জ্যোতিষ মতে বিবাহের ক্ষেত্রে হবু স্বামী স্ত্রীয়ের জন্মপত্রিকা ম্যাচ কতটা প্রয়োজনীয়? ( The Significance of kundali matching before marriage)

লাভ ম্যারেজ সোনাই আর প্রীতমের, এক বছর দু বছরের সম্পর্ক নয়, তাদের বিয়ের আগের আর পরের মিলিয়ে একসাথে পথ চলা দীর্ঘ ১২ বছরের। বিয়ের আগে প্রেম পর্ব ৮ বছর। এরই মধ্যে কাজ পাওয়া, সাথে একটু ভালো মত গুছিয়ে -গাছিয়ে নেওয়া, তারপর ফাইনালি বিয়ে। তবে বিয়েটা হয়েছিল কিন্তু একটু অমতে, মানে সোনাইয়ের মত পড়াশোনায় ভালো, চাকুরিরতা, বাড়ির কাজে নিপুন মেয়েকে বাড়ির বৌ করে আনতে প্রীতমের মা বাবার কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু অন্যদিকে সোনাইয়ের পরিবারের কিছুটা অমত ছিল। প্রীতমের কাজ, ভালো মাইনে- সবটাই ঠিকঠাক কিন্তু বিয়ের জন্য জন্মপত্রিকার ম্যাচ করানোর ক্ষেত্রে একেবারেই আগ্রহী ছিল না ছেলের পরিবার।

প্রীতমের কথায়, আট বছর একসাথে কাটিয়ে দেওয়ার পর, দুজনের জন্মপত্রিকা ম্যাচ করছে কি না, সেটা না জানলেও চলে। তাও, সোনাইয়ের বাবার কথায়, প্রীতম রাজি তো হল কিন্তু দুটি জন্মপত্রিকার ভালো ম্যাচ এল না। ৩৬ টি গুনের মধ্যে ২০ টি গুনের মিল পাওয়া গেল, আপাতদৃষ্টিতে তো যে কেউ বলবে ভালো ম্যাচ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ জ্যোতিষী বিশ্লেষণের পর জানা গেল, বিয়ের পর খুব ভালো সম্পর্ক থাকবে না তাদের। অশান্তি লেগে থাকবে। আবার বাচ্চা ধারণ করার ক্ষেত্রেও কিছুটা সমস্যা আছে। আমতা আমতা থাকলেও শেষমেশ বিয়েতে রাজি হয়ে যায় সোনাইয়ের পরিবার। কারণ প্রেমের আগে কার কি কথা চলে? বিশ্বাস করুন জ্যোতিষীর তত্ব নিয়ে মনের কোনো স্থানেই কোনো সংশয়, ভয় ছিল না দুইজনের।

এতো পর্যন্ত তো সব ঠিকই ছিল। বিয়ের পর বেশ ভালো ছিল নব দম্পতি। সোনাইয়ের শ্বশুর শাশুড়ি নিয়েও কোন সমস্যা নেই। চাকরিটাও আগের মতোই করছে। কিন্তু সমস্যাটি দাঁড়ালো প্রীতমের পরিবর্তিত ব্যবহার নিয়ে। তিন বছর যেতে না যেতেই, সোনাইয়ের কেমন যেন মনে হতে থাকে, প্রীতম আর আগের মত তার প্রতি আকৃষ্ট নয়। এমনকি আগে যে প্রীতম, তাকে ঘন ঘন ফোন করত, সে এখন দিনে একবার ফোন করতেও বিরক্ত বোধ করে। আবার সোনাই বাবার বাড়ি গিয়ে থাকলেও, প্রীতম খুব একটা খঁজে খবর নেয় না।

সোনাই ভাবলো, হয়তো তাদের মাঝে তাদের সন্তান এলে, এই অস্পষ্ট দূরত্বটা বুঝি কমবে। কিন্তু তাতেও তৈরী হল বাধা। বহু চেষ্টা করেও, গর্ভবতী হয়ে উঠতে পারছিল না সোনাই। জানা গেল, স্বামী-স্ত্রী দুইজনেরই কিছু সমস্যা থাকায়, বাচ্চা নিতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। এরপর কিন্তু, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ সাথে শ্বশুর- শাশুড়ি ও বরের চরিত্রের মধ্যেও আমূল পরিবর্তন দেখল সোনাই। উঠতে বসতে বাঁকা কথা, সাথে প্রীতমের অবহেলা সবই বড় অসহ্য হয়ে উঠছিল। কিন্তু এটা যে ছিল লাভ ম্যারেজ, তাই দাঁতে দাঁত চিপে পড়েছিল মেয়েটি।

এর মধ্যেই হঠাৎ সোনাই আবিষ্কার করল- প্রীতম বেশ দেরি করে বাড়ি ফিরছে কাজ থেকে, এমনকি শনি, রবিবারও বাড়ি থাকছে না। আর ইদানিং ফোন ঘাটাঘাটি সাথে নিচু আলতো নরম স্বরে কথা বলাটাও বেশ বেড়েছে। ডিনার সেরে তাড়াতাড়ি ব্যালকনিতে গিয়ে ফোনে কথা বলাটাও চোখে পড়ছে। এরপর প্রীতমের ফোনে এক নতুন মহিলা কলিগের সাথে প্রেমমূলক চ্যাট – পুরো চিত্রটাই পরিষ্কার করে দিল সোনাইয়ের সামনে। মেয়েটি ভাবতেই পারছে না, যে ছেলেটি তার প্রেমে পাগল ছিল, তার সাথে সময় কাটাতে মরিয়া ছিল, আট বছর একসাথে চলা, আর বিয়ের চার বছরের মাথাতেই সবটাই পাল্টে গেল? নিমেষে মনে হল- তার চোখের সামনে এতটা অন্ধকার নেমে আসছে, যেন জীবন বুঝি বেঁচে থাকার সব মায়াই ত্যাগ করেছে।

সোনাইকে খুব ভাবে ভাবাতে লাগল, জ্যোতিষী বিশ্লেষণের কথা। বিয়ের আগে কোন গুরুত্বই দিয়েছিল না কুন্ডলি ম্যাচের ক্ষেত্রে। তখন বার বার সতর্ক হতে বলেছিলেন অভিজ্ঞ জ্যোতিষী, এমনকি বিয়েতে নাছোড়বান্দা জেনে, কিছু উপাচারের কথাও বলেছিলেন ওই জ্যোতিষী, কিন্তু তখন কোনোটাতেই কর্ণপাত করেনি সোনাই। ওই রাতেই বাবার বাড়ি চলে আসে, সোনাই আর প্রথম খোঁজ করে ওই জ্যোতিষীর।

না, বিয়েটা টেকেনি। প্রীতম ক্ষমাও চায়নি, সে নতুনভাবে ঘর বেঁধেছে ওই নতুন কলিগের সাথে। আর সোনাই, হ্যাঁ, প্রীতমের বিয়ের তিন বছর পর, সেও নিজের পছন্দের পাত্রের সাথে বিয়ে করেছে। তবে এইবার আর আগের ভুল করেনি, রীতিমতো জন্মপত্রিকা মিলিয়ে দোষ গুন্ বিচার করে বিয়ের পিঁড়িতে উঠেছিল। আর বছর ঘুরতেই, জানতে পারলো, সে মা হতে চলেছে।

এই ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে Sprak.Live- কারণ এখানে একটি ক্লিকের মাধ্যমেই আপনি পেয়ে যাবেন একাধিক বিখ্যাত, স্বনামধন্য আর অভিজ্ঞ জ্যোতিষদের। যারা আপনাকে সাহায্য করতে সদা প্রস্তুত।

এই গল্পটি কিন্তু একটি সত্য ঘটনার মুখপত্র। আর আমাদের চারপাশে চোখ রাখলেও, এইরকম ঘটনার হদিশ কম মেলে না। লাভ ম্যারেজ বা দেখাশুনা করে বিয়ে যাই হোক না কেন, জ্যোতিষমতে, স্বামী-স্ত্রীয়ের জন্মপত্রিকা ম্যাচ কিন্তু ভীষণ প্রয়োজন। কারণ এক একটি মানুষের রাশি, লগ্ন, জন্ম সময়, জন্মস্থান সাথে নক্ষত্রের অবস্থানের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করেই বোঝা যায়, তার চরিত্র সাথে পছন্দ, অপছন্দ। সে কতটা বদরাগী, বা কতটা শান্তি প্রিয়, বা তার সাথে দাম্পত্য জীবন, যৌন জীবন কতটা সুখকর, তা কিন্তু কুন্ডলি ম্যাচের মাধ্যমেই পুরোটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

অভিজ্ঞ জ্যোতিষদের মতে, হতেই পারে যে কুন্ডলি ম্যাচে আপনার গুন্ মিলল ২০ বা ২৩ তার মানেই কিন্তু এই নয়, যে আপনার জন্য সেই মানুষটি শ্রেয়। কারণ এর মধ্যে থাকা বিভাগগুলির নির্ধারিত সংখ্যাতত্বের সাথেও আপনার নির্দিষ্ট পরিমান মিল প্রয়োজন। আর সেটির বিচার বিশ্লেষণ কিন্তু একমাত্র করতে পারেন একজন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জ্যোতিষী।

এই ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে Sprak.Live- কারণ এখানে একটি ক্লিকের মাধ্যমেই আপনি পেয়ে যাবেন একাধিক বিখ্যাত, স্বনামধন্য আর অভিজ্ঞ জ্যোতিষদের। যারা আপনাকে সাহায্য করতে সদা প্রস্তুত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।