নরমাল ডেলিভারির জন্য গর্ভবতী মায়েদের ডায়েট চার্ট ঠিক কেমন হওয়া উচিত? (What exactly a pregnant mother should follow for normal delivery?)

একজন মায়ের কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সময়টি হল- তার গর্ভাবস্থা। প্রত্যেক মায়েরই এই সময় লক্ষ্য থাকে নিজের খাদ্যের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া, কারণ গর্ভে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠা শিশুটির পুষ্টি নির্ধারণ করে মায়ের খাদ্যের ওপরই। তাই খাবারের তালিকায় কোন খাবারকে করতে হবে ইন আর কোন খাবারকে করতে হবে আউট- তার জন্য দরকার পরে একজন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ানের।

আবার একইসাথে এই সময় নিত্যদিন শরীরে কিছু না কিছু সমস্যা লেগেই থাকে। বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, প্রেসার নেমে যাওয়া বা সুগার লেভেল বেড়ে যাওয়া- এই সমস্ত সমস্যার জন্যও প্রয়োজন সঠিক ডায়েট, নইলে বেসিহিসেবি ডায়েটের মাশুল যেমন গোনে গর্ভবতী মায়ের শরীর তেমনি গর্ভে থাকা শিশুটি। চিন্তা নেই, গর্ভকালীন অবস্থার সকল সমস্যার নিবারণের জন্য আছে বিশেষ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান এবং ভারতীয় ডায়বেটিক এসোসিয়েশনের লাইফটাইম মেম্বার মহুয়া শী। চলুন দেখেনি গর্ভবতী মায়েদের জন্য তার দেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস –

ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান মহুয়া শী-এর থেকে গর্ভকালীন ডায়েট চার্ট নিতে আজই বুক করুন তার সেশন, এই লিংকে ক্লিক করে- https://spark.live/consult/diet-and-nutrition-for-pregnant-women-with-mahoua-shee-bangla/

১. গর্ভকালীন অবস্থার প্রথম মাস থেকেই কি নিজের খাদ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া উচিত?

উঃ- প্রেগনেন্সি হল নর্মাল ফিউজোলজিক্যাল স্টেট। এই সময় মুড সুইংস্, হরমোনাল চেঞ্জেসের মতোন এই সমস্ত জিনিস গুলো লক্ষ্য করা যায়। আর তাই এই সময় সঠিক পুষ্টি খুবই জরুরী। শুধুমাত্র মা নয় সন্তানের জন্যও। আর এই সময়টিই নিউট্রিশন শিক্ষা বা পুষ্টি শিক্ষার আদর্শ সময়। ফলে প্রেগনেন্সির প্রথম সপ্তাহ থেকেই নিজের ডায়েটের প্রতি নিজেকেই যত্নশীল হতে হবে।

এই সময় আপনার শরীরে ফলিক অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন বি১২-এর মতোন উপাদানের চাহিদাও দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে প্রোটিন এবং ক্যালরির চাহিদাও। তাই এই সময় সঠিক পরিমানে এই উপাদান গুলি আপনার শরীরে পৌঁছানোর জন্য আপনাকে সঠিক খাদ্যগ্রহণ করতে হবে। ফলে এই সময় আপনাকে প্রচুর পরিমানে ফল, শাক-সব্জি, প্রোটিন জাতীয় খাওয়ার মাছ-ডিম এই গুলো পর্যাপ্ত ভাবে খেতে হবে। প্রেগনেন্সির প্রথম সপ্তাহেই হরমোন পরিবর্তনের জন্য গা গোলানো ভাব দেখা যায়। আর এই লক্ষণটি বদলানোর জন্য আপনাকে বারে বারে খাবার খেতে হবে। ফলে আপনি যখনই জানতে পারবেন, ঠিক তখন থেকেই খাদ্যের ব্যাপারে আপনাকে যত্নশীল হতে হবে।

২. গর্ভকালীন সময়ে মায়েদের মাঝে মধ্যেই নানা রকম জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ইচ্ছা হয়, এটি কতটা সঠিক এই সময়ের জন্য?

উ:- গর্ভকালীন অবস্থায় খুব মশালাযুক্ত ও তৈলাক্ত খাবারকে এড়িয়ে চলাই ভালো। এতে শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যাচ্ছে এবং তার সাথেই হজমের সমস্যাও হতে পারে এবং অপুষ্টিও দেখা দিতে পারে। তবে পছন্দের খাবার পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেও আপনার মধ্যে যে স্টেজ তৈরি হবে সেইটার প্রভাব আপনার সন্তানের মধ্যে পড়বে। তার জন্য আপনাকে অবশ্যই ব্যালেন্স করেই চলতে হবে। তবে যদি খুব মিষ্টি খেতে ইচ্ছে তখন কিসমিস, খেজুর, কলা এই জাতীয় ফল খেতে পারেন। আবার যদি কখনও নোনতা খাওয়ার ইচ্ছে হয় তবে বাদাম, কাজু,পেস্তাও খেতে পারেন। এই সময় বাইরে জাঙ্ক ফুডের থেকেও বাড়িতে তৈরী স্ন্যাক্স আপনি খেতেই পারেন। তার সাথে ড্রাই ফ্রুইট, লাড্ডুর মতোন খাবারও এই সময়ের জন্য ভালো। এছাড়াও বাড়িতে তৈরী ধোকলা, সোয়াবিনের কাটলেটও সামান্য স্বাদ বদলের ক্ষেত্রে খুব ভালো।

ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান মহুয়া শী-এর থেকে গর্ভকালীন ডায়েট চার্ট নিতে আজই বুক করুন তার সেশন, এই লিংকে/ বটনে ক্লিক করে- https://spark.live/consult/diet-and-nutrition-for-pregnant-women-with-mahoua-shee-bangla/

৩. গর্ভাবস্থায় থাকা শিশুটি যাতে সম্পূর্ণ পুষ্টি পায় তাই কি কি খাওয়ার পরামর্শ দেবেন?

উ:- গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় পাঁচটি ফুট গ্রুপের মধ্যে কিছু কিছু খাবার থাকতে হবে। যাতে তার খাদ্যতালিকায় পুষ্টিগত ব্যালেন্স তৈরী হয়। এই সময় বাড়ে বাড়ে অল্প অল্প খাবার খেতে হবে যাতে গা গোলানো, বমিভাব না থাকে। এছাড়াও বাদাম জাতীয় খাবার আপনি এই সময় খেতে পারেন।

এই সময় ক্যালসিয়াম জাতীয় খাবারের চাহিদা বেশী বেড়ে যাওয়ার কারণে ফল, শাক-সব্জি, দুধ, দই, ছানা প্রতিদিনের খাদ্যেতালিকায় রাখতে হবে। এমনকি ছোটো মাছ আপনি এই সময়ের জন্য ভীষণ ভালো। যা আপনার পুষ্টির চাহিদা পূরণ করবে।

আবার এই সময় প্রচুর পরিমানে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতোন সমস্যাও দেখা দেখা দেয় তাই প্রতিদিন দশ থেকে বারো গ্লাস জল খেতে হবে যাতে আপনার শরীরে জলের সঠিক মাত্রা বজায় থাকে। এছাড়াও আপনি ডাবের জল, লস্যি আপনার ডায়েটে রাখতে পারেন।

এই সময় শরীরে আয়রন জাতীয় খাবারের চাহিদা বেড়ে যায় তাই এই চাহিদা মেটাতে আয়রন জাতীয় খাবার- মাছ, মাংস, ডিম, শাক-সব্জি পর্যাপ্ত পরিমাণে এইগুলো খেতে হবে। এই সময় ক্যাফিন জাতীয় খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। তাই চা, কফি যতই না খাবেন ততই ভালো। খাবার খেতে কখনই জল খাবেন না। দুটো খাবারের মাঝে জল খাবেন। এছাড়াও পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালরি যুক্ত খাবার খেতে হবে। যাতে সেই ক্যালরি আপনার শরীরে বজায় থাকে ল্যাক্টোসেনের সময় যথেষ্ট পরিমানে কাজে লাগবে। তবে খুব বেশী পরিমাণে এই খাবার না খাওয়াই ভালো এতে ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থেকেই যায়।

ক্লিনিক্যাল ডায়টেশিয়ান মহুয়া শী-এর থেকে গর্ভকালীন ডায়েট চার্ট নিতে আজই বুক করুন তার সেশন, এই লিংকে/ বটনে ক্লিক করে- https://spark.live/consult/diet-and-nutrition-for-pregnant-women-with-mahoua-shee-bangla/

৪. এখন বেশিরভাগ মায়েরাই সি সেকশন ডেলিভারির দিকে ঝোঁকে, নরমাল ডেলিভারির জন্য কি কোনো ডায়েট চার্ট অনুসরণ করা যেতে পারে?

উ:- নরমাল ডেলিভারির জন্য কোনো রকম স্পেশাল ডায়েট ফলো করার প্রয়োজন নেই। নর্মাল ডেলিভারির জন্য যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার, টাটকা ফল, শাক-সব্জি প্রচুর পরিমানে খেতে হবে। এছাড়াও আয়রন, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাওয়ারও প্রচুর পরিমানে আপনাকে খেতে হবে। ফলে শরীরের পেশী যত শিথিল থাকতে নরমাল ডেলিভারির সম্ভবনাও তত বাড়বে। অনেকেই প্রেগনেনন্সির সময় শুয়ে বসে কাটিয়ে দেন এইটি কোনোভাবেই করা উচিত নয়। যদি আপনাকে চিকিৎসক বেড-রেস্টে থাকতে না বলেন বা আপনার কোনো জটিল সমস্যা না থাকে তবে আপনি নিজেকে সচল রাখুন। বাড়িতে হালকা কাজ করুন। এছাড়াও শরীরকে সুস্থ রাখতে এই সময় হালকা যোগাসন করতোই পারেন অবশ্যই ডক্টরের পরামর্শ নিয়েই। সকালে আপনি হাঁটতেও যেতে পারেন। এতে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে এবং নরমাল ডেলিভারির সম্ভাবনাও বেড়ে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।