স্বামীর ব্যস্ততাকে সঙ্গী করেই সংসার সুখের করে তুলুন ! (How to deal with a Workaholic partner)

  • by

অতিরিক্ত কাজের চাপে সংসারে মন দেওয়ার সময় নেই স্বামীর, এদিকে নিজের অফিস, ছেলে মেয়ের স্কুল, সংসারের কাজ সব সামলাতে হয় আপনাকেই একা নিজের হাতে। এমনকি দিনের শেষে দুজনের কথা বলার সময়টুকুও অনেকসময় পাওয়া যায়না। কিন্তু দিনের পর দিন এরকম হতে থাকলে হতাশা আপনাকে গ্রাস করবেই। তাই আপনারও যদি জীবনে এরকম ক্রাইসিস সিচুয়েশন তৈরী হয় তাহলে কিছু উপায় খুঁজে বার করতেই হবে। আসুন একটু জেনে নেওয়া যাক-

১) কিছু নিয়ম ঠিক করুন –

আপনার স্বামী যদি সারাক্ষন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তার পিছনে দুটো কারণ হতে পারে-

ক) তার বস তার উপর প্রচুর কাজের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছেন নয়তো
খ) তিনি নিজেই কাজ করতে খুব ভালোবাসেন।

কারণটা যাই হোক না কেন স্বামীকে বোঝা খুব দরকার। হয়তো আপনার স্বামী এমন একটা দায়িত্বশীল পদে আছেন যেখানে সব কিছু সামলে সংসারের প্রতি সমান নজর দেওয়া আর হয়ে ওঠেনা।

এখানেই আপনার ভূমিকাটা জরুরি, তাই কিছু নিয়ম সাজিয়ে রাখুন, উনি যদি রাত করে বাড়ি ফেরেন , তাহলে ঠিক করে নিন অন্তত ব্রেকফাস্টটা দুজনে একসঙ্গে করবেন। আর সেই সময়টা কেউই ফোন ঘাঁটবেননা , সপ্তাহে অন্তত একদিন লাঞ্চ কিংবা ডিনার এ যান একসঙ্গে, ফাঁক বুঝে একটু সময় বার করাই যাবে দুজনের জন্য।

২) নিজেকে সময় দিন-

পার্টনার কাজে ব্যস্ত বলে নিজের সময়টা নষ্ট করবেন না। আপনি চাকরি করলেতো কথাই নেই, গৃহবঁধূ হলেও নিজের পছন্দের কিছু কাজ করুন। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করুন, নতুন কিছু শিখুন, ফিটনেস ক্লাস এ যোগ দিন। মোট কথা এমন কিছু করুন যাতে দিনের শেষে মনে হয় সময়টা খুব ভালো কাটলো।

৩) কোয়ালিটি টাইম এর উপর জোর দিন –

খুব বেশি সময় পাওয়ার আশায় মন খারাপ করে বসে থাকবেন না, যেটুকু সময় পাবেন দুজনে তা যতই অল্প হোক না কেন ভালো করে গল্প করে কাটান, মনের কথা আদান প্রদান করুন।

৪) নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না –

স্বামী যদি প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারেন মনের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরী হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক, স্বামীর সঙ্গে খোলাখুলি ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলুন। যেকোনো সম্পর্ক সফল করে তোলার জন্য দুজনের মধ্যে খোলা মেলা আলোচনা করা খুবই জরুরি, দুজনের মধ্যে স্বচ্ছতা থাকলে নিরাপত্তাহীনতা সম্পর্কে ঢুকতেই পারবেনা।

সবশেষে বলবো, আপনার পার্টনার যদি কাজে ব্যাস্ত থাকার ফলে কিছু করে উঠতে পারছেন না, তাহলে পরিস্থিতিটি বোঝার চেষ্টা করুন। আপনার পার্টনারের পরিপূরক রূপে নিজেই রোমান্টিক সময় কাটানোর ব্যবস্থা করুন তার সাথে। কারণ তিনিও হয়তো আপনাকে সময় দিতে না পেরে মন খারাপ করেন, সেই অবস্থায় আপনার সারপ্রাইজ রোমান্টিক ডের প্ল্যান দেখে তিনি খুশি হয়ে যাবেন, আর তার অবস্থা আপনি বুঝতে পারছেন জানতে পেরে, আপনার ওপর একটা ভালোলাগা জন্মাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।