শ্বশুরবাড়ির অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহসী পদক্ষেপ নেবেন কিভাবে? (What are the 5 things to do if you are tortured by your in-laws at home?)

  • by

বিয়ে উভয় পক্ষেরই সামাজিক এবং ধর্মীয় মাধ্যম। একটি নারী এবং একজন পুরুষের মাঝে সবচেয়ে শক্তিশালী বন্ধন হল বিয়ে। আর সেই বিয়েই যদি না টেকে? বর্তমানে কমবেশী সব মেয়েরাই কোনো না কোনো কারণে শ্বশুর বাড়ি দ্বারা অত্যাচারিত হয়ে আসছেন। বিশেষ করে ভারতের মতোন উন্নয়নশীল দেশেও বিবাহিত নারীদের প্রতি স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির সীমাহীন অত্যাচার উদ্বেজনক ভাবে বেড়েছে। ১০০ শতাংশের মধ্যে ৮৭ শতাংশ বিবাহিত মহিলারাই নানা কারণে শারীরিক ও মানসিক ভাবে নির্যাতনে শ্বশুর বাড়ি দ্বারা নির্যাতিত হয়ে আসছেন। বিয়ের পর থেকেই স্বামী অথবা শ্বশুর বাড়ির লোক যৌতুক এবং পণের দাবীতে মহিলারা নানাভাবে অত্যাচারীত হয়ে থাকেন।

আপনিও কি আপনার শ্বশুর বাড়ি সদস্যের দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছেন? এই অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচার জন্য রইল ৫টি টিপস্।

১) সহ্য করবেন না-

শ্বশুর বাড়িতে প্রতি মুহূর্তে অত্যাচারীত হন? সহ্য করে নেন, সব অত্যাচার? করবেন না। কারণ অন্যায় যে করে অন্যায় যে সহে দুজনেই সমান অপরাধী। এতে আপনার ক্ষতি সবচেয়ে বেশী হতে পারে। লজ্জার চোটে অনেকেই আছেন, যারা এই সমস্ত কথা বাইরে প্রকাশ করেন না। এতে অপরাধীরা আরও প্রশ্রয় পেতে পারে।

২)লজ্জা না পেয়ে সকলকে জানান-

আপনি যে দিনের পর দিন শ্বশুর বাড়ি দ্বারা অত্যাচারিত হচ্ছেন, তা আপনার নিকট আত্মীয় ও বন্ধু বান্ধবকে তৎক্ষনাৎই জানান। তাদের কাছে সাহায্য চান। এবিষয়ে তাদের সাথে বসে আলোচনা করুন। এইসময় তাদের ভালো পরামর্শ নেওয়াটাও খুব দরকার হয়ে পরে।

৩) আলোচনা করুন –

কিভাবে আপনি এর থেকে বেরবেন, এবিষয়ে আপনি আপনার নিকটস্থ আত্মীয় এবং পরিবারের সাথে বসে আলোচনা করুন। কখনই এই বিষয়টিকে চুপচাপ মেনে নেবেন না। এই সময় একটি মেয়ের তার পরিবারকে পাশে পাওয়া খুবই জরুরি।

৪) প্রতিবাদ করতে শিখুন-

এইরকম হলেই প্রথম থেকেই রুখে দাঁড়ান। পারলে আইনি ব্যবস্থা নিন এবং সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসুন। বর্তমানে ভারত সরকারের তরফে মেয়েদের পক্ষে বহু আইন তৈরী হয়েছে। ফলে আইনী ব্যবস্থা আপনাকেই নিতে হবে। দৃঢ়তার সাথে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কারোর শাসানিতে ভয় পেলে চলবে না। দিনের পর দিন এই রকম চলতে থাকলে আপনার নিকটবর্তী মহিলা কমিশনে অভিযোগ জানান। তাদের সমস্তটা খুলে বলুন। এরপরেই তারা আপনার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

৫) নিজের পায়ে দাঁড়ান –

এইসবের সাথে সাথে প্রথমেই দরকার নিজের অর্থসংস্থানের ব্যবস্থা করা। অনেকেই আছেন বিয়ের আগে চাকরি করলেও বিয়ের পর নানা কারণের জন্য সেই চাকরী ছেড়ে দেন এবং তারপর পুরোপুরিই স্বামীর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এই অবস্থায় আপনি দিনের পর দিন অত্যাচারিত হলেও একমাত্র আর্থিক কারণে আপনি কিছুতেই সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না। আর সেইমুহূর্তে বেরিয়ে আসলেও আপনি নানা সমস্যার সম্মুখীন হবেন। ফলে সবার আগে মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা খুবই দরকার।

কথায় আছে, যে অন্যায় করে তার থেকেও বড় অপরাধী যে অন্যায় সহ্য করে। সকলেই একটি সুখী দাম্পত্যের আশায় বিয়ে করেন, কিন্তু তা যদি নাও হয়, আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যা সমাধানের প্রচুর উপায় আছে, তার জন্য কেউ আপনার গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখে না। তাই নিজের সন্মান রক্ষাকর্তা আপনি নিজেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।