Spark.Live-এর বিশিষ্ট নিউট্রিশনিস্ট পিয়ালী পড়ুয়া(বিশ্বাস) দিয়েছেন ডায়েটের কিছু জরুরি প্রশ্নের উত্তর(Spark.Live’s prominent nutritionist Piyali Parua(Biswas) has answers to important dietary questions)

  • by

ডায়েট কিন্তু শুধু রোগা হওয়া বা মোটা হওয়াকে কেন্ত্র করেই সীমাবদ্ধ নয়, সুস্থ সুন্দর ভাবে জীবন অতিবাহিত করার জন্যে সঠিক ডায়েট বজায় রেখে চলা একান্ত জরুরী। কিন্তু ডায়েট চার্ট কখনোই সকলের জন্য এক হয়না, উচ্চতা বয়স ওজন ইত্যাদি অনেক কিছু বিচার করে তবে উপযুক্ত ডায়েট চার্ট প্রস্তুত করা সম্ভব আর সেইজন্য আমাদের প্রয়োজন সঠিক একজন নিউট্রিশনিস্টের, যিনি তাঁর নিজের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের ডায়েটের সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন। Spark.Live-এর বিশিষ্ট নিউট্রিশনিস্ট পিয়ালী পড়ুয়া(বিশ্বাস)-এর কাছে রয়েছে বিশেষ কিছু ডায়েটের প্রশ্নের উপযুক্ত উত্তর, আসুন একটু দেখে নেওয়া যাক।

প্রশ্ন ১) একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে দিনে কত ক্যালোরির খাবার খাওয়া যেতে পারে?

উত্তর- একজন প্রাপ্তবয়স্কদের খাবারের চাহিদা নির্ভর করে একটি ব্যক্তির দেহের উচ্চতা, ওজন এবং তার মৌল বিপাকীয় হার, অর্থাৎ বিএমআর এর উপর। খাদ্যের চাহিদা পুরুষ, মহিলা এবং শিশুদের জন্য আলাদা আলাদা রকমের হয়ে থাকে। দিনে কতটা ক্যালরির খাবার খাওয়া যেতে পারে তা অবশ্যই নির্ভর করে তার শারীরিক গঠন এবং সে সারাদিনে কি ধরনের কাজকর্ম করে তার উপর, এছাড়াও বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার দিকেও নজর দেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সারাদিনের ক্যালোরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে। ক্যালোরির চাহিদা এই কিছু কিছু ফ্যাক্টরসের উপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি নিরোগ পুরুষ ব্যক্তি দৈহিক ওজন ৬০,যে সারাদিন অফিসে বসে কাজ করে তার ২৪৫০ ক্যালোরির খাবার খাওয়া যেতে পারে।

প্রশ্ন ২) ওজন কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া কি উচিত?

উত্তর- প্রথমত, ওজন কমানোর জন্য কার্বোহাইড্রেট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া এই ধারনাটা সঠিক নয়। কার্বোহাইড্রেট মানব দেহে শক্তির প্রধান উৎস হিসাবে কাজ করে। কার্বোহাইড্রেট দ্বারা ব্যবহৃত গ্লুকোজ পরিমাণের উপর ভিত্তি করে, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১৩০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন। কার্বোহাইড্রেট এমন খাবার যা হজমের সময় আমাদের দেহে গ্লুকোজ বা চিনিতে রূপান্তরিত হয়। এটি মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যা শক্তির জন্য অন্যান্য খাদ্য উপাদান(যেমন ফ্যাট বা প্রোটিন) সহজেই ব্যবহার করতে পারে না। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে মোট ক্যালোরির ৪৫% থেকে ৬০% কার্বোহাইড্রেট থেকে গ্রহণ করা উচিত। কার্বোহাইড্রেটের স্বাস্থ্যকর উৎস যেমন উচ্চ ফাইবার জাতীয় খাবার, যেমন হোল গ্রেইন যুক্ত খাবার অর্থাৎ রুটি,ওটস,শাকসবজি, ফলমূল এবং এই ফলমূলগুলিও ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং বি ভিটামিন জাতীয় পুষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মনে রাখতে হবে শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেট খাবার খেলেই ওজন বৃদ্ধি পাবে সে রকম নয়। এটি নির্ভর করে কি পরিমাণে এবং কি ধরনের কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খাচ্ছেন তার উপর।

আরও পড়ুন-লকডাউনে বাড়িতে থেকে ওজন বেড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন ডায়েট করে কিভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করবেন(Is lockdown resulting your weightgain? Learn how to control weight by dieting)

প্রশ্ন ৩) ব্রেকফাস্ট এবং ডিনারে কি ধরণের খাবার খাওয়া সুস্বাস্থ্যের পক্ষে উপযুক্ত?

উত্তর- প্রাতঃরাশকে ‘দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার’ বলা হয়। যখন আপনি আপনার রাতের ঘুম থেকে জেগে ওঠেন, আপনি প্রায় ১০ ঘন্টা পর্যন্ত না খেয়ে থাকতে পারেন। প্রাতঃরাশ আপনার দেহে শক্তি এবং পুষ্টির স্টোরগুলি পূরন করে। পাশাপাশি সুস্বাস্থ্যের জন্য অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। ব্রেকফাস্টের জন্য ঘরের তৈরি খাবার খাওয়াই সব থেকে উপযুক্ত। একটি ভাল প্রাতঃরাশে হাতে তৈরী আটার রুটি,ওটস্, চিড়ে ডালিয়া ইত্যাদি প্রোটিন জাতীয় খাবার যেমন ডিমের সাদা অংশ, লো ফ্যাট মিল্ক, ছানা, টক দইয়ের সঙ্গে অবশ্যই ফল বা স্যালাড থাকা জরুরি।

ব্রেকফাস্ট যেমন ভারি করা উচিত রাতের খাবার কিন্তু ততটাই হালকা খাওয়া উচিত। রাতের খাবারে অল্প পরিমাণে ভাত বা রুটি, হালকা মাছের ঝোল বা চিকেন স্টু, সবজি বা স্যালাড রাখা যেতে পারে।

প্রশ্ন ৪) ওজন কমানোর জন্য কি শুধু ডায়েট করাই যথেষ্ট? নাকি ব্যায়ামেরও প্রয়োজন আছে?

উত্তর- ওজন কমানোর নিয়মে ডায়েটের ও ব্যায়ামের একটা সুন্দর সম্পর্ক আছে। একটি, ছাড়া অন্যটি কখনোই চলতে পারে না। এককথায়, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে, ডায়েটের পরিপূরক মাধ্যম হিসেবে কাজ করে শারীরিক কৌশল। বিভিন্ন শারীরিক কৌশলের মাধ্যমে আমরা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও ব্যায়ামের মাধ্যমে আমরা নিজেদের শরীরের মেটাবলিজম বাড়িয়ে তুলি যাতে শরীরে জমা অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরের থেকে ঝরে যায়। ব্যায়ামের মাধ্যমে সারাদিনের চিন্তা, ক্লান্তি, অবসাদ এগুলোকে দূরে সরিয়ে ফুরফুরে মেজাজে কাজ করতে পারি। তাই শুধুমাত্র ডায়েট নয় ব্যায়ামের কার্যকরিতা আছে ওজন হ্রাসের ক্ষেত্রে।

আরও পড়ুন-কিটো ডায়েট সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান অরিজিৎ দে(Prominent dietitian Arijit Dey has given some important answers about the Keto diet)

প্রশ্ন ৫) National Nutrition Month- এ সকলের জন্য কিছু স্পেশাল ডায়েট টিপস যদি দেন?

উত্তর- সেপ্টেম্বর মাস ন্যাশনাল নিউট্রিশন মাস হিসেবে চিহ্নিত। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো যাতে সঠিক পুষ্টির মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখা যায় এবং সবার মধ্যে পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য গুলো পৌছে দিয়ে ভারতকে অপুষ্টি থেকে মুক্ত করতে পারি। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে , আমাদের জীবনযাত্রার মানের পরিবর্তন হয়েছে এবং এই রোগের সাথে লড়াই করে নিজেদেরকে সুস্থ রাখার প্রয়াস আমরা প্রতিনিয়ত করছি। তাই নিজেদের সুস্থ রাখতে কিছু নিয়ম মেনে চলা খুবই জরুরি-

🔺সুস্থ থাকতে হলে ব্যালেন্স ডায়েট এবং শারীরিক কৌশল অত্যন্ত জরুরী।
🔺ঘরে তৈরি খাবার এবং প্রচুর শাকসবজি, হোল গ্রেইন জাতীয় খাদ্য,প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন ডিম, দুধ, মাছ,মাংস ইত্যাদি প্রতিদিন খাওয়া উচিত।
🔺সারাদিনে একটা/দুটো গোটা ফল খাওয়া।
🔺বেশী তেলেভাজা জিনিস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা।
🔺বাইরের খাবার না খাওয়া।
🔺পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খাওয়া।
🔺নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখা।
মনে রাখবেন ভালো স্বাস্থ্যকর খাবার আপনাকে অনেক রোগের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে। সকলেই সুস্থ থাকুন,ভালো থাকুন, সচেতন থাকুন।

Spark.Live-এর বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট পিয়ালী পড়ুয়া(বিশ্বাস)

পিয়ালী পড়ুয়া(বিশ্বাস) একজন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট এবং দীর্ঘ ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সার্টিফাইড ডায়াবেটিক এডুকেটর। সম্প্রতি তিনি কলকাতায় বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে যুক্ত হয়েছেন এবং অনেক ডায়াবেটিওলজিস্টকে সহায়তা করে চলেছেন। তিনি নিজের এমন একটি পেজও তৈরি করেছেন যেখানে সাধারণ মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য খাদ্য সম্পর্কিত নানান প্রয়োজনীয় তথ্য ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। তিনি এমএসসি করেন IIEST শিবপুর হাওড়া থেকে, তারপর তিনি ডায়াটেটিক্স-এ ডিপ্লোমা করেন All India institute of hygiene and public health থেকে, যেখানে তিনি সার্বজনীন পুষ্টির বিস্তার সম্পর্কে গভীরভাবে জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। পিয়ালী একজন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান হিসাবে ফিটনেস সেন্টারেও কাজ করেছেন। তিনি তার সকল ক্লায়েন্টকে পরামর্শ দেন যে কীভাবে আদর্শ দেহের ওজন বজায় রেখে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা যায়, পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যের সমস্যাগুলি সম্পর্কে জেনে তার উপযুক্ত ডায়েট চার্ট প্রস্তুত করে দেন। তিনি বিশ্বাস করেন সঠিক পরিমাণে স্বাস্থ্যকর খাবার এবং বাড়িতে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবার নানারকম রোগব্যাধিও নির্মূল করতে সক্ষম হতে পারে। ডায়েট কেবল যারা ওজন হ্রাস করতে চায় তাদের জন্য নয় যারা [ডায়াবেটিস, হার্টের ব্যাধি, থাইরয়েড, পিসিওএস, অপুষ্টি ইত্যাদির মতো বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্যও একান্ত জরুরি। সুষম ডায়েট চার্ট ফলো করা সকল মানুষের জন্যই প্রয়োজন, যাতে তাঁরা একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং ডায়েট করে সুন্দর ভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

Spark.Live-এর বিশিষ্ট ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট পিয়ালী পড়ুয়া(বিশ্বাস)-এর সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/online-diet-counseling-with-nutritionist-piyali-parua-biswas-bangla

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।