জানেন, পুরাণ মতে, মা দুর্গার পাঁচদিনের পুজোয় লুকিয়ে আছে কি কি গুরুত্বপূর্ণ দিক? (What are the hidden aspects of Durga puja according to puranas?)

  • by

অতিমারী করোনার গ্রাসে প্রায় ছয় মাসের বেশি মানুষ গৃহবন্দী, সাথে অনেকেই হারিয়েছেন নিজেদের কাজ, অর্থ উপার্জনের মাধ্যম। জীবনের গতি অনেকটা মাত্রাতেই স্তব্ধ হয়েছে, যদিও আবার সব কিছু স্বাভাবিকের পথে এগোচ্ছে, কিন্তু আগের মতন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে এখনো অনেকটাই দেরি, তেমনি অর্থনৈতিক মন্দা কাটতেও বেশ ভালো সময় লাগবে বলেই জানাচ্ছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু যতই সমস্যা থাকুক না কেন, মায়ের আগমন কেউ আটকাতে পারবে না। বাংলায় দূর্গা পুজোর আনন্দ, জাকজমক একটু কমলেও, পুজোতে কোনো ছেদ পড়বে না। বাঙালির সবচাইতে বড় উৎসব কিন্তু হচ্ছে এই বছরেও।

পূজার বৈশিষ্ট্য –

রীতি মেনে দুর্গাপুজো চলে আসছে বহু সময় ধরে, পুজোর পাঁচটি দিন, যতই সমস্যা থাকুক না কেন, তা ভুলিয়ে পুজোর রেসে নিজেকে মাতিয়ে তুলতে বাঙালি শুধু নয়, অবাঙালিরাও পিছিয়ে থাকেন না। সকলের কাছে মা যে মমতাময়ী। তবে জানেন, দুর্গাপুজোর পাঁচটি দিনের আছে পাঁচটি পৃথক ও গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পুরাণ অনুসারে, প্রতিটি দিনের গুরুত্ব উল্লেখযোগ্য। পাঁচটি দিনে মায়ের ভিন্ন ভিন্ন শক্তির আরাধনা করা হয়, এবং সেই সকল পুজোতে আপনার অংশগ্রহণ সু-ভাগ্যের পথ খুলে দিতেও ভীষণ ভাবে সাহায্য করে। চলুন জানা যাক পাঁচটি দিনের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে –

১) মহাষষ্ঠী :

দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীতে মূলত মায়েরা, সন্তানদের কল্যাণ কামনা করে মা দুর্গার কাছে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করেন। ষষ্ঠী প্রতিটি মাসে একবার করে এলেও, দূর্গা-ষষ্ঠীর মাহাত্ম্য অনেক। দেবী দুর্গা যেহেতু সমগ্র বিশ্বের মা। তাই এই দূর্গা-ষষ্ঠীর দিনই সন্তানদের জন্য মায়েদের প্রার্থনা করার বিশেষ দিন হিসাবে ধরা হয়। কোথায় আছে, দিন মায়েরা ভক্তিভরে মা দুর্গার আরাধনা করলে, তাদের সন্তানদের উন্নতির পথে কোনো সমস্যায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনা। এছাড়াও পৌরাণিক আরও একটি কথা আছে। পুরাণ মতে, দেবী দুর্গা ও তাঁর সন্তানেরা এই দিনই মর্ত্যে পা রাখেন। কল্পারম্ভের পুজো দিয়ে শুরু হয় আচার। বোধন এবং অধিবাসের মাধ্যমে দেবী দুর্গার মূল পুজো শুরু হয়। কোথাও কোথাও অকাল বোধনের মাধ্যমেও শুরু হয় দেবী দুর্গার আরাধনা।

আরও পড়ুন-

২) মহাসপ্তমী :

এদিন কলা গাছের চারাকে গনেশের স্ত্রী কল্পনা করে সাজানো হয়। ভোর হওয়ার আগেই কলা বৌকে স্নান করিয়ে, লালপাড় সাদা শাড়ি পরিয়ে ভগবান গনেশের মূর্তির পাশে স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এদিনই দেবী দুর্গার নয়টি রুপের প্রতীক হিসেবে নয় ধরনের গাছ অর্থাৎ নবপত্রিকা একত্রিত করা হয়। মহা সপ্তমীর সকালে নিকটস্থ নদী বা জলাশয়ে নিয়ে গিয়ে নবপত্রিকাকে স্নান করানো হয়। নতুন শাড়ি পরিয়ে দেবী দুর্গার ডান দিকে নবপত্রিকাকে কাঠের সিংহাসনে বসানো হয়। আর এর মাধ্যমেই দুর্গোৎসবের মূল অনুষ্ঠানের সূচীত হয়। ধীরে ধীরে মাকে সাজিয়ে তোলা হয় মূল পুজোর জন্য। আপনি এই দিন পূজামণ্ডপে নবপত্রিকা পূজার সাথেই মায়ের নয়টি রূপের আরাধনা করুন। আবার নিজের বাড়িতেও নয়টি পাতা নিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে ঠাকুরের সিংহাসনের সামনে মায়ের নয়টি রূপ কল্পনা করে পুজো করতে পারেন, গৃহের শান্তি বজায় থাকে।

৩)মহাষ্টমী :

এদিনই পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে দেবী দুর্গাকে মনের বাসনা ব্যক্ত করা হয়। মহাষ্টমীর অঞ্জলি মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে, মা দুর্গার আরাধনা, ভীষণভাবে গুরুত্ব বহন করে। মাকে পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে,পাওয়া যায় আশীর্বাদ।মহাষ্টমীর দিন চামুণ্ডা রূপে দেবীকে পুজো করা হয়। এদিনই বিভিন্ন মন্দিরে চালকুমড়ো, চিনি বলি দেওয়ার রীতি চালু আছে।

এছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল- কুমারী পুজো। সাধারণত ১০ বছরের নীচে কন্যা সন্তানদের দেবীর আসনে বসিয়ে দেবী রুপেই এদিন পুজো করা হয়। পুরানে কথিত আছে, এক সময় স্বর্গ-মর্ত্যের অধিকার কায়েম করে কোলাসুর। তার অত্যাচারে বিপন্ন হয় দেবতা-কুল। আর এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে মহাকালীর শরণাপন্ন হন দেবগণ। তাঁদের আবেদনে সাড়া দিয়ে দেবী কালী কুমারী রূপে পুনর্জন্ম নেন। এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধের পর ওই কুমারীর হাতে কোলাসুরের নিধন হয়। এরপর থেকেই মর্ত্যে কুমারী পুজোর প্রচলন হয়।

আরও পড়ুন-

৪)মহানবমী :

পুরাণ মতে,অষ্টমীর শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী শুরুর ২৪ মিনিট অর্থাৎ মোট ৪৮ মিনিট সময়কে সন্ধিক্ষণ বলা হয়। আর এই সন্ধিক্ষণেই আয়োজিত হয় সন্ধি পুজো। এই সময়ই নাকি চিন্ময়ী দুর্গা পূজিতা হন মুণ্ডমালিনী চতুর্ভূজা চামুণ্ডারূপে। কারণ ঠিক ওই সময় দেবী দূর্গার ললাট থেকে জন্ম নেওয়া চামুণ্ডা, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভকে বধ করেছিলেন বলে পুরাণে বর্ণিত আছে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সন্ধিপুজোর রীতি বহু প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে।

৫) বিজয়া দশমী :

আশ্বিন মাসের শুক্লা পক্ষের দশমী তিথিতে কৈলাসে পাড়ি দেন দেবী দুর্গা। বিষাদের সুরেই সেইদিনে বিজয়া পালন করেন মর্ত্যবাসী। পুরাণে কথিত আছে, মহিষাসুরের সঙ্গে ৯ দিন ও ৯ রাত্রি যুদ্ধ করার পর দশম দিনে জয় লাভ করেন দেবী দুর্গা। সেই জয়কেই চিহ্নিত করে বিজয়া দশমী। আর তাই জন্যই বাঙালি বৌয়েরা নারী শক্তির জাগরণে সিদুঁর খেলায় মেতে ওঠেন। একে অপরকে মিষ্টিমুখ করিয়ে সেই জয় উদযাপন করা হয়। চলে কোলাকুলি।

মায়ের আগমন আমাদের সকলের জীবনে যেন আনন্দ, সুখ-সমৃদ্ধি আনতে পারে, সেটাই প্রার্থনা। সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং এর নিয়মনীতি মেনেই চলুক পাঁচটি দিনের উজ্জাপন। আর সাথে থাকুক Spark.Live । এই পুজোতেই আপনার ভাগ্যের মোড় ঠিক কোন দিকে ঘুরতে চলেছে, তার সম্পর্কে আগে থাকতেই অবগত হন, আমাদের জ্যোতিষী বিশেষজ্ঞের থেকে। পুজোর মধ্যেও নিজেকে আপটুডেট রাখতে সাথে কিন্তু রাখতেই হচ্ছে ভারতের নিজস্ব অ্যাপ Spark.Live

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।