ওজন বাড়াতে চাইছেন? দেখে নিন কিছু সঠিক উপায় (Want to gain weight? Take a look at some of the right ways)

গোটা বিশ্ব জুড়ে এখন রোগা হবার অভিযান, কিন্তু আজ আমরা ঠিক উল্টো দিকে। কিছু কিছু মানুষ বেশ উপকৃত হবেন, কারণ অনেকেই আছেন যারা ওজন বাড়াতে চান। যারা প্রয়োজনের তুলনায় খুব বেশি মাত্রায় রোগা। প্রয়োজনের তুলনায় শরীর অতিরিক্ত রোগা, শুকনো হলে, দেখতে খুবই খারাপ লাগে। সব ধরণের পোশাকও যেন মানায় না। তাঁদের জন্য বলি, আর মন খারাপ নয়, আপনার সমস্যার সমাধান আছে আমাদের কাছে।

১. সঠিক ডায়েট প্ল্যান জরুরি

আপনি হয়তো অতিরিক্ত পরিমানে খাচ্ছেন একটু যাতে শরীরে লাগে মোটা হতে পারি এই ভেবে। কিন্তু কিছুই কাজ হচ্ছে না, এর কারণ হল আপনি সঠিক সময় সঠিক খাবার খাচ্ছেন না। যেমন, সকালে খেতে হবে বাদাম আর কিশমিশ জাতীয় ড্রাই ফ্রুইটস। কাঠ বাদাম হলে ভালো হয়, কাঠ বাদাম ও কিশমিশ আগের দিন ভিজিয়ে রাখুন। সকালে দাঁত মেজে খালি পেটেই খেয়ে নিন। এটা রোজের রুটিন করে নিন।

তার সাথে সাথে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াও জরুরি,যেমন- শাক-সবজি, ফল, সেই সঙ্গে ছানা। ডিম বেশী করে খেতে হবে। এগুলোতে ফ্যাট ও প্রোটিন থাকে। সবজির মধ্যে আলু, কুমড়ো এসব বেশী খেলে ভালো। রাত্রে শুতে যাবার ঠিক আগে দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খান। এতেও খুব ভালো কাজ হয়। ঠিক ঘুমোবার আগেই একটা পুষ্টিকর খাবার খেলে খুব ভালো।

Spark.Live এ রয়েছেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান সঙ্গীতা লাহিড়ী, ওনার সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশন করে ওজনের সমস্যার সমাধান করে ফেলুন-https://spark.live/consult/food-and-nutrition-counseling-by-dietician-sangeeta-lahiri-bangla

২. বার বার করে খাওয়াটা ভুল

কি ভাবছেন, বার বার খেলে ওজন বাড়বে? তা কিন্তু একদমই নয়, বরং উল্টোটা হবে। বার বার একটু একটু করে নয়, যখন খাবেন বেশী করে খান পেট ভর্তি করে খান। পেট পুরে খেলে শরীরে মেটাবোলিজম কমবে। যেটা মোটা হবার প্রথম শর্ত। আর ওজন খুব কম হলে, খাবারের পরিমাণ তো একটু বাড়াতেই হবে। যারা বাড়িতে থাকেন, তাঁরা দুপুরে খাওয়ার পর, ১ঘণ্টা একটু ঘুমিয়ে নিন। যতদিন না ওজন বাড়ছে। এতেও কিছুটা বাড়বে। আর সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে থাকবেন না। একঘণ্টার মধ্যেই ব্রেকফাস্ট করুন।

আরও পড়ুন-ওজন কমানোর জন্য সঠিক ডায়েট হল অন্যতম সহজ পথ (Proper diet is one of the easiest ways to lose weight)

৩. মোটা হতে গেলেও কিন্তু ব্যায়াম করতে হবে

স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে মোটা হতে চান নিশ্চয়ই তাহলে ব্যায়াম করুন, জিমে যান। জানেন কি কিছু কিছু ব্যায়াম আছে যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন পুশ আপ, ডাম্বল শোল্ডার, যোগাসন, জগিং, বেঞ্চ প্রেস ইত্যাদি। এগুলো রোজ না হলেও সপ্তাহে অন্তত তিনদিন করুন। সুগঠিত পেশীর জন্য এটা দরকার। জিমে গেলে, জিম ট্রেনার আপনাকে সঠিক ট্রেনিং দিয়ে দেবে।

সেটা না হলে বাড়িতেই করুন। ব্যায়াম করার পর খিদেও পাবে। বেশী করে খেতে পারবেন। ব্যায়াম করার একঘণ্টা আগে হালকা ব্রেকফাস্ট করে নিন। আর একটু ভারী ব্রেকফাস্ট চাইলে তিন ঘণ্টা আগে করুন। খেতে পারেন টোস্ট, ডিম সেদ্ধ, এক গ্লাস দুধ বা এক বাটি ওটস।

৪. প্রোটিন ক্যালোরি প্রয়োজন বেশি মাত্রায়

ওজন বাড়াতে চাইলে খাবারের তালিকায় বেশী করে প্রোটিন, ক্যালোরি যেন থাকে সেটা মাথায় রাখতে হবে। এর জন্য বেশী করে বাদাম, ফল, মাংস, মাখন,পনির এগুলি খেতে হবে। বিশেষত কাঠ বা কাজু বাদাম খুব ভালো ওজন বাড়াতে সহায়তা করে। দুপুরে ভাত, তরকারী, ডাল, দই মাছ বা মাংস। ভাত খাওয়া সম্ভব না হলে রুটি চলতে পারে, কিন্তু কার্বোহাইড্রেটের পরিমান কমালে চলবেনা। সন্ধেবেলাও পেট খালি রাখবেন না, এক গ্লাস দুধ বা স্যাণ্ডউইচ খাওয়া যেতে পারে। আর রাতে দুপুরের মতই খাবার খেতে হবে। এছাড়াও যতদিন না ওজন বাড়ে, বাড়িতে তৈরি তেলে ভাজা খাবার খেতে পারেন। তবে খুব বেশী না কারণ ওজন বাড়াতে গিয়ে হজমের গন্ডগোল হলে কিন্তু আরেক মুশকিল।

৫. ফাস্ট ফুড খাওয়া চলবেনা

ওজন বাড়াতে খুব ফাস্ট ফুড খাছেন? কিন্তু জানেন কি এটা শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছে। শরীরে খারাপ ফ্যাটের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। চর্বি বেড়ে যায়, তাই শরীরের ক্ষতি করে নয়, স্বাস্থ্যসম্মত ভাবে ওজন বাড়ান। তাই রাস্তার ফাস্ট ফুড কম খান। তবে মাঝে মাঝে খাওয়া যেতে পারে। তবে খুব বেশী না।

তাহলে এখন রোগা বলে আর মন খারাপ নয়, এখন থেকেই এই নিয়মগুলো মেনে খাওয়া শুরু করুন। রোগা নিয়ে অযথা টেনশন করবেন না। এগুলো নিয়মিত করুন এবং যেটা সব থেকে জরুরি একদম বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে নিন। তাহলে দেখবেন প্রয়োজন মতো ওজন সহজে বাড়বেও আবার শরীরও একদম ফিট এন্ড ফাইন থাকবে।

Spark.Live এ রয়েছেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান অয়ন্তিকা দাস ঘোষাল, ওনার সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশন করে ওজনের সমস্যার সমাধান করে ফেলুন-https://spark.live/consult/weight-loss-through-diet-consultation-with-ayantika-das-ghosal-bangla

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।