শরীরের ক্ষতি না করে, সঠিক নিয়মে ওজন কমাবেন কিভাবে? (How to lose weight in good way? )

ওয়েট লস– মানে পাতি বাংলায় যাকে আমরা বলি অতিরিক্ত ওজনকে কমিয়ে ফেলা- এই মুহূর্তের সবচাইতে ট্রেন্ডিং টপিক। বলা যায় ওজন সংক্রান্ত সচেতনতা আমাদের মধ্যে থাকলেও, তার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ গুলি আমরা করতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রে আমরা বুঝতেও পারিনা কি করা উচিত আর কি নয়। আবার আমরা বেশিরভাগ মানুষই যেভাবে বাইরের খাবারে, তেল-ঝাল-মশলা যুক্ত খাবারে আসক্ত, সেই ক্ষেত্রে ওজন ঠিক রাখাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমি সেবা মুখার্জি -নিজে একজন অভিজ্ঞ ডায়টেশিয়ান, মানুষের সমস্যাগুলি নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ করছি, ফলে আমি আপনাদের ওজন কমানো সঠিক পদ্ধতি জানাতে পারি।

সমস্যা-

আজকাল প্রায় সকলেই চান পাঁচ কেজি ওজন একসাথে কমাতে তাও এক সপ্তাহের ব্যবধানে। কিন্তু ওজন কমানোর দৌঁড়ে কি কি ভাবে আপনি নিজের ক্ষতি করছেন, তা জানেন কি? সপ্তাহে এতো কেজি একসাথে কমালে কি কি ক্ষতি হতে পারে একবার জানলে, আশা করি, আপনার ওজন কমানোর বেগ হ্রাস পাবে।

আসা যাক আসল কথায়, একবারে অনেকটা ওজন কমিয়ে ফেললে, আমরা কিন্তু ফ্যাট লস এর সাথে মাসল লসও করে ফেলি, এছাড়াও গলস্টোন হতে পারে বা নিউট্রিশনের ঘাটতি হতে পারে, একইসাথে হতে পারে কোনো মেটাবোলিজমের সমস্যাও।

সমাধান-

ওজন কমানোর নির্দিষ্ট গতি মেনে চলা-

তো তাই আমাদের দরকার প্রতি সপ্তাহে ১কেজি করে কমানো, একমাসে আমরা খুব বেশি হলে ৪ কেজি কমালে ওজন কমানোর সঠিক নিয়ম বা গতি বজায় থাকবে।

কার্বোহাইড্রেটের গুরুত্ব-

এবার আসা যাক পরের প্রসঙ্গে, কার্বোহাইড্রেট না খেলে কি হয়-
আমাদের শক্তির উৎস কিন্তু গ্লুকোজ, তো কার্বোহাইড্রেট না খেলে আমরা সেটাই পাবো না। যার কারণে আমাদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় বাঞ্চনীয়। অন্যদিকে নিউট্রিশনের ঘাটতি ঘটে তাই আমাদের ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, যাকে বলে ড্রাই মাউথ। এছাড়াও ডাইরিয়া, নিঃশ্বাস এর সমস্যা আসতে দেখা যায়। ক্লান্তি ও চলে আসে।

আরো পড়ুন –

প্রোটিনের গুরুত্ব-

এবার বলি কার্বোহাইড্রেট না খেয়ে, খাবারের তালিকায় শুধু প্রোটিন বাড়ালে, কি কি সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়?
সমস্যা গুলি হলো
-কিডনি র সমস্যা,
-ইউরিক অ্যাসিড
-এছাড়াও রক্তে বাড়তে পারে অ্যামোনিয়া, ইউরিয়া, অ্যামিনো অ্যাসিড।

ডায়েট চার্ট কেমন হওয়া উচিত-

তো ঠিক কি রকম ডায়েট চার্ট অনুসরণ করলে, আমরা সুস্থ্য থাকতে পারবো, চলুন সেটি জেনে নেওয়া যাক-

যেটি সব কিছুর আগে আমাদের মানতে হবে সেটি হল – ব্ল্যালেন্স ডায়েট অনুসরণ করা। প্রতিদিনের খাবার এর প্লেট টাও সাজাতে হবে সেইভাবেই, মানে সঠিক সব খাদ্য উপাদান সঠিক পরিমাণে থাকবে।হ্যাঁ তবে কার্বোহাইড্রেট এর পরিমাণ ও সঠিক পরিমাণে রাখতে হবে, অবশ্যই থাকবে প্রোটিন,এবং ভালো ফ্যাট ও,আর থাকবে সমস্ত ভিটামিন এবং মিনারেলস সমৃদ্ধ খাবার ,সাথে জল।

সিম্পল কার্বোহাইড্রেট ফুড-

একজন অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ হওয়ার সুবাদে আমি বলতে পারি- আমাদের সিম্পল কার্বোহাইড্রেট খাওয়া উচিত, কিন্তু সেটার পরিমাণ- ৫০-৭৫ গ্রাম লাঞ্চে ও ডিনারে পরিমিত রাখতে হবে।
-কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট যেমন ওটস, ডালিয়া,শ্যামা চাল এর খিচুড়ি,
ব্রেকফাস্ট এ রাখতে পারি পোহা আর উপমাও,
-আর খাবো রোজ একটি করে ডিম,অনেকের প্রশ্ন থাকে ডিমের কুসুম খাবো কিনা? আমার মতে- সবটাই খাবেন, ফ্যাট দুরকম হয় একটা ভালো একটা খারাপ তো ডিম এ আছে ভালো ফ্যাট যা বাজে কোলেস্টেরোল কে কমায়,
-আর রাখতে হবে দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য।
-খেতে হবে স্যালাড যাতে শসা, গাজর ইত্যাদি ও থাকবে
-রাখতে হবে আদা,দারচিনি, গোল মরিচ, পেয়াজ, রসুন।
-ফ্যাট ও খেতে হবে রাখতে হবে বাদাম ও যার থেকে এনার্জি পাবো আর বাদাম থেকে পাবো ওমেগা থ্রি,ওমেগা সিক্স fatty অ্যাসিড,
-আর রাখবো রংবেরঙের শাক সবজি,
-আর মরসুমের ফল যেমন আমলকী,আপেল ইত্যাদি।
-সকাল এ উঠে একটু মেথি অথবা জিরা ভেজানো জল অথবা লেবু জল ও খেতে পারি।

আজই সেশন বুক করতে ক্লিক করুন – https://spark.live/consult/diet-chart-for-weight-management-and-keto-diet-with-seba-mukherjee/

এটাই হল প্রপার চার্ট। আর সব শেষে বলি, সবার ডায়েট সমান হয়না,এটা একটা সাধারণ উপদেশ মাত্র, ডায়েট চার্ট ফলো করতে গেলে সঠিক নিয়ম এ মেনে চলাই ভালো, সঠিক উপদেশ মেনে ডায়েট কমানোর জন্য অনলাইনে সেশন নিতে পারেন আমার, ভারতের নিজস্ব অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট Spark.Live এ – https://spark.live/consult/diet-chart-for-weight-management-and-keto-diet-with-seba-mukherjee/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।