ত্বক অনুসারে সঠিক ফাউন্ডেশন বাছবেন কিভাবে? (How to choose the right foundation for your skin tone)

  • by

ফাউন্ডেশন- মেয়েদের নিত্য জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেকাপ অবলম্বন হল ফাউন্ডেশন. নরমাল দিনগুলিতে ফাউন্ডেশন এখন আমরা খুব একটা ব্যবহার না করলেও, কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে, বা কোন স্পেশাল ইভেন্টে যাওয়ার আগে আমাদের মেকাপে অ্যাড করতেই হয় ফাউন্ডেশন. আবার যদিও অনেকেই প্রতিদিনের মেকআপেই কম বেশি নির্ভর করেন ফাউন্ডেশনের ওপর. কারণ কখনোই একটা বিবি ক্রিম ফাউন্ডেশনের মতো পারফেক্ট লুক আনতে পারে না. একদম পার্টি রেডি লুক্সের জন্য ফাউন্ডেশন মাস্ট, মানে লাগবেই.

কিন্তু এই বেস্ট দেখার ঝক্কিতেই আমরা সব থেকে বেশি হোঁচট খাই. কারণ আমরা অন্যদের দেখে নিজের মেকাপের ডিটেলসগুলি সেট করি. ওই মেয়েটি বা ওই অভিনেত্রী অমুক প্রোগ্রামে কেমন সেজেছিল, সেটি কপি করতে গিয়েই, সব খারাপ করে ফেলি.

আমাদের মাথায় একটা বদ্ধ ধারণা আছে, ফাউন্ডেশন মুখ ফর্সা করতে ব্যবহার করা হয়. আর তার জন্যই অনেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল টোনের ফাউন্ডেশনটাই কিনে ফেলেন. আর তার ফল- একটা বাজে মেকাপ. তাই নিজের ফাউন্ডেশনটি চয়নের ক্ষেত্রে কিছু জিনিস আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে. সেগুলি কি কি, চলুন জানা যাক-

১. প্রথমেই বলবো ফাউন্ডেশন চয়নের প্রথম ধাপই হল আগে নিজের স্কিনকে বোঝা. মানে, আপনার স্কিনের টোনটা কি? কালো, শ্যামবর্ণ, হলদেটে ফর্সা, গোলাপি ফর্সা নাকি ফ্যাটফ্যাটে ফর্সা. কারণ প্রতিটি স্কিন টোন অনুসারে কিন্তু আলাদা আলাদা ফাউন্ডেশন পাওয়া যায় মার্কেটে. তাই নিজের তিনটির থেকে অতিরিক্ত উজ্বল টোন ব্যবহার যেমন আপনার মুখকে বেশি সাদা করে দিতে পারে, যেটি খুবই হাস্যকৌতুক হয়ে ওঠে, আবার নিজের টোনের তুলনায় হালকা টোন ব্যবহার করলে, আপনার মেকাপের কোনো মানেই থাকবে না, কারণ আপনার মুখ খুব বিবর্ণ দেখাবে.

২. মাথায় রাখবেন- মেকাপ মানে কোনো অর্থেই, তা অতিরিক্ত ফর্সা দেখানো নয়. মেকাপ মানে হল আপনার স্কিনের কিছু আসমান বর্ণকে ঠিক করা, স্কিনের ডালনেস কমিয়ে স্কিনের টোন অনুসারে একটা পরিষ্কার লুক্স তৈরী করা. কোনোভাবেই আপনার মেকআপটি যেন অতিরিক্ত না লাগে. কারণ তাতে মেকআপটি অনেকটাই কৃত্রিম বলে মনে হয়.

. তাই একসাথে অনেকটা ফাউন্ডেশন দেওয়া মানেই মেকাপ বেশি ভালো হয়, তা কিন্তু একেবারেই নয়. স্কিনের টোন অনুসারে তার কিন্তু একটা মাপ আছে. বেশি মেকাপ দিলেই আপনার স্কিন সুন্দর দেখানোর পরিবর্তে অনেকটাই জোকারের মতো দেখাবে. সেটি নিশ্চই আপনি চান না. তাই ফাউন্ডেশনের সঠিক মাপটি খেয়াল রাখবেন.

৪. যেমন নিজের স্কিনটোন বুঝতে হবে, ঠিক তেমনি আপনার স্কিনের ধরণটাও বোঝা খুব জরুরি ফাউন্ডেশন সিলেক্ট করার ক্ষেত্রে. মানে আপনার স্কিন ড্ৰাই, তৈলাক্ত, সেনসেটিভ নাকি কম্বিনেশন – বুঝুন আগে.

  • তৈলাক্ত স্কিনের জন্য- যদি আপনার স্কিন খুব তৈলাক্ত, তো আপনি ব্যবহার করুন পাউডার ফাউন্ডেশন বা অয়েল-ফ্রি ফাউন্ডেশন. কারণ এই ধরণের ফাউন্ডেশনের শুষ্ক পার্টিক্যালেসগুলি আপনার ত্বকের অতিরিক্ত তেল শুষে নেবে আর আপনার ত্বকে একটা ম্যাট ফিনিস লুক্স দেবে.
  • সেনসেটিভ স্কিনের জন্য- যাদের স্কিনে অনেক সমস্যা মানে ব্রণ, আকন বা পিগমেন্টেশনের সমস্যা খুব স্পষ্ট, তাদের জন্য বলবো কোনো অয়েল বেসড ফাউন্ডেশন সিলেক্ট করবেন না.
  • কম্বিনেশন স্কিনের জন্য- এই ধরণের স্কিনের ক্ষেত্রে সঠিক ফাউন্ডেশন সিলেক্ট করাটা ভীষণ কঠিন. কারণ স্কিনের কিছুটা অংশ থাকে তৈলাক্ত আর বাকি অংশ থাকে শুষ্ক. তাই আপনাকে দুই ধরণের ফাউন্ডেশন মিশিয়ে ব্যবহার করে বেস্ট. দুটির পরিমান যেন হয় একই অনুপাতের.
  • ড্ৰাই স্কিনের জন্য- যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তারা ব্যবহার করুন হাইড্র্যাটিং ধরণের পাউডার বেসড, কিংবা লিকুইড ফাউন্ডেশন. যেগুলিতে ক্রিমি ভাবতা বেশি থাকবে, কারণ এই ধরণে ফাউন্ডেশন আপনার স্কিনে একটা চকচকে বা তৈলাক্ত ভাব দেবে. স্কিনের ডালনেস লোকানো সম্ভব.

৫. দোকানে গিয়ে ফাউন্ডেশন এর স্যাম্পল দিতে বলুন. তারপর তার থেকে একটা ড্রপ নিয়ে, থুতনির দুইপাশে গালের নিচে ফাউন্ডেশন লাগান, আর আঙুলের যোগ দিয়ে রাব করে সেটা স্কিনের সাথে মেলাতে থাকুন. যদি ফাউন্ডেশনের রং আপনার স্কিনের সাথে মিশে যায়, তাহলে বুঝবেন সেটিই হল আপনার আদর্শ ফাউন্ডেশন.

৬. আরেকটা বিষয় মাথায় রাখবেন, ফাউন্ডেশন ব্যবহারের আগে মুখ ভালো করে পরিষ্কার করে নিয়ে, প্রপার ময়শ্চারাইস করুন. ডাইরেক্ট স্কিনে এপলাই করবেন না. আবার ফাউন্ডেশন ব্যবহারের পরে কোনো ফেস পাউডার অবশ্যই লাগান, ফাউন্ডেশনটি মুখে বসানোর জন্য. নইলে শুধু ফাউন্ডেশন লাগিয়ে বাইরে বেরোলে, খুব কম সময়ের মধ্যেই তা কালো হয়ে যায়.

বুঝতেই পারছেন- ফাউন্ডেশনের সঠিক চয়ন কতটা জরুরি. দেখো না অনেক নামি দামি কোম্পানির ফাউন্ডেশন বাজারে পাওয়া যায়. তার মধ্যে থেকে সেটিই নিজের জন্য বাছুন, যেটি আপনার স্কিনকে সুট করে. আর আমাদের জানান আপনার স্কিনের টোন আর ধরণ অনুসারে, কোন ফাউন্ডেশনটি আপনার জন্য বেস্ট.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।