পিসিওডি ও পিসিওস সমস্যা এড়াতে মেনে চলুন এই টিপসগুলি (How to prevent PCOD and PCOS problem?)

  • by

আগে চলুন জানি, কি এই পিসিওডি সমস্যা?

পলিসিস্টিক ওভারি ডিজিজকেই ছোট করে ডাকা হয় ‘পিসিওডি’। ‘পিসিওএস’-এর পুরো কথা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম। মেয়েদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরে নানারকম হরমোনগত ওঠানামা দেখা দেয়. এর জেরে বহুলভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, মেয়েদের ডিম্বাশয় ও ওভালিউশন. এর লক্ষণরূপে দেখা দেয়, অনিয়মিত পিরিয়ড, বা ঋতুচক্র. এমনকি চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের জেরে, মেয়েরা বন্ধ্যাত্ব সমস্যার শিকার হতে পারে.

মেয়েদের ডিম্বাশয় থেকে একটা বয়সের পর থেকে ডিম্ নির্গত হতে থাকে, পিসিওডি-র ক্ষেত্রে এই ডিম নির্গত হওয়ার নিয়মটি নির্দিষ্ট রীতি মেনে হয় না। কখনও অপরিণত ডিম, কখনও বা আংশিক সম্পূর্ণ ডিমে ভরে যায় ডিম্বাশয়। এই অপরিণত ডিমগুলো দেহ থেকে বার হতেও পারে না। এক সময় সেই ডিমগুলোই জমে সিস্টের আকার নেয়।

আর বলাইবাহুল্য, যে গতিতে ছড়াচ্ছে এই রোগটি, সেটি সত্যি ভয়ের কারণ. কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কেন এতটা বাড়াবাড়ি এই রোগের. এর জন্য দায়ী কি? দায়ী একমাত্র আমাদের খাদ্যাভ্যাস আর বাজে লাইফস্টাইল. হ্যা এইরকমই কিছু অভ্যেস বা নিয়ম পরিবর্তনের মাধ্যমেই, আমরা কিন্তু অনায়াসে ছুটকারা পেতে পারি এই রোগ থেকে. আর তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সোনাম কাপুর বা সারা আলী খান.

কাদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি-

বিশেষ করে যাদের পিরিয়ড সবে শুরু হয়েছে তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা যায়. আবার যাদের চেহারা বেশ ভারী, তারা বেশি আক্রান্ত হন, অন্যদিকে, যারা একটু বেশি সময়টাই বাইরের জাঙ্ক ফুড খান, তাদের তো বলার অপেক্ষা রাখে.

অনিয়মিত পিরিয়ডস, বা পিরিয়ড থাকাকালীন পেটে ব্যাথা বেড়ে যাওয়া, গর্ভধারণে সমস্যা, বা হঠাৎ করে আপনার ওজন একভাবে বাড়তে থাকা, মুখে ব্রণ বেরোনো, ঋতুচক্র শুরু হওয়ার আগে স্তন ভারী হয়ে যাওয়া, আবার পিরিয়ড শুরু হলেও, রক্তের ফ্লো বেশি না থাকা- সবটাই যখন এই রোগের. সে ক্ষেত্রে ডাক্তারি পরামর্শ নিয়ে, পেটের আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করালেই ধরা পড়ে এই অসুখ.

কি কি অভ্যেস পরিবর্তন করতে হবে?

এই ধরনের রোগ থেকে রেহাই পাওয়ার মূল উপায় জীবনযাত্রার পরিবর্তন।
স্ট্রেস দূরে রাখা, অন্তত ছ’-সাত ঘণ্টা ঘুম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, বাইরের খাওয়াদাওয়া বন্ধ .
আবার কোনও হরমোনাল অসুখের চিকিৎসা শুরু করলেই এই রোগ প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
যারা গর্ভবতী হওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের বলবো – পিসিওএস, পিসিওডি সামলে নিয়েই কনসিভ করার কথা ভাবা ভাল। নতুবা গর্ভকালীন সময়ে কিছু সমস্যা হলেও হতে পারে.

যোগ ব্যায়াম, নানা অ্যাবডোমিনাল এক্সারসাইজ, জগিং, জোরে হাঁটা, ব্যয়াম— যেগুলোতে পেটের মেদ ঝরে যায়, সে সব অভ্যাস করা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ডায়েট আর সঙ্গে হরমোনের অসুখ থাকলে তার চিকিৎসা করলেই, এই সমস্যা আর থাকে না.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।