ঘুমের ওষুধ ছাড়া ঘুম আসছেনা? জেনে নিন কি করণীয়! (How to avoid sleeping pills addiction with these simple steps?)

  • by

এক আধদিন রাত জাগা এক ব্যাপার, আর দিনের পর দিন এই সমস্যা নিয়ে বেঁচে থাকাটা যেন এক যন্ত্রণার আকার নেয় । বিশেষ করে যারা জানেন পরদিন সকালেই কাজে বেরোতে হবে এবং পারফরম্যান্সে কোনোরকম ঘাটতি হলে কর্মক্ষেত্রে কেও আপনার ঘুম না হওয়া বা ইনসমনিয়ার সমস্যা বুজবেন না ।এই পরিস্থিতি থেকে বেরোনোর পথ আপনাকেই খুঁজতে হবে, এবং এটাও খুব সত্যি যে ইচ্ছে আর উপায় থাকলে ঘুমের ওষুধের গ্রাস থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

কিন্তু যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন তারা মনে রাখবেন এই ওষুধ কিন্তু এডিক্টিভ তাই নেশাটাও চট করে ছাড়বেনা। কখনো কখনো এরজন্য অনেক অসুস্থতা হতে পারে তখন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া খুব জরুরি, কিন্তু তার আগে কিছু ঘরোয়া সমাধান ট্রাই করে দেখুন-

ঘরোয়া সমাধান

১। মানুষ কিন্তু নিশাচর প্রাণী নয় , তাই আপনি যতই মাঝরাত পর্যন্ত জেগে দরকারি কাজকর্ম করার অভ্যেস তৈরী করুন না কেন, তার ফল খুবই খারাপ হবে। তাই বেশি রাত করে শোয়ার অভ্যেসটা আগে পাল্টান, যারা নাইট শিফট এ কাজ করেন তাদের সত্যিই কিছু করার নেই, বাকিরা কিন্তু প্রতি রাতে একটা নির্দিষ্ট সময়ে শুতে যাওয়ার অভ্যেস তৈরী করুন।

। আজকাল যেহেতু মোবাইল ফোনই বিনোদনের মুখ্য মাধ্যম হয়ে উঠেছে , তাই বিছানায় শুয়ে রাতের পর রাত সিনেমা বা ওয়েব সিরিজের একটার পর একটা এপিসোড দেখাটাও মানুষের নিত্যদিনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। নয়তো আবার রয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতে চ্যাটিং , এর প্রত্যেকটি আপনার ঘুমের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই রাতে শুয়ে এগুলো থেকে দূরে থাকুন, একটু রিলাক্স করুন।

৩। সারাদিন কি করলেন না করলে সেসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন দেখবেন ধীরে ধীরে ঠিক ঘুম আসবে।

৪। ডিনার সারুন ঘুমের অন্তত ২ ঘন্টা আগে। তারপর খানিকটা পায়চারি করলে খাবার হজম হয় খুব তাড়াতাড়ি। অনেকসময় অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণেও ঘুমের অসুবিধা হয়।

৫। একটু মাথায় হালকা তেল লাগিয়ে উষ্ণ জলে স্নান করতে পারেন। খুব নিচু আওয়াজে শুনতে পারেন পছন্দের মিউসিক।

৬। প্রথমদিকে অসুবিধা হলেও একদম হাল ছাড়বেননা, মাসখানেকের মধ্যেই আপনার শরীর এই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেবে।

৭। ঘুমের ওষুধ হটাৎ করে বন্ধ করলে অনেকসময় মাথা ঘোরে , ক্লান্তি অনুভব হয়, খিটখিটে লাগে কিন্তু যেটাই হোক একটু ধৈর্য্য ধরে থাকুন এই পরিস্থিতি থেকে ঠিক উঠে দাঁড়াতে পারবেনা। নিজের উপর আস্থা রাখুন আর ক্ষেত্র বিশেষে সাইক্রিয়াটিস্ট এর পরামর্শ নিন।

৮। এছাড়াও ঘুমনোর আগে গভীর নিঃশ্বাসের সাথে ব্যায়াম করতে পারেন। এতে শরীর এবং মন দুটোই রিল্যাক্স থাকে এবং ঘুম তাড়াতাড়ি আসে। বিছানায় সোজা হয়ে শুয়ে মনে মনে এক থেকে সাত পর্যন্ত মনে মনে গুনুন। গভীর ভাবে নিঃশ্বাস নিন। ৪-৫ সেকেন্ড নিঃশ্বাস আটকে রাখুন। এরপর মনে মনে ১-১০ পর্যন্ত গুনতে গুনতে মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। এতে শরীর একটু হলেও শিথিল হয়ে পড়ে। এর ফলে আপনার মন চিন্তা মুক্ত হয়। চিন্তা মুক্ত থাকলে, ঘুম সহজেই চলে আসে।

৯। দিনের অন্যান্য,অভ্যাস যেমন, অনিয়ম করে ঘুমানো, মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া, ঘুমনোর আগে ভারী খাবার খাওয়া আপনার ঘুমের ক্ষেত্রে নেগেটিভ প্রভাব ফেলতে পারে।

১০। ভালো ঘুম হওয়ার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশী দরকার তা হল, ভালো ঘুমের পরিবেশ তৈরী করা। তাই খেয়াল রাখুন আপনার ঘরটি যেন, শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক হয়।

একমাত্র এইগুলিতেই ঘুমের ঔষুধ ছাড়া আপনি ঘুমতে পারবেন। আজি এমনকি আজ রাত থেকেই এই পদ্ধতিগুলি নিজে জীবনে প্রয়োগ করতে শুরু করুন, বেশি না একমাস এইভাবে জীবন কাটালেই, আপনি পরিবর্তন খুঁজে পাবেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।