সোশ্যাল মিডিয়া অনুসরণ করে ডায়েট করা কতটা যুক্তিসঙ্গত? (How reasonable is it to follow a diet following social media?)

এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করেন টিনএজ কিশোর কিশোরী থেকে শুরু করে বয়স্ক দাদু ঠাকুমা পর্যন্ত, প্রত্যেকেই নিজের নিজের ব্যস্ততা থেকে খানিকটা খোলা বাতাস পাওয়ার জন্য আর নিজের মনের ভাবনা গোটা পৃথিবীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করেন। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামে ছবি হোক কিংবা মনের কথা, সব বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে নেওয়া যেন মাস্ট। আজ দুপুরে কে কী খেল, রাতে কার সঙ্গে ঝগড়া হল, কে কোন গ্রূপ জয়েন করলো, নিজের কথা যেমন না জানালে আমাদের খাবার হজম হয় না। তেমনই ভার্চুয়াল বন্ধুদের হাঁড়ির খবর না জানলেও দিনটা যেন কাটতেই চায় না।

সোশ্যাল মিডিয়ার নেশা

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/diet-chart-to-stay-fit-and-cure-diseases-by-nutritionist-tuli-halder-bengali

এখন সোশ্যাল মিডিয়ার নেশায় জড়িয়ে পড়ছেন প্রত্যেক বয়সের মানুষই। ছোট ছোট বাচ্চারাও ব্যবহার করছে তাদের বাবা বা মা কিংবা কোনও অভিভাবকের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। আজকালকার বাবা মায়েরাও বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখতে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন স্মার্টফোন এবং তারই সঙ্গে থাকছে পাসওয়ার্ড বিহীন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট। কিশোর কিশোরীরাও মনের আনন্দে ব্যবহার করে যাচ্ছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম।

সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের সৌন্দর্য তুলে ধরা

নিজেকে সুন্দর করে তুলতে আমরা কে না চাই বলুনতো? কিন্তু তা যদি শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখানোর জন্য বা শোঅফ করার জন্য হয় তা কিন্তু মোটেও ঠিক কথা নয়। বেশিভাগ সময় টিন এইজ ছেলে মেয়েদের মধ্যেই দেখা যায় এই প্রবণতা, আর নিজেকে সুন্দর দেখানোর হওয়া আজকাল রোগা হওয়া যেন একটা ফ্যাশন হয়ে উঠেছে। তার জন্য অনেকেই ভুল ডায়েট ফলো করতে শুরু করতে চটজলদি ওজন কমিয়ে নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়াতে সুন্দর দেখানোর জন্য যার পদ্ধতি একেবারেই ক্ষতিকারণ রূপ নিতে পারে।

গবেষণা কি বলছে?

গবেষকদের মতে, কিশোর বয়সে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার তাদের মনের উপর প্রভাব ফেলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্থ হয় কিশোরীদের মস্তিষ্ক। মস্তিষ্ক সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। তাই আপনার বাড়ির কিশোরীও যদি অতিরিক্ত পরিমাণে সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ে, তাহলে তাকে এখনই সাবধান করুন।

মেদ ঝরানোর জন্য অনেকেই শুরু করেছেন শুধুমাত্র সবজি খাওয়া। এছাড়া ওটস, টক দই এগুলোও খাচ্ছেন রোজ। ক্ষুধা পেলেও অনেক সময় খাচ্ছেন না মেদ বাড়ার ভয়ে। সপ্তাহ দুয়েক বা মাসখানেকের মধ্যেই জামাকাপড় ঢিলে হতে দেখে নিশ্চয়ই বেশ উৎফুল্লও হয়ে উঠেছেন? ভাবছেন আরও কয়েক মাস এভাবে চললেই বুঝি মেদ ঝরে হয়ে যাবেন ছিপছিপে। কিন্তু জানেন কি এই ডায়েটের ফলে আপনার শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ছে? এবং ডেকে আঁচে নানান কঠিন অসুখ।

সোশ্যাল মিডিয়া দেখে ক্র্যাশ ডায়েট

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/healthy-and-tasty-food-consultation-by-riya-bose-saha-bengali

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে আজকাল ক্র্যাশ ডায়েট শুরু করেন অনেকেই। অন্যের দেখাদেখি ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া শুরু করা এ ধরনের ডায়েট কিন্তু একেবারেই ভালো ফল দিতে পারেনা। চটজলদি ওজন কমাতে যেসব ডায়েট প্ল্যানের উপর ভরসা করেন সবাই সেগুলোকেই বলে ক্র্যাশ ডায়েট। বেশ কয়েক ধরনের ক্র্যাশ ডায়েট রয়েছে। এই ধরনের ডায়েট মূলত হাই প্রোটিন এবং জিরো কার্বোহাইড্রেট ডায়েট নামে পরিচিত। এই ডায়েট প্ল্যানে ডিমের আধিক্য বেশি থাকে। এছাড়াও কম মাত্রায় ফল, সালাড, মুরগির মাংস ও মাছ খাওয়া যেতে পারে। অনেকে আবার ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা কেবল ফল আর সবজির রস খেয়েই কাটিয়ে দেন।

ক্র্যাশ ডায়েটের কুফল

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/lose-weight-easily-with-dietician-anushree-mitra-bengali

পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া কোনও ডায়েট শুরু করা একেবারেই উচিৎ নয়। যারা ক্র্যাশ ডায়েট করে ওজন কমান, তারা এটি ছাড়লেই দ্বিগুণ গতিতে বাড়তে থাকে ওজন। এমনকি আগের থেকেও বেড়ে যেতে পারে। ক্র্যাশ ডায়েটে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া হয় না, ফলে ইটিং ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। ক্র্যাশ ডায়েটের পর যে ওজন বাড়ে, সে ক্ষেত্রে মেদ জমা হয় পেট বা তলপেটে। এই মেদের কারণে ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এই ধরনের ডায়েটের ফলে শরীরে জলের মাত্রা অত্যাধিক হারে কমে যায়। কারণ যখন প্রয়োজনের তুলনায় কম ফ্যাট খাওয়া হয় তখন দেহকোষ তার পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যাট পায় না। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই সে শরীরের অতিরিক্ত জল শুষে নেয়। ফলে গ্লাইকোজেন ভেঙে যায়। আর গ্লাইকোজেন ভাঙলেই জলশূন্যতা তৈরি হয়। শরীরে বিপাক ক্রিয়ার হার কমে যায়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

ক্র্যাশ ডায়েটের ফলে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ মাত্রা বেড়ে যায় অনেকখানি। ফলে বিষণ্ণতা, ঘনঘন মুড পরিবর্তন হতে পারে। দেহে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন আর মিনারেলের অভাবে ত্বকের ঔজ্জল্যতা হারিয়ে যায়, চুল পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, শরীরে ক্লান্তি আসে, কাজকর্মে অনীহা দেখা দেয়, অনিয়মিত ঋতুচক্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

প্রয়োজন সঠিক ডায়েটের

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/diet-holds-the-key-to-good-health-debosmita-roy-nandi-bengali

সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য অনুপযুক্ত ডায়েট করে নিজেদেরকে অসুস্থ্য করে তোলা একেবারে যুক্তিহীন, তাই এবার থেকে ডায়েটিশিয়ানদের থেকে উপযুক্ত ডায়েট চার্ট নিয়ে তবেই শুরু করুন নিজের ডায়েট। তাতে আপনাকে যেমন দেখতেও সুন্দর লাগবে ঠিক তেমনি আপনি হয়ে উঠবেন শরীর এবং মনের দিক থেকেও অনেক বেশি সুস্থ্যসবল।

Spark.Live এ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন বিশিষ্ট সকল ডায়েটিশিয়ানরা, যারা আপনার ওজন, বয়স, উচ্চতা, কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে কিনা সব জেনে তারপর আপনাদের জন্য সঠিক ডায়েট চার্ট তৈরী করে দেবেন। Spark.Live এ অতি স্বল্প মূল্যে বাড়িতে বসেই অনলাইন কন্সালটেশনের মাধ্যমে আপনারা সকলেই এবার থেকে নিজেদের শরীরকে সুস্থ্য রেখে সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজেদের সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবেন।

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন- https://spark.live/consult/dietician-sharmishtha-roy-dutta-advice-on-various-nutrition-mantras

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।