করোনা ভাইরাস নিয়ে আতংকিত না হয়ে, জেনে নিন এর কারণ ও প্রতিকার (Symptoms & Precautions Of Coronavirus)

  • by

এই মুহূর্তের হিট টপিকই হল করোনাভাইরাস। মোটামুটি চীনের অধিকাংশ স্থানে এর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই, ভারতেও কিন্তু এর প্রভাব এখন চোখে পড়ছে, যা ইতিমধ্যেই সকলের কাছে, আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানেন এই রোগের কারণ কি? বা এর প্রতিকার আছে কি না? করোনা ভাইরাসের খুঁটিনাটি জানার জন্য চোখ বুলিয়ে নিন এই তথ্য গুলিতে।

কোরোনাভাইরাস কি?

বিশেষজ্ঞ ও গবেষকদের মতে, এটি একটি ফ্ল্যাবিও ভাইরাস, যা দ্রুত সংক্রামিত হয়। যার ফলে, কেউ যদি আক্রান্ত হন, তার থেকে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই। এই ভাইরাস প্রথম নজরে আসে চিনের ইউহানে। মূলত শোনা যাচ্ছে, ইউহানের মাছের বাজার থেকে ছড়ায় এই ভাইরাস, তারপর থেকে হাওয়ার বেগের মতো ছড়িয়ে পড়ছে, চারিদিকে।

কিভাবে ছড়ায়?

মূলত এটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা তাদের বেশি- যারা পশু পাখির সন্নিগ্ধ্যে বেশি সময় থাকেন। সে বাড়ির গবাদি পশুই হোক, আর রাস্তার সারমেয়। তাদের মূল মূত্র এমনকি লোম থেকে এই ভাইরাস বেশি ছড়াচ্ছে। তাই নিজের পোষ্যদের ভালো ভাবে দেখভাল আর সাথে রাস্তার সারমেয়দের সান্নিগ্ধ্যে না যাওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

কোন বয়সে হতে পারে ও লক্ষণ-

যে কোনও বয়সীর শরীরেই হানা দিতে পারে এই করোনাভাইরাস। একেবারে সদ্যোজাত থেকে বয়স্ক সকলেরই এই ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। আবার যাদের ইমিউনি সিস্টেম মানে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অন্যান্যদের তুলনায় কম, তাদের কাছে এই ভাইরাস মহামারী রূপ ধারণ করতে পারে। যাদের সারাবছরই সর্দি কাশি লেগেই থাকে, মাঝে মধ্যেই জ্বর হয়, ঋতু পরিবর্তন হলেই কাহিল হয়ে পড়েন, নানা জটিলতায়, তাদের জন্য করোনা ভাইরাস সত্যি ভয়ের বিষয়। প্রাথমিকভাবে সর্দি, কাশি থেকে নিউমোনিয়া। সঙ্গে প্রবল জ্বর, শ্বাসকষ্ট- এটিই এর প্রধান লক্ষণ।

কি কি সাবধানতা রাখবেন-

কিছু সাবধানতা কিন্তু আপনি বাড়িতে বসেই যদি রাখেন, তো এই সমস্যা কিছুটা হলেও এড়ানো সম্ভব হবে। দেখে নিন, বাড়িতেই কি কি সাবধানতা রাখবেন?

১) সামান্য সর্দি কাশি হলেই, সেটির অবহেলা করবেন না । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যদি জ্বর আসে, তা যদি একদিনে না কমে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিন।

২) সর্দি যাতে না হয়, তার জন্য তুলসী পাতার রসের সাথে মধু মিশিয়ে খান প্রতি সকালে। ঠান্ডা লাগতে পারে এমন আশঙ্কা তৈরি হলেই গরম জলে তুলসী পাতা ফেলে গার্গল করুন।

৩) মধু প্রাকৃতিক ভাবেই শ্লেষ্মাজনিত অসুখের জন্য ভিলেনের মতো কাজ করে। প্রিতিদিন সকালে খালি পেটে সামান্য উষ্ণ জলে পাতিলেবুর রস, সাথে দারুচিনির গুঁড়ো আর মধু দিয়ে খান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

৪) সকাল সন্ধ্যে চা খাওয়ার সময়ে তাতে অদা কুচি দিয়ে ফুটিয়ে খান। আর যেটি বলার, অবশ্যই মাস্ক পরে, বাড়ির বাইরে এমনকি পোষ্যের কাজ করার সময় পড়ুন। পারলে হাতে গ্লাফস পরে কাজ করুন। বাইরের খাবার এই মুহূর্তে না খাওয়াই ভালো।

৫) শীতকালেও এখন বৃষ্টির ঘনঘটা অব্যাহত। কিন্তু এই বৃষ্টিতে যতটা পারবেন না ভেজার চেষ্টা করুন। আর ভিজলেও, বাড়িতে এসে, তাড়াতাড়ি সামান্য গরম জলে স্নান করে নিন, কোনোভাবেই যাতে ঠান্ডাটা আপনার শরীরে বসতে না পারে।

এইভাবে নিজেকে এবং পরিবারের সকলকে বিশেষ করে বাড়ির খুদেদের যত্ন যদি বিশেষ মাত্রায় নিতে থাকেন, আশা করি করোনা আপনাদের শরীরে থাবা বসাতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।