হেয়ার কালার ছাড়া চুলের অকালপক্কতা থেকে বাঁচবেন কিভাবে ? (How To Maintain Your Black Hair Naturally?)

  • by

আমরা নিজেদের স্টাইল বা কিছুটা নিজেদের ইচ্ছা অনুসারে চুল রং করতে পছন্দ করি. নিজেদের ফ্যাশনেবলও লাগে. কিন্তু ঘন কালো চুলের একটা অন্য ব্যাপার আছে. যেটা অন্য যেকোনো হেয়ার কালারের থেকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় লাগে. কিন্তু প্রব্লেম তা হলো চুলের এই প্রাকৃতিক কালো রংটি বজায় রাখা ভীষণ ঝক্কির বিষয়. আর কালো চুলের সবচাইতে বোরো শত্রূই হলো পাকা চুল. মানে সাদা চুল.বিশেষ করে বিবাহিতা মহিলাদের, যারা বহুদিন ধরে সিঁদুর পড়ছেন, তাদের ঠিক সামনের দিকের চুলগুলি, পেকে যায়.বিশেষ করে বিবাহিতা মহিলাদের, যারা বহুদিন ধরে সিঁদুর পড়ছেন, তাদের ঠিক সামনের দিকের চুলগুলি, পেকে যায়.

আবার, অন্যদিকে, যাদের লিভারের সমস্যা আছে, বদহজম, বা রাত জাগার কারণে, স্ট্রেস বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার কারণে, আবার ইঞ্জিনিয়াররা যারা বাইরে সাইটে কাজ করেন, প্রতিদিনের দূষণের সাথে মোকাবিলা করতে গিয়ে, তাদের চুল নিজের রং হারায়.

তাই অগত্যা হেয়ার কালারের ওপরই মানুষকে নির্ভর করতে হয়. আর হেয়ার কালার এপলাই করা মানেই তো আরো কয়েকটি সমস্যায় নিজের চুলকে জড়িয়ে ফেলা.

তো চলুন দেখে নি প্রাকৃতিক উপায়ে, চুলের রং কালো রাখা যায় কিভাবে.

১. নারকেল তেল আর লেবুর রস-

চুলের সব ধরণের পুষ্টি জোগাতে নারকেল তেলের কোনো বিকল্প নেই. কিন্তু চুলের স্বাভাবিক রং বজায় রাখতেও নারকেল তেলের জুড়ি মেলা ভার. নিজের চুলের ঘনত্ব ও লম্বা অনুসারে একটি কাঁচের বাটিতে নারকেল তেল নিন, তাতে অ্যাড করুন তিন চামচ পাতি লেবুর রস. তারপর ভালো করে চুলের গোড়ায় দিয়ে ম্যাসাজ করুন. ঘন্টাখানেক রেখে শ্যাম্পু করে নিন.

২. নারকেল তেল আর কারী পাতা-

আবার নারকেল তেলের সাথে কিছু কারী পাতা ফুটিয়ে নিয়ে, ছেঁকে তেলটি ঠান্ডা হলে চুলের গোড়ায় এমনকি লেংথ অনুসারে এপলাই করুন. কারী পাতায় থাকে ভিটামিন বি, যা তাড়াতাড়ি চুল পেকে যেতে দেয় না.

৩.হেনার প্রাকৃতিক রং-

চুলের রং ভালো রাখতে ব্যবহার করতে পারেন হেনা. হেনা একটি প্রাকৃতিক রঙ তাই এটি ব্যবহার করলে চুলের কোনও ক্ষতি হয়না। এক কাপ হেনা পাউডার এর সাথে এক চামচ কফি পাউডার, ১ টেবিল চামচ দই, ১ টেবিল চামচ লেবুর রস, ১ টেবিল চামচ কুচনো ব্রাম্ভি শাক, ১ টেবিল চামচ আমলা কুচি, ১ টেবিল পুদিনার গুঁড়ো আর ভিনিগার। এইবার পুরো মিশ্রণটি ঠোঠকে বানান. চুলের গোড়া থেকে লেংথ পুরোটাতেই এপলাই করুন. দুই ঘন্টা অন্তত রাখুন. তারপর শ্যাম্পু করে নিন. মাসে তিন বার করলেই, আপনার চুল পাকবে না.

৪. ব্ল্যাক কফি-

কফির নির্যাস চুলের পুষ্টি জোগাতে এমনকি চুলে একটা প্রাকৃতিক রং আনতে ভীষণ ভাবে উপকারী. একটি পাত্রে সামান্য জল নিয়ে তাতে এক থেকে দেড় চামচ কফি পাউডার দিয়ে একটু ফুটান. তারপর সেটি ঠান্ডা হলে, ওই তরলটি স্নানের আগে চুলে দিয়ে, মিনিট ১০ রাখুন. তারপর, মানে ১০ মিনিট কেটে গেলে, ওই টোরোলটির কিছুটা হাতে নিয়ে, চুলের গোড়ায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন. তারপর চুলটি ভালো করে ধুয়ে ফেলুন, কফিগুলি বেরিয়ে গেলে, শ্যাম্পু আর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন একে একে.

তো এইভাবেই এখন থেকে ক্ষতিকারক হেয়ার কালার বা হেয়ার ডাইয়ের ব্যবহারের চিন্তা একেবারে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন. এই সকল ঘরোয়া উপকরণের ব্যবহারে চুলকে করে তুলুন ঝলমলে আর প্রানোজ্বল.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।