ধর্ষণের মতো বর্বরতার শিকার হওয়া মহিলাদের সমাজের মূল স্রোতে ফেরাতে করুন এই কাজ গুলি (How to help rape survivors to overcome trauma?)

  • by

ধর্ষণ- কথাটি ভারতীয় সব ভাষাভাষির সবাদপত্রের সবচাইতে পরিচিত একটি বিষয়। বলতে খারাপ লাগলেও, ধর্ষণের ঘটনা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে, আমরা আপনার বাড়ির কেউ যে এই ঘটনার শিকার হবে না, তা কনফিডেন্সের সাথে বলা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু একটা এই ঘটনার যারা শিকার হন, তাদের জীবন কি ঐখানেই শেষ হয়ে যাওয়াটা বাঞ্চনীয়? কি অপরাধ তাদের, যে তারা আর সমাজের মূলস্রোতে ফিরতে গেলেই, সম্মুখীন হতে হয়, সহস্র বাধার? ভেবে দেখেছেন কোনোদিন?

ভারতে এখন বহু পরিবার রয়েছে, যাদের পরিবারের, ছোট্ট ফুলের মতো শিশু কন্যা বা কারো পড়াশোনা করে এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখা মেয়ে শিকার হয়েছে এই বর্বরতার। বলতে খারাপ লাগলেও, বাস্তবে, অনেকেই বলেন, এই সমাজে একজন ধর্ষিতা মেয়ের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ঢেড় ভালো।কারণ, তাকে এর পর থেকে সমাজ কুরে কুরে মারতে থাকে। তবে এটা কি জানেন,একটা মেয়ের পক্ষে সমাজের এই বিষয়টিকে মেনে নেওয়া কতটা কঠিন ও বেদনাদায়ক! কিন্তু সময় বদলাচ্ছে, তারই সাথে বদল হচ্ছে মানুষের মানুষিকতার।

ধর্ষিত হওয়ার পর থেকেই অনেকেই সমাজের লোক লজ্জার ভয়ে বাড়ির থেকেই বেরোন না৷ আপনার পরিচিত বা কোন প্রিয় মানুষ যদি হন এর শিকার, তবে কিভাবে, সেই জায়গা থেকে নিজেকে বার করে আনবেন, চলুন চোখ বোলানো যাক।

কি করবেন –

১) এই ঘটনার পর কখনোই একা রাখবেন না তাকে।। পরিবারের সাথে বেশী করে সময় কাটানোর ব্যবস্থা করুন তার। পারলে বন্ধুবান্ধবের সাথে, বেশী সময় কাটাতে হবে তাকে। দেখবেন নিজেকে অনেকটা হাল্কা মনে করবে সে। আপনারাও তাদের সাহায্য নিন এবং আগামীদিনে এই পরিস্থিতি থেকে কিভাবে বেরবেন! তাদের পরামর্শ নিন।

২) এই ঘটনার পর সামাজিক এবং পারিবারিক চাপে পড়ে অনেকেই আত্মহত্যা করার মনোভাব রাখেন, তবে এই জিনিসটা করা একদমই ঠিক হবে না। এই সময় নিজের মনোবল ঠিক রাখতেব পারেন না বেশির ভাগ মানুষই। তাই এটা তার পরিবার কাছের লোক এমনকি বন্ধুবান্ধবদের দায়িত্ব সেইদিকে খেয়াল রাখা, তার মনোবল বাড়ানোর জন্য তাকে সাহস যোগান। পারিপার্শ্বিক কেউ এই নিয়ে প্রশ্ন করলে, তাকে সরাসরি উত্তর দিন।

৩) এইসময় যতটা পারবেন ভিক্টিমকে সামাজিক কাজকর্মের সাথে যুক্ত রাখার ব্যবস্থা করুন। ভারতে এই মুহূর্তে প্রচুর সোচাষবি সংস্থা আছে, যারা আক্রান্ত মহিলাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এমনকি তাদেরকে সমাজে নতুন করে দাঁড়ানোর মন্ত্র দিয়ে থাকেন। এইরকম কোন এনজিও তে তাকে যোগদান করানোর ব্যবস্থা করুন। অন্যান্যদের জীবন যুদ্ধের কাহিনী শুনেও, সে বা তারাও, নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে পাবে।

৪) শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতে যাতে নিজের এবং অন্যের কারোর সাথে এই ঘটনা না হয়, তার জন্য শারীরিক ভাবে নিজে এবং অন্যদেরও প্রশিক্ষিত করা খুবই দরকার। যাতে এইধরনের কোনো রকম পরিস্থিতি আসলে, তা মোকাবিলা করার সাহস তিনি রাখতে পারেন। নিজের সাথে সাথেই অন্য মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করুন। সব ভুলে, নিজেকে একটি সফল মানুষ করে তুলুন, তবেই ধর্ষকরা তাদের আদর্শ সাজা পাবে।

৫) পরিচিত যে মেয়েটি বা মেয়েরা এই ঘটনার শিকার হয়েছেন, তাদের যদি একবার মানসিক শক্তি জোগাতে পারেন, তাহলে তারাই হয়ে ওঠে, সবচাইতে বাস্তববাদী মানুষ। মানসিক শক্তি জোগাতে তাদের যতটা সম্ভব মানুষের অসহায় পরিস্থিতির সাথে লড়ার বা কঠিন পরিস্থিতিতেও উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা রাখা মানুষদের সত্যি গল্পগুলি বলুন। প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করতে থাকুন। ভালো ভালো মোটিভেশনাল ভিডিও দেখান।

৬। অবশ্যই কোনো মনোবিশেষজ্ঞদের মানে কাউন্সিলিং চালু করুন তার। কারণ যে আত্মবিশ্বাস তার ভেঙে গেছে, তা আবার তৈরী করতে, নিয়মিতই তার কাউন্সিলিং ভীষণভাবে প্রয়োজন। তাকে বোঝাতে হবে, সে কোন ভুল করে নি, যে তাকে সবার আড়ালে থাকতে হবে। বরং তাকে সকলের সামনে এসে দোষীদের শাস্তির জন্য লড়তে হবে।

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, ধর্ষণ মানেই, শরীরিক যত্রণার থেকেও কঠিন হল মানসিক যন্ত্রনা। কোন মেয়ে ধর্ষিত হলে, শুধুমাত্র সে ভুক্তভুগি হয় না, সমাজের চোখে অপরাধী হয়ে দাঁড়ায়, মেয়েটির পরিবারও। কিন্তু পরিবারই একমাত্র যে এই মুহূর্তে পাশে না দাঁড়ালে, মেয়েটির বেঁচে থাকার আশা শেষ হয়ে যায়। তাই কোন অবস্থাতেই, তার হাত ছাড়বেন না। মেয়েটির হাত ছাড়া মানে ধর্ষকদের বাহবা দেওয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।