বাঙালি মেয়েকে হোয়াটস্যাপএ প্রপোস করবেন কি ভাবে?

  • by
Proposing on whatsapp

আমাদের জীবন এখন পুরোটাই ইন্টারনেট নির্ভরশীল. আর বিশেষ করে যে গণ মাধ্যমটি আমাদের জীবনে জায়গা করে নিয়েছে সেটি হলো হোয়াটস্যাপ. কোনো রকম কোন কাজ হোক আমরা তা হোয়াটসাপেই সারতে ভালোবাসি. এমনকি ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে তো রয়েছেই, সাথে কর্মজীবনেও হোয়াটস্যাপ এ নানা ধরণের গ্রুপ করে আমরা কাজের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সারি. আবার একইভাবে ফ্যামিলি মেম্বার্স বা ফ্রেন্ডস দেরও হোয়াটস্যাপ গ্রূপ থাকে. 


ধরুন এই ফ্রেন্ড গ্রূপেই আপনার প্রিয় মানুষটিও রয়েছেন. আর তাকে বহুদিন ধরে কিছু বলতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না. গরূপে সবার মধ্যে বলা তো অনেক দূরের কথা, এমনকি প্রাইভেট মেসেজেও তাকে কিছুটা বলতে পারছেন না. এই অবস্থায় কি করবেন?
 প্রথমে গ্রূপের কয়েকজন সদস্যকে বলুন নিজের বিষয়টি- যে আপনি ওই মেয়েটিকে পছন্দ করেন, কিন্তু সাহস করে বলে উঠতে পারছেন না. তখন গ্রূপের অন্যান্য বন্ধুরা নানা রকমের আইডিয়া দেবে আপনাকে. কিন্তু সমসামনি বলা তো আপনি ছেড়েই দিন, ভয়েই মরছেন. তো তার আগে সিচুয়েশনটাকে একটু নরমাল করে নেওয়ার জন্য হোয়াটস্যাপএই টাকে কিছুটা আভাস দিন. যাতে মেয়েটি কিছুটা হলেও বুঝতে পারে, যে আপনার তার প্রতি একটা সফ্ট কর্নার আছে. 


এই বিষয়ে কাজে লাগান ওই যে গ্রূপের বাকি কিছু বন্ধুকে. কথোপকথনের মধ্যেই তারা যেন আপনার সব কথাতেই ট্যাগ করে ওই বান্ধবীকে. আবার আপনাদের দুজন দুজনের কথাটা সবাই বেশ লাভ ইমোজি দেবে. এইভাবে মেয়েটির মনে স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে আপনাকে নিয়ে, সে আপনার অন্যান্য বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করতে পারে. 
তখন আপনার বন্ধুদের কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে. মেয়েটি বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করলেই যেন তারা বলে, কিছু জিজ্ঞাস্য থাকলে আপনাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে. আবার আপনার যে তার প্রতি কিছু অন্যরকম অনুভূতি আছে, সেটাও হালকা বলে রাখতে পারে আপনার বন্ধুরা. 


এরপর মেয়েটি আপনাকে হোয়াটস্যাপ এ জিজ্ঞাসা করলে আপনি জিজ্ঞাসা করে ফেলুন, তার এইরকম মনে হচ্ছে কোনো? স্বভাবতই সে আমতা আমতা করবে. তারপর বলুন, সে কি কিছুই বুঝতে পারছে না যে আপনার তার প্রতি কোনো ফিলিংস আছে কি না? উত্তর যদি আসে না, তো এইবার বলেই দিন যে তাকে আপনি কতটা পছন্দ করেন. 
এরপর শুরু করুন কথার খেলা. মানে তাকে বলুন, আপনার তার কোন কোন বিষয়গুলি ভীষণ পছন্দের. যদি সে আপনার কোথায় বিশেষ গুরুত্ব নাও দেয়, তাতে কিন্তু থেমে থাকা যাবে না. একইভাবে তাকে সময়ে সময়ে প্রেমের বিভিন্ন কথা বলে ইমপ্রেস করতে থাকুন. একটু কথাবার্তা নরমাল হলে, রাতে এইবার করেই ফেলুন প্রপোস. তবে আমার মতে যদি বাঙালি মেয়ে হয়, তবে ভালোবাসি কথাটাই বেশি মনে দাগ কাটবে, আই লাভ ইউ কথাটির থেকে. 


অন্যদিকে, ধরুন কারো সাথে অনেকদিন ধরেই কথা চলছে. দুজনেই দুজনের প্রতি আকৃষ্ট, কিন্তু প্রথম স্টেপটি কেউই নিতে ভরসা পাচ্ছেন না. বরং অপেক্ষা করছেন অপর দিক দিয়ে কোনো রেস্পন্স আসার. বলি, আর কতদিন এই অপেক্ষা করে থাকবেন. অপেক্ষা করতে করতে অনেক দেরি হয়ে যাবে না তো? তাই বলছি এইবার মন খুলে বলে ফেলার সময় এসেছে.
এই ক্ষেত্রে একটা কাজ করতে পারেন. হাতিয়ার বানাতে পারেন আপনার হোয়াটসাপটিকেই. বেছে নিতে পারেন কোনো বিশেষ দিন যেমন, জন্মদিন, বা তার কোনো সাফল্যের দিন. বা সেই দিনটি ভ্যালেন্টাইন্স ডে ও হতে পারে. শান্ত মাথায় বেশ কিছুটা সময় ধরে ভেবে চিন্তে নিজের মনের সব ফিলিংসগুলিকে তুলে ধরুন একটি হোয়াটস্যাপ মেসেজে. 


যেমন লেখাটি শুরু করুন, আপনাদের প্রথম পরিচয়ের দিন দিয়ে, তারপর ধীরে ধীরে তার কোন অভ্যেস, গুন্ গুলি আপনার মনে দাগ কেটেছে, অন্যের সাথে কথা বললে আপনি একটু হলেও জেলাস হন, সেটাও কিন্তু লিখবেন মেসেজটায়. এই মুহূর্তে আপনি কতটা তার ওপর নির্ভর করেন, কতটা স্পেশাল হয়ে উঠেছে সে আপনার জন্য সব কথা লেখার পর, শেষে লিখুন সেই মূল্যবান কথাটি. তবে পুরো কথাটি একটাই মেসেজে লিখবেন. অযথা হাজারটি মেসেজ পাঠানোর দরকার নেই. 
আবার মেসেজে আই লাভ ইউ না বলতে পারলেও, তাকে আপনার পছন্দের আভাস দেওয়ার জন্য, প্রতিদিন তাকে পাঠাতে থাকুন গানের লিংক. যেতে প্রচুর প্রেমের গানের লিংক আছে, নিজের মনের কথা কিছুটা হলেও মিল খাচ্ছে, সেরকম গানের লিংক পাঠাতে থাকুন তার হোয়াটস্যাপ এ. আর নিয়ম করে তার খাওয়া দাওয়ার খোঁজ ও নিতে থাকুন. 


যেমন শুরু করুন সকাল দিয়ে. শুরুতেই গুড মর্নিং উইশ, তারপর সারা দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও, তার দুপুরের লাঞ্চ করেছে কিনা তার খোঁজ নেওয়া, আর রাতে বাড়ি ফিরে, নিজে থেকেই মেসেজ করে অফিসে কি কি হলো তার খোঁজ নেওয়াটাও খুব জরুরি. আর অবশ্যই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে, তাকে গুড নাইট উইশ করতে ভুলবেন না. যেন তার মনে হয়, সেই লাস্ট মানুষ যার সাথে কথা বলে আপনি ঘুমাতে যাচ্ছেন. এতে কিন্তু মনে মনেই আপনার প্রতি তার একটি বিশ্বাস জাগবে. 
নিয়মিত তার স্টাটাস চেক করতে থাকুন. যতটা পারবেন তার স্টাটাস গুলিতে কমেন্ট করুন. তবে সব সময় বেশি ভালো সাজার দরকার নেই. কারণ মেয়েরা নকল ইমোশন পছন্দ করে না. তাই আপনি ঠিক যেমন মানুষ সেইরকম ভাবেই রিএক্ট করুন তার স্টাটাসে দেওয়া ছবিগুলিতে. 

তার সুন্দর ছবিগুলির প্রশংসা অবশ্যই করবেন. কারণ হয়তো ওই ছবিগুলি স্পেশালি আপনার জন্যই সে স্টাটাসে দিয়েছে. আবার হার্ট ব্রোকেন মেসেজগুলিতে রিএক্ট তো করবেনই, সাথে সাথেই পারলএ ফোন করে জিজ্ঞাসা করুন কি হয়েছে. তার ভালো ছবিগুলিতে রিপ্লাই হিসেবে দিতে পারেন, কোনো গানের লিংক. সে কিন্তু পছন্দ করবে.
এইভাবেই যখন আই লাভ ইউ কথাটি শুধু বলার অপেক্ষায় থাকবে, তখন নিজের স্টাটাসে একটি ভালো মেসেজের সাথে তাকে এড্রেস করে লিখে ফেলুন ম্যাজিক্যাল ওয়ার্ডসগুলি. আর অপেক্ষায় থাকুন, আপনার স্টাটাস সিন্ করে তিনি কি রিপ্লাই দেন.তবে আশা করি, রিপ্লাই পসিটিভই হবে. 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।