গৃহবন্দী অবস্থাতেও মনকে রাখুন ফুরফুরে (Is the lockdown making you depressed?)

  • by

করোনার প্রকোপে নাজেহাল বিশ্ববাসী। মারণ করোনা ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার সারাদেশ জুড়ে লক ডাউনের পথে হেঁটেছে। পৃথিবীর অন্য দেশগুলির থেকে এই মুহূর্তে ভারত সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এমনকি ভারতের বিভিন্ন রাজ্য, রাজ্যের বিভিন্ন শহর, গ্রাম, এমনকি নিজের এলাকা থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। আগামী একুশটা দিন এভাবেই গৃহবন্দী ভাবে কাটাতে হবে সবাইকে।

কিন্তু এভাবে দীর্ঘদিন পরস্পরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে করোনা ভাইরাসকে হয়তো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে তবে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সমস্যাও দেখা দিতে পারে। আত্মীয়-বন্ধু-পরিজনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন না দেখার পাশাপাশি সারাদিন গৃহবন্দী থাকতে থাকতে দেখা দিতে পারে ডিপ্রেশন। এরফলে মানসিক ভাবে অনেকেই ভেঙে পড়েন। এইসময় কোনো কাজ করার মতোন এর্নাজি টুকুও তারা হারিয়ে ফেলে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আর সেই সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রেখে চলা, এই দুই জোড়া অস্ত্রেই এই কঠিন সময়কে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আপনার এই উৎকন্ঠাকে কিভাবে বশে আনবেন? কী কী করতে হবে তার জন্য? চলুন দেখে নেওয়া যাক।

নিজের হবিগুলিকে সময় দিন

১) আজকাল আলোচনার একমাত্র বিষয় করোনা ভাইরাস। সংবাদমাধ্যমে নানান খবর, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুকে পাওয়া নানান ফরোয়ার্ডেড মেসেজ, বাড়িতে আলোচনা, সব মিলিয়ে তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত! কিন্তু সেটা মোটেই কাজের কথা নয়। সারাক্ষণ ওই একটা বিষয়েই ডুবে না থেকে অন্যান্য বিষয়েও নিয়েও কথা বলুন। গান শুনুন, ছবি আঁকুন, সিনেমা দেখুন। দেখবেন আগের থেকে মন অনেকটা মন হালকা মনে হবে।

ফোনে আড্ডা দিন

২) বাড়ি থেকে বেরোতে না পারলেই যে আপনাকে একঘরে হয়ে থাকতে হবে তার কিন্তু কোনো মানে নেই। নিয়মিত বন্ধুদের সাথে ফোনে যোগাযোগ রাখুন। শুধু রোগ বা সমস্যার কথাই নয়, নানা বিষয়ে স্বাভাবিকভাবে তাদের সাথে কথা বলুন। তাদের ভরসা জোগান, নিজেও ভরসা পাবেন। মনে রাখবেন, শুধু আপনি একা নন, আজ গোটা পৃথিবী এই সমস্যার মধ্যে রয়েছে। কাজেই মাথা ঠান্ডা রাখুন, বিপদ একদিন ঠিক কেটে যাবে।

নিজের পছন্দ মতন সময় কাটান

৩)সারাক্ষণ একই বিষয় নিয়ে ভাবছেন? মনটাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিন। দুপুরে খাওয়ার পরে বারান্দা দিয়ে রাস্তা দেখুন, ইউটিউব ভিডিও চালিয়ে নতুন কিছু শিখুন, রান্না করুন। এছাড়াও ঘরের অন্যান্য কাজ করুন। অন্যদিকে খানিকক্ষণ মন দিলে টেনশন কমে যাবে। এছাড়াও সবকিছুরই খারাপ দিকের সাথে সাথে একটা ভালো দিকও রয়েছে। ফলে আপনি আগে বাইরে বেরলেই বিভিন্ন কারনে খরচা করতে পারতেন। তবে সেইটা এখন পারবেন না। ফলে আপনি এখন টাকা সাশ্রয় করতে পারছেন।

মনকে ভালো রাখুন

৪) অনেক চেষ্টা করেও কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছেন না মন? তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। এমন অনেক ডাক্তাররা রয়েছেন, যারা ফোনে বা অনলাইনে আপনাকে সাহায্য করতে পারেন৷ দেখবেন আগের থেকে অনেকটাই সুস্থ আছেন।

পছন্দের রান্না করুন

৫) বিশেষ করে মেয়েরা এইসময় সংসার, কাজকর্ম, সব দিকের চাপ সামলাতে গিয়ে জেরবার হয়ে পড়েন এবং নিজের যত্ন নেওয়ার সময় পান না মোটেই। তবে স্ট্রেস থেকে দূরে থাকতে হলে নিজেকে অবহেলা করলে চলবে না। আগে আপনি ঠিক থাকুন, বাকিটা ঠিকমতোন হতে বাধ্য! রোজ খানিকটা সময় নিজেকে দিন, সেটা সকালে হোক বা দিনের শেষে। নিজের পছন্দের চা বা কফির কাপ হাতে নিয়ে একা কিছুটা সময় কাটান। পছন্দের খাবার রান্না করলেও কিন্তু স্ট্রেস অনেকটাই কমে।

মুক্তির স্বাদ

৬) এই সময় এমন কিছু একটা করুন যা আপনাকে মুক্তির স্বাদ দেয়। কেউ হয়তো ব্যায়াম করলে বিশেষ আনন্দ পান। কারও আবার ভালো নাটক বা সিনেমা দেখলেও সেই অনুভূতি হয়। অনেকেই গান বাজনা করতে ভালোবাসেন, বাড়িতে বসেই বিভিন্ন মিউজ়িকাল ইন্সট্রুমেন্ট নিয়ে গান করুন। দেখবেন মন ভালো লাগবে।

ছাদে হাঁটুন

৭) প্রকৃতির মাঝে কিছুটা এইসময় কাটান। বাড়ির বাইরে বেরতে পরছেন না তো কি হয়েছে! বাড়ির উঠনে খানিকক্ষণ বসে থাকুন। উঠোন না থাকলে বিকেলটা ছাদে কাটান।

মেডিটেশন করুন

৮) স্ট্রেস কমাতে যে মেডিটেশনের কোনও বিকল্প নেই, সে বিষয়টি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। তাই রোজ রাতে শুতে যাওয়ার আগে নিরালা একটি কোণে দশটা মিনিট চোখ বন্ধ করে, পিঠ সোজা করে বসে কাটান। হালকা কোনও মিউজ়িক শুনতে পারেন এই সময়ে। সেই সঙ্গে দীর্ঘ শ্বাস নিন। যত বেশি অক্সিজেন ব্রেন পর্যন্ত পৌঁছবে, তত ভালো থাকবেন।

জানি এটা একটা কঠিন সময়, কাজের ক্ষত্রে শুধু নয়, নিজেদের মানসিক ভাবে সুস্থ রাখার ক্ষেত্রেও. লড়াইটা কিন্তু করতে হবে নিজেদের নিজেদেরকে ভালো রাখার জন্য. আপনারা প্রস্তুত তো?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।