শুধুমাত্র বরের উপার্জনই কি একটি সফল বিবাহিত জীবনের চাবিকাঠি? (Strength of a marriage depends on the husband’s income?)

  • by

বিয়ের দেখাশোনার সময়, বরের ইনকাম কত তা জানতে আমরা বিন্দুমাত্র লজ্জা বোধ করিনা। কিন্তু অপরপক্ষে মেয়ে চাকুরীরত হলে, তার উপার্জনই বা কত, তা জানার চেষ্টা খুব একটা কেউ করে না, কেন? কারণটা জানেন? কারণ আমাদের সেকেলে মানসিকতা অনুসারে বিয়ের পর একজন পুরুষের উপার্জনই কিনা মাপকাঠি আপনার বৈবাহিক জীবনে কতটা সুখ থাকবে? অর্থাৎ বরের যত ভালো চাকুরী, তত ভালো তার বৈবাহিক জীবন। অনেকটা অযৌক্তিক কথা। কারণ আপনি বিয়ের পরে সুখী থাকবেন না দুঃখী তা কিছুটা আপনার আর্থিক স্বচ্ছলতা নির্ভর করলেও, পুরোটাই নির্ভর করে না।

অন্যদিকে, পাত্রী বা বউও যদি ইনকাম করেন, একটি সুখী বৈবাহিক জীবন কতটা তার উপার্জনও কেন ধরা হবে না। সমান সমান যখন আমরা, তাহলে অন্য বিষয়গুলিও নিজের ইনকাম অনুসারে সমান সমান ভাগ করে নেওয়াটাই তো শ্রেয়।

তো চলুন একসাথেই ভাবা যাক সফল বিবাহিত জীবন পেতে পুরুষের উপার্জন কতটা গুরুত্বপূর্ণ-

১। স্বামী স্ত্রীয়ের মধ্যে যদি দুইজনেই একই মানের চাকরি করেন, এবং দুজনেই একই সংখ্যার স্যালারি পান, তাহলেও কিন্তু পুরুষের স্যালারির পারলে পুরোটাই সংসারে ইনভেস্ট হবে। কারণ সেটি নাকি তার কর্তব্যের মধ্যে পরে। কিন্তু মহিলার স্যালারির বেশ কিছুটা বংশ শুধুই সেভিংস এবং বাড়তি কিছু খরচ, বা নিজের রূপচর্চা, বা আনুষাঙ্গিক কিছুতে খরচ হবে। সংসারে দিতেই হবে, এমনটা নেই বলবো না, কিন্তু তার সংখ্যা কম।

২। যদি স্ত্রী ভালো মানের চাকরি করেন, যার প্রাপ্ত অর্থে তার ও তার তার পরিবারের ভালো মতো চলে যাবে, তাতেও কিন্তু তার স্বামী যদি কিছু না করে, চলবে না। মাসের শেষে সংসারের খরচের কিছুটা হলেও ভার তার স্বামীকে নিতেই হবে, নইলে নাকি সে মেরুদন্ডহীন। এছাড়াও চাকুরীরত স্ত্রীযে কাছে মাঝে মধ্যে খোটা খাওয়ার অভ্যেস করে নিতে হবে। অন্যদিকে, একজন পুরুষ যদি একজন মেয়েকে বিয়ে করেন, যিনি কিনা চাকরি করেন না, তার কিন্তু এই শর্তগুলো থাকে না।

৩। আপনার যদি ইনকাম কম হয়, আর নিজের পাত্রী খুঁজছেন, তাহলে এতদিনে আপনি ভালোই টের পেয়েছেন, যে আপনার ইনকাম আপনার একা বা দোকা হওয়ার একমাত্র শংসাপত্র। এমনকি যে মহিলার নাকি মাস গেলে ভালো ইনকাম আছে, আপনার পয়সা তার সামনে নস্যি তিনিও, আপনার সাথে সংসার করতে চাইবেন, শুধুমাত্র আপনার ইনকাম কম বলে। আপনি কেমন, কোন পরিবার থেকে বিলং করেন, মানুষটা কতটা সৎ – কোনোকিছুই, ফারাক পড়বে না।

কিন্তু এইটা কি ভুলে চলবে, সফল বৈবাহিক জীবন হোক সবসময় নির্ভর করে, একে অপরের ওপর বিশ্বাস আর ভালোবাসার ওপর। সংসারটা তো দুজনেরই। তাই দুজনের কন্ট্রিবিউশন তো সমান সমান থাকা উচিত, তা কখনোই কারো উপার্জনের ওপর নির্ভর হয় উচিত না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।