২১ শে জুনের সূর্যগ্রহণে আকাশে তৈরি হবে ‘আগুনের আংটি’ (Solar eclipse on June 21 will create a ‘ring of fire’ in the sky)

এই বছরের বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হতে চলেছে ২১ শে জুন, উত্তর ভারতের পাশাপাশি গ্রহণ দেখতে পাবেন কলকাতার বাসিন্দারাও, আকাশে দেখা যেতে পারে এক “আগুনের আংটি” যা এক বৃত্তাকার গোলকের মতো দেখতে।

২০২০ সাল এমনিতেই একদমই ভালো যাচ্ছে না আমাদের সকলের, তার মধ্যে আবার ২১ শে জুন নেমে আসতে চলেছে আকাশ জুড়ে কালো অন্ধকার। ওই দিন এই বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবে আমাদের দেশ। বিশেষজ্ঞরা এই সূর্যগ্রহণকে বলয়গ্রাস গ্রহণ বলছেন। আগামী রবিবার সূর্যকে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে দেবে চাঁদ। আর চাঁদের আড়াল থেকে সূর্যের যে অংশটি দেখা যাবে তাকে অনেকটা আগুনের আংটির মতো দেখতে লাগবে।

কখন দেখা যাবে?

২১শে জুন সূর্যের আংশিক গ্রহণ হবে। সূর্যগ্রহণ শুরু হবে সকাল ৯.১৫ মিনিটে। ১০.১৭ মিনিটে পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ চলবে। সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছবে ১২.১০ মিনিটে। ২.০২ মিনিটে পূর্ণ মাত্রার গ্রহণ শেষ হবে। ৩.০৪ মিনিটে সম্পূর্ণ হবে এই সূর্য গ্রহণ। এমপি বিড়লা প্ল্যানেটরিয়ামের নির্দেশক দেবীপ্রসাদ দুয়ারি আবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন বার্ষিক এই সূর্যগ্রহণ ভারতে দেখা যাবে সকাল ১০টা নাগাদ রাজস্থানের ঘারসানা থেকে এবং সকাল ১১:৪৯ মিনিট থেকে শুরু হয়ে সকাল ১১:৫০ মিনিট পর্যন্ত এই ১ মিনিট সময় প্রায় পুরোটাই চাঁদের আড়ালে থাকবে সূর্য।

কোথায় কোথায় সূর্য গ্রহণ দেখা যাবে?

রাজস্থানের সুরতগড় ও অনুপগড়, হরিয়ানায় সিরসা, রতিয়া এবং কুরুক্ষেত্র এবং উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন, চম্বা, চামোলি এবং জোশীমঠের মতো জায়গা থেকে মিনিট খানেকের জন্য আকাশে ওই মহাজাগতিক ঘটনাটি দেখা যাবে। উত্তর ভারতের পাশাপাশি গ্রহণ দেখতে পাবেন কলকাতার বাসিন্দারাও, আকাশে দেখা যেতে পারে এক আগুনের আংটি। তবে সূর্যগ্রহণের সময় কোনওভাবেই যাতে আকাশের দিকে খালি চোখে না তাকানো হয় সে ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।

এশিয়ার আরও অন্যান্য দেশ, আফ্রিকা এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং প্রসান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে রবিবারের সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার কিছু কিছু অংশ থেকেও ২১ জুনের বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা যাবে। কঙ্গো, ইথিওপিয়া, পাকিস্তান এবং চিনেও দেখা যাবে এটি।

গ্রহণের সময় আকাশে যখন আগুনের চাকা দেখা যায় তখন তাকে বলে বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। অর্থাত্‍ এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সূর্যের ওপর এমন ভাবে পড়ে, যাতে সূর্যের চারপাশের আলোর বলয় দেখা যায়। এই গ্রহণে চাঁদের ছায়া সম্পূর্ণ ভাবে সূর্যকে গ্রাস করতে পারে না। এর আগে ২০১৯ এর ২৬ শে ডিসেম্বর শেষ বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল।

নানান কুসংস্কার

গ্রহণ নিয়ে সমাজে অনেক ধরনের কুসংস্কার আছে। ঐ সময়ে খেতে নেই, তৈরি করা খাবার ফেলে দিতে হয় ইত্যাদি। গ্রহণ দেখাও অনেকের কাছে নিষেধ। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রেও অনেকরকম বিধি নিষেধ থাকে গ্রহণকে কেন্ত্র করে। সূর্যকে গিলে ফেলা রাহুর ভয়ে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে বলে জ্যোতিষীরা দাবী করেন। কিন্তু আজকের দিনে আমরা যখন পরিষ্কার বুঝতে পারি পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে চাঁদ এসে যাওয়ার ফলে গ্রহণ হচ্ছে, তাই নতুন জীবাণুর জন্ম, রশ্মির বেশি প্রভাব ইত্যাদি প্রশ্ন অবান্তর। আসুন জেনে নি কি ধরণের কুসংস্কার রয়েছে-

১. রান্না করা বা খাবার খাওয়া ঠিক নয়

এরকম একটি কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় কোনো ধরণের খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয় , অনেক জায়গায় এরকমও ধারণা রয়েছে যে সূর্যগ্রহণের সময় রান্না করা হলে সেটিও অমঙ্গলজনক। কিন্তু এরকম ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বিজ্ঞানীরা কখনোই খুঁজে পাননি।নিজেদের ডায়েট সঠিক রাখলে কখনোই কোনোরকম সমস্যা হবেনা।

২. গর্ভবতী নারীদের বাইরে বের হওয়া নিষেধ

প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারীরা ঘরের বাইরে বের হলে গর্ভের সন্তানের শরীরে বিশেষ ধরণের জন্মদাগ থাকতে পারে। এমনকি সন্তানের হৃৎপিণ্ডে ছিদ্র থাকা বা বিকলঙ্গতা নিয়েও সন্তান জন্ম নিতে পারে। তাই, সংস্কার আছে, সূর্যগ্রহণের সময়ে গর্ভবতী নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়া ঠিক হবে না। এই ধারণাও বৈজ্ঞানিকভাবে ভিত্তিহীন হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে অনেক আগেই।

৩. ভ্রমণ না করা

সূর্যগ্রহণ চলাকালীন ভ্রমণ করলে তা অমঙ্গলজনক – এমন একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে অনেক মানুষের মধ্যেই। আরেকটি ধারণা রয়েছে যে, সূর্যগ্রহণের সময় ভ্রমণ করলে গ্রহণের সময় সূর্য থেকে নিঃসৃত ক্ষতিকর রশ্মি গায়ে লেগে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। সাধারণ অবস্থায় সূর্যের রশ্মি গায়ে লাগলে যতটা ক্ষতি হোতো, সূর্যগ্রহণের সময় তার চেয়ে বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। কাজেই সূর্যগ্রহণের সময় যে আলাদাভাবে অতিরিক্ত ক্ষতি হবে, এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।

৫. বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে সূর্যগ্রহণ দেখা উচিত

সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষার জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বিষয়ক সংস্থা নাসা খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখা থেকে বিরত থাকতে উপদেশ দিয়েছে। সামান্য সময়ের জন্যও খালি চোখে সূর্যগ্রহণ দেখলে চোখের ক্ষতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা। সূর্যগ্রহণের দিন মানুষ সূর্যের দিকে খালি চোখে তাকায়, কারণ সেদিন সূর্যের প্রখরতা অন্যান্য সময়ের চেয়ে অনেক কম থাকে। তাই মানুষের অনেকক্ষণ যাবৎ তাকিয়ে থাকার সম্ভাবনা ও সুযোগ থাকে – যেটি ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সেইজন্য অকারণে অবাস্তব কোনো জিনিসের উপর ভিত্তি করে চলে নিজেদের মনের উপর চাপ ফেলবেন না, একান্তই যদি মানসিক স্ট্রেসের কবলে পড়েন তাহলে আপনার মনের যাবতীয় সংশয় দূর করার জন Spark.Live এ রয়েছেন স্বনামধন্য মনোবিজ্ঞেনীরা যাদের সঙ্গে অনলাইন সেশনের মাধ্যমে আপনারা যেকোনো কুসংস্কার থেকে নিজেদেরকে দূরে রাখতে পারবেন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।