ভিটামিন ই ক্যাপসুল দিয়ে স্কিনকে করে তুলুন গ্লোইং (Vitamin e capsule for face)

  • by

মুখে বাড়তি বয়সের ছাপ, সময়ের সাথে সাথেই চোখের পাশের ভাঁজগুলি সুস্পষ্ট হয়ে উঠছে, বুড়িয়ে যাচ্ছে চামড়া- এই তো এখন যে কোন ত্রিশ উর্ধ মহিলাদের চিন্তার বিষয়. কারণ ত্রিশের আগে পর্যন্ত যাই হোক মেয়েদের চামড়ায় খুব ভাবে থাবা বসাতে পারে না বয়সের ছাপ. কিন্তু বয়োসটির দন্ডি পেরোলেই ত্বকের প্রতি সামান্য অযত্নও কিন্তু আপনাকে বিপদে ফেলতে পারে. তারপর তো কাজের চাপ, স্ট্রেস দূষিত পরিবেশ আছেই আমাদের ত্বকের সর্বনাশ করার জন্য.
কিন্তু এসবকিছুর নিরাময় সম্ভব, যদি একটু সচেতন হয় যায়, আমাদের স্কিনের কি চাই সেটা জানতে পারলে. আমাদের শরীরে যেমন পুষ্টি জোগানোর খাদ্য আছে, ঠিক তেমনি স্কিনের পুষ্টি জোগায় ভিটামিন ই ক্যাপসুল. না না, বলছি না, যে খাবার স্কিনের পুষ্টি জোগায় না, কিন্তু পর্যাপ্ত নয়. তাই ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ব্যবহার মাস্ট.

কি কি ভাবে উপকার করে ভিটামিন ই ক্যাপসুল, আর তার ব্যবহার পদ্ধতিই বা কি? সবটাই জানাবো আপনাদের.
বিশেষজ্ঞদের মোতে ভিটামিন ই ক্যাপ্সুল শুধু যে স্কিন তা নয়, চুলকেও একইভাবে পুষ্টি জোগায়. স্বাস্থ্যোজ্বল করে তোলে.

১. বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না

প্রথমেই যেটা বললাম, বয়সের ছাপ একেবারেই পড়তে দেয় না, ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নিয়মিত ব্যবহার. সূর্যের ইউভি রশ্মি, ধোয়া, ধুলো, দূষণ আমাদের স্কিনে একটি বাজে প্রভাব ফেলে অনবরত, ফলে চামড়া কুঁচকাতে শুরু করে. আবার অনেক সময় মুখে ঠিক চোখের পাশে কালো স্পট হতে ডেকে যায়, সবটাই বয়সের ছাপ পড়ার লক্ষণ.
রিসার্চে দেখা গেছে, মাত্র দুই সপ্তাহের নিয়মিত ব্যবহারে মুখের বয়সের দাগ উধাও করে দেয় ভিটামিনই ই ক্যাপসুল. কিছুই না রাতে শোয়ার আগে নিজের ময়শ্চারাইজারের সাথে একটি ভিটামিন ই ক্যাপসুলের ভিতরের জেলটি মিশিয়ে লাগান মুখে. বিশেষ করে মুখের ড্যামেজেড জায়গাগুলিতে. আর নিজেই ফল দেখুন.

২. স্কিনের ন্যাচারাল ময়শ্চার

বিশেষ করে ড্যামেজেড আর ড্রাই স্কিনের কাছে এটি আশ্চর্য প্রদীপ. ম্যাজিকের মতো কাজ করে স্কিনের হারানো ময়শ্চার ফিরিয়ে আনতে. স্কিনকে ভিতর থেকে সরিয়ে তোলে, স্কিন রীতিমতো গ্লো করে. এমনকি শীতের সময় স্নানের কিছুক্ষন আগে কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিমাণমতো ভিটামিন ই ক্যাপসুলের নির্যাস নিয়ে সারা শরীরে এমনকি মুখে ভালো করে লাগিয়ে ম্যাসাজ করুন.

৩. সানবার্ন মেটাতে

এখন কলকাতা সহ চারিদিকে যা গরম পরে, তাতে তো সকলেরই যায় যায় পরিস্থিতি. তবে কাজে তো বেরোতেই হয়, তাই প্রখর রোদকে মাথায় নিয়েই সকলে বেরোয় কাজে. আর তাতেই আমাদের মুখে ফুটে ওঠে সানবার্ন. কালো কালো ছোপ বা লালচে ছোপে ভোরে যায় মুখটি. কারণ সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি আমাদের স্কিনের টিসুগুলি ভিতর থেকে পুড়িয়ে ফেলে. বাজারচলতি হাজারটি ক্রিম লাগিয়েও সুরাহা মেলে না. সেই সানবার্নকে মাত্র এক মাসের পরিচর্যায় উধাও করে দেয় এই ক্যাপসুল. কেননা ভিটামিন ই ক্যাপসুলের মধ্যে থাকে পর্যাপ্ত পরিমানে আন্টি- অক্সিডেন্ট, যা টিসু রিগ্র্যথ করতে সাহায্য করে.

৪. ক্লিনজিং হিসেবে ব্যবহার করুন

প্রতিদিনের ত্বকচর্চায় রাখুন এটিকে. এই যেমন কোনো হাল্ক বা ভারী মেকাপ রিমুভের জন্য নারকেল তেলের সাথে মিশিয়ে দিন একটি বা দুটি ক্যাপসুল. তারপর কোনো যতনে নিয়ে আল্টো করে মুখে বলেন, সব মেকাপ উঠে যাবে.

৫. সিরাম বানিয়ে ব্যবহার করুন

একইভাবে সিরাম বানিয়ে একটি কাঁচের বোতলে রেখে দিতে পারেন. তিন চামচ নারকেল তেলের সাথে চার থেকে পাঁচটা ক্যাপসুল দিয়ে, ভালো করে মেশান. তার সাথে দিন সামান্য এলোভেরা জেল. এই ক্ষেত্রে বাজারচলতি ভালো কোনো জেল ব্যবহার করুন. আর দিতে পারেন একটু কেশর, যদিও এটা অপশনাল. এরপর ভালো করে উপাদানগুলোকে মেশান. কেশর দিলে একটা হালকা গোলাপি মতো ক্রিম তৈরী হবে. এটিকে প্রতিদিন রাতে শোয়ার আগে, ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে লাগান, সামান্য ম্যাসাজ করুন. সারা রাত রেখে দিন. আর সকালে মুখ ধুয়ে নিন.

৬. ফেস প্যাক

প্রতি উইকেন্ডে কাঁচা হলুদ বাটা, সামান্য এলোভেরা জেল, মধু আর ক্যাপসুলের নির্যাস দিয়ে বানান একটি ফেস প্যাক. তবে কুনুই বা হাতে পায়ে গায়েও লাগাতে পারেন. শুকিয়ে গেলে ভালো করে বডি ওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেলুন. স্কিন উজ্বল দেখাবে.

তাই বলবো আর দেরি নয়. এখনো সময় আছে. আর হাতের সামনেই রয়েছে জিনিসপত্র. শুধু কোনো দোকান থেকে কিনে আনুন ভিটামিন ই ক্যাপসুল, আর বেশ নিজের স্কিনকে আবার যৌবনের ছোওয়া দিতে হয়ে যান প্রস্তুত.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।