পেটের বাড়তি মেদ কমাবার সহজ উপায় (How to reduce belly fat?)

  • by

মোটা হলেও কিন্তু খুব একটা সমস্যা হয় না. মানে, কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে যেমন বিয়ে বাড়ি হোক কিংবা কোনো পার্টি, পোশাক সাজগোজ মেকাপ সবটাই পারফেক্ট থাকলেও, আপনার পেটের বাড়তি মেদ একমাত্র হয়ে ওঠে আপনাকে সুন্দর দেখার ক্ষেত্রে বাধা. পেটের ভুড়ি বা বাড়তি মেদ, যখন আপনি কোনো ভালো ডিজাইনার শাড়ি পড়বেন তখন ঠিকঠাক সেপে না থাকার দরুন, দেখতে কিন্তু মোটেই ভালো লাগে না. আবার অপুরুষদের ক্ষেত্রে, কোনো শার্ট ইন করে পড়লে, আপনার ভুড়িটি খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে. এমনকি তা ব্লেজার পড়ুন বা স্যুট, আপনার পেটের ভুঁড়ি কিন্তু সব সৌন্দর্য্য শেষ করে দেবে.
তাই বলছি সময় থাকতে যত্ন নিন নিজের শরীরের. ডায়েট, ব্যায়াম আর আর ঠিকঠাক জীবনযাপন আপনাকে আবার করে তুলবে স্লিম এন্ড ফিট. অনেক সময়ই দেখা যায়, পেটের বাড়তি মেদের জন্য অনেকেই লজ্জা পান, বা কনফিডেন্স পান না কোনো কাজ করার আগে. তাই সেই সমস্যা একেবারে শেষ করতে আমরা জানছি আপনাকে কিছু টোটকা. যেগুলি করলে নিশ্চিত ভাবে আপনার পেটের মেদ কমে যাবে মাত্র দেড় মাসের মধ্যে.
চলুন চোখ রাখা যাক সেই টোটকাগুলিতে-
১. প্রথমেই বড় কিছু চিন্তা করে ওজন কমানোর দিকে যাবেন না. সেট করুন ছোট ছোট গোল. এই যেমন মাসটিকে ১৫ দিনে ভাগ করে নিন. প্রথমে ঠিক করুন ১৫ দিনে কিছুটা ওজন কমাবেন. সেই মতো নিজের যোগ ব্যাম টিচার, জিম ট্রেইনার বা ডাক্তারি পরামর্শ মতো ওয়ার্কআউট শুরু করুন. ১৫ দিন বাদ চেক করুন. আবার তার পরের ১৫ দিনএর জন্য আরেকটি গোল সেট করুন.
২.হঠাৎ করে ডায়েটের চক্করে সব খাওয়া বন্ধ করে দেবেন না. তার জন্যও ফলো করুন ডে চার্ট. প্রথম সপ্তাহে একটু ফ্যাট ইনটেক কমান, তারপর ধীরে ধীরে খাওয়ার পরিমান অল্প করে কমাতে থাকুন.
৩. পুরোপুরি ফোকাস করুন, বাড়ির তৈরী খাবারের ওপর. বাইরের খাবার, আর তেলযুক্ত খাবার একেবারে নৈব নৈব চ. জানি যারা একটু বাইরের খাবারে আসক্ত তাদের জন্য এটা খুব কষ্ট দায়ক কিন্তু, বাইরের খাবার না বন্ধ করলে ওয়েট কমবে না.
৪. একটা টাইম সেট করুন. তার জন্য ব্যবহারে লাগার আপনার ফোনটি. প্রতি দুই ঘন্টা অন্তর অন্তর খাবার খাওয়ার আর জল খাওয়ার একটি অ্যালার্ম লাগান. কারণ আপনি যদি একবারে অনেকটা খান, তো ক্যালোরি একধাপে অনেকটা বেড়ে যায়. তাই বাড়ে বাড়ে খেলে তা আমাদের শরীরে মেধা বাড়াতে পারে না. আর তার সাথেই যদি পর্যাপ্ত পরিমানে জল খান, তো শরীর হাইড্রেটও থাকবে.
৫. আপনি যদি বাড়িতেও থাকেন, দুপুরে ঘুমানোর অভ্যাস ত্যাগ করুন. কারণ তাতে ওজন বাড়ে.
৬. লবনাক্ত খাবারও যতটা সম্ভব এভোইড করুন. বরং সেজায়গায় নিজের খাদ্যাভ্যাসে যোগ করুন, ফল. দিনে দুটি করে ফল অবশ্যই খান, কিন্তু সূর্যের আলো থাকাকালীন. এই যেমন সকালের প্রাতরাশ করার পর একটি কোলা, বা পেয়ারা বা আপেল খান. আর লাঞ্চের পর খেতে পারেন লেবু, ন্যাসপাতি বা আপনার পছন্দের যে কোনো ফল.
৭. হঠাৎ ডায়েট করা শুরু করলে, স্বভাবতই একটু ক্লান্তি লাগে, একটু দুর্বল মনে হয়. সে ক্ষেত্রে প্রতিদিন খান বাদাম. আমন্ড, কাজু খেতেই পারেন সকাল সকাল.

এই তো গেল লাইফ স্টাইল সম্পর্কিত কিছু নিয়ম নিধি. এবার একটু আলোকপাত করা যাক কি কি ব্যায়াম বা যোগ ব্যায়াম আমাদের স্ট্রিক্টলি ফলো করতে হবে-
১. যোগ ব্যায়াম বা শরীর চর্চার জন্য যারা জিমে যেতে অভস্ত, তাদের বলবো, যে কোনো ব্যায়াম যেগুলি পেটের ওপর প্রেসার ফেলে সেইগুলি সবকয়টি আপনার পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করবে.
২. সোজা হয়ে শুয়ে, মাথার নিচে হাত রাখুন. এইবার একটা একটি পা সোজা উপরে উঠিয়ে তারপর হাটু বেন্ড করে পেটের দিকে ভাঁজ করুন, যতটা সম্ভব. একইভাবে দুটি পায়েই একই ভাবে ভাঁজ করে ব্যায়াম করুন. তারপর একসাথে দুটি পা সোজা করে হাঁটু ভাঁজ করে পেটের দিকে প্রেসার দিন, এতে যেমন আপনার ভুড়ি কমবে তেমনি হাঁটুও ভালো থাকবে.
৩. সোজা হয়ে বসে পা দুটি সামনের দিকে টানটান করে সোজা করে দিন. একটু ঝুঁকে হাতটা দিয়ে, হাঁটু বা হাঁটুর একটু দূরে পা ধরুন. এইবার ধীরে ধীরে নিজের মুখটি হাঁটুতে লাগানোর চেষ্টা করুন. যতটা সম্ভব হবে ততটাই করুন. কারণ প্রথম দিনেই আপনি পুরোপুরি হাঁটুতে মুখ লাগাতে পারবেন না. ধীরে ধীরে আপনার শরীর ফ্লেক্সিবল হয়ে যাবে.

নিজেদের জিম ট্রেইনারদের কাছ থেকে আরো কিছু ব্যায়াম জেনে নিন. কোনোভাবেই বাদ দেবেন না প্রতিদিনের ওয়ার্ক আউট. এইভাবেই মাত্র দেড় মাসের মধ্যেই কমিয়ে ফেলুন পেটের বাড়তি মেদ.

Tags:

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।