হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সিঁদুর পরার কিছু উল্লেখযোগ্য নিয়ম ! (Rules of putting sindoor as per Hindu mythology)

  • by

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিবাহিত মহিলাদের জন্য সিঁদুর পড়ার গুরুত্ব অপরিসীম , ভারতের যেখানেই হোক বিবাহিত মহিলাদের সিঁদুর পড়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে , তবে সিঁদুর যেকোনো ভাবে পড়লেই হয়না , বহু বিবাহিত মহিলারাই জানেননা ঠিক কিভাবে সিঁদুর পরা উচিত ,আর তার জেরেই স্বামীর মঙ্গলের বদলে আরো খারাপ ফল হতে পারে এমনটা নাকি বলা হয়েছে হিন্দু শাস্ত্রে।

আগে চলুন জানা যাক সিঁদুর পড়তে হয় কেন-

মূলত হিন্দুমতে একমাত্র বিয়ের পড়ে মহিলাদের সিঁদুর পড়ার রীতি চলে আসছে. বিয়ের দিন অনুষ্ঠান মোতে প্রথমবার স্বামী নব বধূর সিঁথি রাঙিয়ে দেন লাল বা কমলা সিঁদুরে. আর তার পর থেকেই ওই বিবাহিতা মহিলা সিঁদুর পড়তে থাকেন. কিন্তু জানেন কেন এই সিঁদুরের রং লাল? – কারণ লাল রং সাহসের প্রতীক, শক্তির প্রতীক. আবার পাশাপাশি টকটকে লাল রং নারীর অধিকারের প্রতীক রূপে গণ্য করা হয়. তাই সিঁদুরের রং লাল.

মূলত সিঁদুর পড়া হয়ে থাকে স্বামীর দীর্ঘায়ু কামনার স্বার্থে. কারণ মনে করা হয়, যার সিঁথির সিঁদুরের জোর যত বেশি, ততই তার স্বামী ভালো থাকবে. আসলে আগেকার দিনে, মহিলারা বাড়িতে থেকে বাড়ির যাবতীয় কাজ করতেন. কিন্তু পেটের তাগিদে একমাত্র পুরুষদের বাইরে বেরিয়ে অর্থ সংগ্রহের অধিকার ছিল. আর তখনকার দিন অর্থ সগ্রহ করতে মানুষকে নানা ঝক্কির কাজ করতে হতো. সেই চিন্তার কারণেই, যাতে বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ঠিক থাকেন, তাদের রক্ষার্থে স্ত্রীয়েরা সিঁদুরের রীতি খুব গম্ভীরতার সাথে নেন. কারণ মহিলারা বরাবরই মমতাময়ী. তবে এইভাবে যে সিঁদুর পড়া প্রচলিত হয়েছে তা একেবারেই নয়.

আবার হিন্দুশাস্ত্রের কিছু পুজোতেও সিঁদুর লাগবেই লাগবে. ভোগবানদের মাথায় তিলক কাটার জন্যও সিঁদুর লাগে. এমন কোন হিন্দু বাড়ি নেই, যেখানে সিঁদুর পাওয়া যায় না. তাই বলাই বাহুল্য, সিঁদুরের গুরুত্ব আমাদের জীবনে অপরিসীম.

কেন এবং কিভাবে সিঁদুর পড়া উচিৎ?

১.হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী কখনোই মাথার এক কোন সিঁদুর পরা উচিত নয়, যখন মহিলারা এভাবে সিঁদুর পড়েন তখন নাকি তাদের স্বামীরা তাদের থেকে দূরে সরে যান,

২.আসলে স্বামীর দীর্ঘজীবন কামনা করেই সিঁদুর পরে মহিলারা, তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে সিঁদুর পড়লে শান্তি পাওয়া যায় , মধ্যমা আঙ্গুল দিয়ে সিঁদুর পড়লে আয়ু বৃদ্ধি পায়,

৩. কিন্তু মাথার এক কোন সিঁদুর পড়লে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। মাথার সিঁথির মাঝ বরাবর করে সেখানেই সিঁদুর পরলে তবেই তার ফল পুরোপুরি পাওয়া যায় এমনটাই মত হিন্দু শাস্ত্রের।

৪. নিজের সিঁদুর কৌটো থেকে কখনোই সিঁদুর কাউকে দেওয়া উচিত নয় , এতে বলে নাকি নিজের সৌভাগ্য ভাগ হয়ে যায় , কাউকে কখনো সিঁদুর দিতে হলে তাকে নতুন কৌটো দেওয়াই ভালো।

৫. এখানকার দিনে মেয়েরা সিঁদুর ছাড়াও অনেক সময় লিপস্টিক দিয়ে কখনো আরো অন্য প্রসাধনীকে সিঁদুর হিসেবে ব্যবহার করেন, তা অবশ্য করা উচিত নয় , যদিও এগুলো পুরোটাই বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন শুধুমাত্র হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী এই নিয়ম গুলো বিবৃত আছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।