ভালো করে ঘুমোতে চাইছেন? জেনে নিন বিশেষ কিছু টিপস(Want to sleep well? Find out some special tips)

আজকাল আমরা সকলেই এক বড় সমস্যার সম্মুখীন হই তা হল অনিদ্রা বা ভালো করে ঘুম না হওয়া। এর পিছনে যদিও মূলত আমাদের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রা এক অন্যতম কারণ, কিন্তু দিনের পর দিন ঘুম ঠিক করে না হলে নানা রকম জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। আসুন একটু জেনে নেওয়া যাক কি কি নিয়ম ফলো করলে ভালো ঘুম হবে এবং শরীরও থাকবে ঝরঝরে।

শরীরে ক্লান্তি না থাকলে সহজে ঘুম আসবেনা

আপনি যদি সত্যি বিছানায় যাবার জন্য তৈরি হন তাহলে সহজেই ঘুম এসে যায়।তবে একজনের কাছে যা স্বাভাবিক ঘুমানোর সময়, অন্য কেউ কেউ সে সময়টায় ঘুমাতে পারেন না। যদি আপনার এই সমস্যা থাকে, তাহলে দিনের বেলা যত বেশি সম্ভব সময় প্রাকৃতিক আলোর মধ্যে কাটাতে চেষ্টা করুন, এবং সেটা শুরু করুন ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথেই। দিনের বেলা যথেষ্ট ব্যায়াম ঘুমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিছানায় যাবার আগের চার ঘণ্টার মধ্যে ব্যায়াম না করলেই ভালো। কারণ এর ফলে শরীরে যে এ্যাড্রিনালিন নি:সৃত হয় – তা হয়তো আপনাকে ঘুমোতে দেবে না।আপনি যদি ছোট্ট শিশু না হন এবং আপনার কম ঘুম হয়, এমন সমস্যা থাকে, তাহলে দিনের বেলা বিশেষ করে বিকেল ৪টার পর আর না ঘুমানোর চেষ্টা করুন। দুপুরে বেশি ঘুমিয়ে নিলে স্বভাবতই রাতে পর্যাপ্ত ঘুম আমাদের হয়না।

ঘুমের জন্য সেরা খাবার সময়

ভালো ঘুমের জন্য খাবার সঠিক হওয়া খুবই জরুরি। ঘুমানোর ঠিক আগে গুরুপাক, চিনিযুক্ত খাবার বা মদ্যপান করবেন না।প্র কৃতপক্ষে ভালো ঘুমের প্রক্রিয়া শুরু হয় বিছানায় যাবার সময়ের অনেক আগে। তাই ঘুমাতে যাবার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে থেকেই ক্যাফেইন আছে এমন কোন পানীয় পান করা বন্ধ করে দিন। ক্যাফেইন এমন এক জিনিস যা আপনার শরীরে থাকে অন্তত ৯ ঘণ্টা। কাজেই ভালো করে ঘুমাতে চাইলে দুপুর ১২টার পর থেকেই চা, কফি এবং কোক পেপসির মতো পানিও পান বন্ধ করুন। অনেকেই খালি পেটে ঘুমাতে পারেন না। তবে একেবারে ভরপেট খেয়ে বিছানায় গেলেও ঘুমের অসুবিধা হতে পারে।

কোন খাবার খেলে বেশি ঘুম হয় এটা অনেকেরই প্রশ্ন থাকে। যদি পারেন তাহলে ঘুমের সময়ের প্রায় চার ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিন। এবং তাতে ভারী গুরুপাক খাবার বা চিনি-যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। এতে ঘুম না হওয়া বা রাতে জেগে ওঠার সমস্যা কেটে যাবে। একথা ঠিক যে এ্যালকোহল বা মদ্যপান আপনাকে ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু আপনার সেই ঘুম খুব গভীর হবে না। তা ছাড়া মদ্যপানের ফলে শরীরে বেশি প্রস্রাব তৈরি হয়, তাই রাতে টয়লেটের জন্য ঘুম ভেঙে যাবার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন-শরীরের ক্ষতি না করে, সঠিক নিয়মে ওজন কমাবেন কিভাবে? (How to lose weight in good way? )

ঘুমোনোর আগে রিলাক্স করুন নিজেকে

রাতে বিছানায় শুতে যাবার আগে এমন একটা কিছু করুন যা আপনার দেহ ও মনকে চাপমুক্ত করবে। এটা আপনাকে প্রতিদিনই করতে হবে, যাতে এটা করলেই আপনার শরীর এবং মন্তিষ্ক বুঝে যায় যে ঘুমাোর সময় হয়েছে।এটা যে কোন কিছু হতে পারে। যেমন হালকা গরম পানিতে স্নান, মেডিটেশন বা ধ্যান করা, আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে কথা বলা, ডায়েরি লেখা, বই পড়া, বা আলো কমিয়ে দিয়ে গান শোনা।

জানেন কি ঘুমের সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যের সম্পর্ক

ঘুমের জন্য ঘরে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এর অর্থ এই নয় যে ঘুমের আগে আপনাকে স্নান করতে হবে বা দাঁত মাজতে হবে – যদিও এগুলো বেশ উপকারী। আসল কথা হচ্ছে, ঘুমের জন্য আদর্শ মুহূর্ত তৈরি করা। প্রতিদিন এক সময়ে ঘুমাতে যান, ঘুমের আগে উত্তেজক বা এ্যালকোহল পান এড়িয়ে চলুন, ঘরে ঘুমের পরিবেশ তৈরির দিকে নজর দিন। আমাদের বেডরুম হওয়া উচিত ঘুমের জায়গা, অন্য কিছুর নয়। যে ঘর অন্ধকার, অতিরিক্ত গরম নয়, জিনিসপত্রে ঠাসা নয়, যেখানে নানা যন্ত্রপাতি বা মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নেয় এমন কিছু নেই। ঘুমের এক ঘণ্টা আগে থেকে টিভি-স্মার্টফোন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এগুলো থেকে যে নীল আলো ছড়ায় তা আপনার মস্তিষ্ককে ঘুমোতে দেয় না।যদি আপনি রেডিওতে কিছু শোনেন তাহলে স্লিপ টাইমার ব্যবহার করুন যাতে এটা একটা নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন-দুর্গাপুজোয় আনন্দ করুন তবে স্বাস্থ্যের খেয়াল নিতে ভুলবেননা(Enjoy Durgapujo but don’t forget to take care of your health)

ঘুম আসার ব্যবস্থা করুন নিজেই

কম ঘুম হলে তা আপনার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বহু বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। রাতের পর রাত যদি পাঁচ ঘণ্টার কম ঘুম হয় – তাহলে হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক, বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ঘুম কম হলে তা আপনার আয়ুও কমিয়ে দেয়। প্রতিদিন একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং নিশ্চিত করুন যেন প্রতি রাতে আপনার সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম হয়। এর মানে হচ্ছে প্রতিদিন একই সময় ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠা এবং তা মেনে চলুন ছুটির দিনেও।

বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান শর্মিষ্ঠা রায় দত্তর মতে- “খাদ্যতালিকায় সারাদিনে আমন্ড,কাঠবাদাম,কাজুবাদাম রাখতে পারেন এতে মেলাটোনিন আছে এবং প্রয়োজনীয় মিনারেলস যেমন ম্যাগনেশিয়াম এবং জিঙ্ক আছে যা ঘুমের জন্য উপযোগী ভূমিকা পালন করে”

Spark.Live এর অন্যতম সেরা ডায়েটিশিয়ান শর্মিষ্ঠা রায় দত্ত

শ্রীমতি শর্মিষ্ঠা রায় দত্ত একজন প্রথিতযশা এবং অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান। বিগত ৭ বছর ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একজন সুদক্ষ নিউট্রিশানিস্ট হিসেবে ফুড সেক্টর (Abbott, Nestle) এবং ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিতে (Roch, Cipla) তে কাজ করেছেন, এছাড়াও তিনি Colombia Asia Hospital এবং Dr Mohon’s Diabetics Speciality Centre এ একজন কনসালটেন্ট ডায়েটিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।Narayana Hospital Barasat এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে তিনি একটি মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত সুদক্ষ ডায়েটিশিয়ান হিসেবে। ডায়েটিশিয়ান শর্মিষ্ঠা প্রত্যেকটি মানুষের সমস্যা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক ডায়েট চার্ট প্রদান করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ওনার ফিটনেস ট্রেনিংয়ের অভিজ্ঞতার সাহায্যে এক্সসারসাইজ নির্দেশ করেন।

ডায়েটিশিয়ান শর্মিষ্ঠা রায় দত্তের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্যে লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/lose-weight-in-30-days-with-dietician-sharmistha-roy-dutta-bangla

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।