আমি কীভাবে একটি বাঙালি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিই

  • by
proposing a girl for marriage

যতই আধুনিকতার ছাপ আমাদের জীবনে পড়ুক না কেন, আপামর বাঙালি কিন্তু  এখনো পছন্দ করেন, প্রেম নিবেদন কিংবা বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ক্ষেত্রে একটু ট্রাডিশনাল ছোয়া আনতে. আর বলাই বাহুল্য বাঙালি মেয়েরাও কিন্তু বেশি পছন্দ করে বিয়ের প্রস্তাবের ক্ষেত্রে একটু বাঙালিয়ানা.একেবারেই, বেশিরভাগ বাঙালি মেয়েদের কাছেই জানা গিয়েছে, প্রেমের প্রস্তাব হোক কিংবা, বিয়ের সেটি যদি হয় বাঙালিয়ানা ছন্দে , তো না বলার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়. যেমন – বিদেশী ভাষার ব্যবহারে নয়, নির্ভেজাল বাংলায় নিজের মনের কথা কোনো বাঙালি মেয়ের সামনে রাখলে, মেয়েটি আপনার প্রতি একটুও আকৃষ্ট থাকলে, সে কিন্তু নিজের ভাষায় বিয়ের প্রস্তাবটি শুনে লজ্জা পাবেই. আর তাতেই আপনি বুঝতে পারবেন মেয়েটি কিন্তু রাজি আপনার বিবাহ প্রস্তাবে.


আসলে বাঙালিদের কাছে I Love You –  কথাটির থেকে ‘তোমাকে ভালোবাসি’ কথাটি অনেক বেশি গুরুত্ব রাখে. 
কিছুই না যদি নিজের প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে চিয়াছেন, তো একদিন সময় করে চলে যান- প্রিন্সেপ ঘটে, পর্যন্ত বিকেলে, বান্ধবীর হাত ধরে উঠে পড়ুন ঘাটের সামনেই দাঁড়িয়ে থাকা নৌকাতে. মাঝ নদীতে, কোলাহলের থেকে কিছুটা নিজেদের বিরত রেখে, সূর্যাস্তের দুধে আলতা রঙে রঙিন আভাকে সাক্ষী রেখেই হাতে শুধু একটা গোলাপ নিয়ে নৌকাতে বান্ধবীর সামনে হাটু গেড়ে বসে বলে ফেলুন মনের কথা. প্রস্তাবে না বলতে পারবে না.


আবার কোনো বাঙালিয়ানা রেস্তোরাতে বা নিজের বাড়িতে নিজের হাতে বাঙালি পদ রান্না করে, তাকে খাবার নিমন্ত্রণ করুন. আর নিজের হাতের রান্না খাওয়ানোর মাঝেই দিয়ে দিন বিয়ের প্রস্তাব. না বলার চান্স খুব কম.
প্রেমের প্রস্তাবের জন্য রবীন্দ্র সরোবরটিও ভালো জায়গা. তবে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে, বান্ধবীকে বলুন, শাড়ি পরে আস্তে. তার সন্দেহ হলেও, সাস্পেন্সটা রেখে দিন. আপনি ফর্মাল বা পাঞ্জাবি পড়তে পারেন. সাথে কিন্তু লাল গোলাপ আর চকলেট নিতে ভুলবেন না. আর যদি খুব সিরিয়াস হন তো অবশ্যই রাখুন একটা রিং. আবার যদি একটি চিঠিও লিখতে পারেন, যেখানে রবি ঠাকুরের কোনো গানের পংক্তি উল্লেখ থাকে, তো সোনায় সোহাগা . যেখানেই প্রপোস করুন না কেন, একটু ফিল্মি কায়দা রাখবেন.


কলকাতার আশেপাশেই গড়ে উঠেছে কিছু বিনোদন মূলক ঘোরার জায়গা. যেমন ধরে নিন- ইকো পার্ক. ধরুন আপনার বান্ধবীর সাথে আপনার পরিচয় অনেক দিনের. রিলেশন নিয়ে বেশ সিরিয়াস কিন্তু বিয়েটা নিয়ে কোন কোথায় কেউ এখনো বলেন নি. কিন্তু দুজনেই মনে মনে চাইছেন সাত পাঁকে বাধা পড়তে. 


সেই ক্ষেত্রে, বিয়ের প্রপোজের দিনটিও করে তুলুন স্মরণীয়. বান্ধবীকে নিয়ে সোজা পৌঁছে যান ইকো পার্কের একান্তে কটেজে. চারিদিক জল দিয়ে ঘেরা আর আলোর রোশনাইতে সাজানো একটি দারুন রোমান্টিক জায়গা. একটি কটেজ আগে থেকেই বুক করিয়ে রাখুন. সারাদিনে নরমাল ভাবেই ঘুরে বেড়ান বান্ধবীর সাথে. সন্ধ্যা নাগাদ ঝিলটির পাশে বাঁধানো সেতুটিতে হাত ধরে নিয়ে যান তাকে. কিছুটা কাছাকাছি সময় কাটানোর অছিলায়, তার কানে হঠাৎ কোমল স্বরে বলুন- আমাকে বিয়ে করবে? এতটা রোমান্টিক পরিস্থিতিতে কোনো মোটেই আপনার বান্ধবী আপনাকে না বলতে পারবে না.


আবার যদি আপনি পুরোপুরি ট্রাডিশনাল ছন্দে মানে একেবারে বাঙালীয়ানা রীতিতে নিজের বান্ধবীকে বিয়ের জন্য প্রপোস করতে চান, তো আপনার জন্য আমরা দিতে পারি কয়েকটি জায়গার খোঁজ. যেমন ধরুন ইটাচুনা রাজবাড়ী. আপনারা দুজনে যেতে পারেন কিংবা, আগে থেকেই বন্ধুদের সাথে মাইল প্ল্যান করে নিন কোন সারপ্রাইস ইভেন্টের. সবাই মিলে হই হই করে গিয়ে, একটু জিরিয়ে নিয়ে, দুপুরের লাঞ্চটা আগে সেরে নিন. তারপর রাধুনিকেও বলে রাখুন স্পেশাল কোনো বাঙালীয়ানা রান্নার. সন্ধ্যার সময় বান্ধবীকে বলুন শাড়ি পড়তে, রাজবাড়ীর আঁচে কাঁচে ঘুরতে থাকুন. তারপর রাতে বিভিন্ন পদ রান্না বাতি বাতি করে সাজিয়ে আলাদা ভাবে পরিবেশন করুন বান্ধবীকে, আর বলুন- এইভাবেই সারা জীবন তোমাকে ভালোবেসে খাওয়াতে চাই, কথাটি বলেই নিজেই হাতে একটু খাবার তুলে দিন তার উদ্দেশ্যে. নিশ্চিত আপনার বান্ধবী ইমোশনাল হয়ে যাবে.


বাঙালি মানেই তো রবি ঠাকুর, তাকে ছাড়া প্রেম, বিয়ে, বা মনের কোনো অনুভুতিই যেন পূর্ণতা পায় না. তাই একেবারে রবীন্দ্রনাথের স্থাপত্যকে সাক্ষী রেখেও দিতে পারেন বিয়ের প্রস্তাব. যদি আপনার বান্ধবী একটু সাহিত্য ঘেঁষা হন, কবিতা, লেখা, গান করতে ভালোবাসেন তাহলে তার জন্য বোলপুরের সোনাঝুরি, একেবারে আদর্শ. 


সোনাঝুরিতে অন্যান্য দিন গেলে, খোয়াই নদীর ধরে নিস্তব্ধতা, গাছ থেকে পাতা ঝড়ার শব্দ মনকে খুব শান্তি দেয়. চোখের সামনে একে বেঁকে চলা খোয়াই যদি, তার সামনে বসে পর্যন্ত বিকালে, সূর্য অস্ত যেতে দেখা, কবি মনকে যেন ভাবিয়ে তোলে অনেক কিছু. এই সময়টা, একেবারে একান্তে, নিজেদের ফোনগুলিকে একেবারে পারলে, সুইচ অফ করে, কিংবা, সাইলেন্ট মোডে রেখে দিন. আর দুজনে হাতে হাত রেখে, একভাবে দেখতে থাকুন সূর্যডুবি. এর ফাঁকে হঠাৎ তার হাত টি চেপে ধরে বলে ফেলুন মনের কথা. দিন একসাথে সারাজীবন কাটানোর প্রস্তাবটি. দেখবেন আপনার কাঁধে মাথা রেখে সে আপনার প্রস্তাবে সম্মতি জানাবে.


আর যদি সোনাঝুরি যান শনিবারে, মানে হাতের দিনে. তাহলে তো আর কথা নেই. বাউল গানের তালে যেমন নেচে ওঠা যায়, তেমনি প্রেমমূলক কিছু বাউল গান রয়েছে, যেগুলি নরম শুরে গাওয়া হয়. কোনো বাউলকে সেই গাঙ্গুলি গাওয়ার রিকোয়েস্ট করুন স্পেশালি আপনার বান্ধবীর জন্য. গানের সুরে মুগ্ধ হওয়ার ফাঁকেই দিন বিয়ের প্রস্তাব.


আপনার যদি পাহাড় পছন্দ, তো যেতেই পারেন দার্জিলিং বা ডুয়ার্স. দার্জিলিঙে সকালের সূর্যোদয়ের আমেজ নেওয়ার ফাঁকে, পিছন থেকে নিজের বান্ধবীকে আলিঙ্গন করে দিতে পারেন বিয়ের প্রস্তাব. আবার ডুয়ার্সের ক্ষেত্রে, সূর্য অস্ত গেলে, মানে অন্ধকার নামলেই চলে যান, মূর্তি নদীর কাছে, মূর্তি নদী পারাপারের জন্য একটা সরু ব্রিজ আছে. স্বভাবতই জনবসতি কম, তাই কোলাহল একদম থাকে না. পূর্ণিমা রাট হলে বেশি ভালো. চাঁদের আলোয়, সামান্য আলোকিত হয় নদী, আর দূর থেকে ভেসে আসা মাদলের আওয়াজ, আর নদীর বয়ে চলার শব্দ, সব মিলিয়ে এতো রোমান্টিক একটা পরিস্থিতি তৈরী হয়, যে মানুষ একা ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে ক্লান্ত হয় না. এই সিচুয়েশন টি কিন্তু আপনার মনের কথা বলার জন্য বেশ ভালো.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।