিশ্চয়ই বেল পাতা ও গাছ কতটা গুরুত্ব বহন করে, হিন্দু ধর্মে? আর তাও দেবাদিদেব মহাদেবের ক্ষেত্রে? অনেক মুনি ঋষিদের মতে, মহাদেব নিজে বাস করেন বেল গাছে। তাই বেলগাছের সঠিক যত্ন ও বেলপাতার সঠিক ব্যবহার যথেষ্ট ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়ার ক্ষেত্রে। আপনার বাড়িতে বেল গাছ আছে?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।