সিদ্ধিদাতা গণেশের একটি দাঁত ভাঙা কেন জানেন? (How Ganesh`s tusk was broken?)

  • by

“বক্রতুন্ডা মহা-কায়া সুরিয়া কোটি সমপ্রভা, নির্ভিগনাম কুরু মে দেভা সর্ব কারিয়া সমপ্রভা!” – মোটামুটি সিধ্যিদাতা ভিনায়কের এই মন্ত্রটিই আমাদের সকলের জানা. এখন প্রায় প্রিতিটি হিন্দু ঘর থেকে শুরু করে, বিভিন্ন ফ্যাক্টরি, কোম্পানি তে বক্রতুণ্ডের সুসজ্জিত স্থান লক্ষ্য করা যায়. যেখানে সকাল সন্ধ্যে, ভক্তির সাথে মানুষ তাদের এই প্রিয় দেবতার আরাধনা করেন. পূজা তো করেন, কিন্তু কখনো জানার চেষ্টা করেছেন, কেন ভগবান গণেশের একটি দাঁত ভাঙা? যারা গণেশ আরাধনায় আগ্রহী, এবং গণেশ পূজার সুফলে বিশ্বাসী, তাদের আলাদা করে কিছু বলার নেই. তবে আমরা অনেকেই রয়েছি যারা এটির আসল কারণ জানিই না.

Lord Ganesha , Ganesh Festival

ভগবান মাত্রই দর্শনদারিতেও তিনি পারফেক্ট হবেন, এমনটাই তো মানা হয়, কিন্তু তা স্বত্তেও আমাদের নজরে পরে কয়েকজন ভগবানের যাদের ইম্পেরফেক্ট অবয়বটিই আমরা পূজা করে চলেছি. আর বলাই বাহুল্য এই সব কিছুর পিছনে কিন্তু মাইথোলজি অনুসারে কিছু না কিছু ব্যাখ্যাও রয়েছে. তো চলুন আজ আলোকপাত করি সর্বশক্তিমান, বা একাধারে অন্তর্যামী ভগবান গণেশের দাঁত ভাঙার কাহিনী.

‘দন্তাঘাতবিদারীতারিরুধিরই’– এটি ভগবান গণেশের ধ্যান মন্ত্রের একটি অংশ, যেটিতে পরিষ্কার তার দাঁতের ওপর আঘাতের কথা বর্ণিত আছে. হ্যাঁ, আঘাতের মাধ্যমেই গণপতির দাঁত ভেঙে গিয়েছিল, এমনটাই মানা হয়. তবে এই বিষয়টিকে ঘিরে দুটি বর্ণনা, হিন্দু শাস্ত্রে উপস্থিত. তবে দুটিতেই, গণেশের, শ্রদ্ধা ও আত্মত্যাগের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া যায়.

প্রথমটি হল- পরশুরাম কান্ড –

শ্রী পরশুরাম, যিনি কিনা, দেবাদিদেব শিবের দৈব কুঠার অর্জন করেছিলেন বর হিসেবে, এবং তার জন্য দেবাদিদেবকে ধন্যবাদ জানানোর স্বার্থে কৈলাসে উপস্থিত হন, কিন্তু তখন মধ্যাহ্ন অতিক্রান্ত. তখন দেবাদিদেব, বিশ্রামে রাত, এবং তাকে পাহারা দেওয়ার ও তার বিস্ময়ে বাধা না দেওয়ার দায়িত্ব দিয়ে যান পুত্র গণেশের ওপর.

পরশুরাম কোন কিছু না মেনেই, দেবাদিদেবের সাথে দেখা করতে চাইলে, স্বাভাবিক ভাবেই গণেশ তার রাস্তা আটকে, আর তা থেকেই শুরু হয়, দুজনের মধ্যে এক যুদ্ধের. কিন্তু গণেশের শক্তি সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানতেন না পরশুরাম. ফলে গণেশের ওপর একের পর এক অস্ত্র প্রয়োগ করলেও সবটাই বিফলে যায়. সবশেষে, কিছুটা নাজেহাল হয়েই, তিনি গণেশ ঠাকুরের ওপর প্রয়োগ করেন, শিব ঠাকুর প্রদত্ত কুঠারটি. অন্তর্যামী গণেশ ঠাকুর বুঝতে পারেন যে কুঠারটি তার পিতা প্রদত্ত, তাই তার মর্যাদা রাখতে, তিনি অস্ত্রটির নিজের ওপর প্রয়োগ চুপচাপ গ্রহণ করেন. ফলস্বরূপ তার ভেঙে যায় একটি দাঁতের কিছু অংশ। অর্থাৎ সময় এলে, নিজের প্রিয়জনের মর্যাদা রক্ষার্থে নিজের মূল্যবান সম্পদও ত্যাগ করতে পিছু হতেন না গণপতি.

এইবার আসা যাক দ্বিতীয় গল্পে- মহাভারত রচনা-

ব্যাসদেবের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে, মহাভারত লেখার অনুরোধটিতে রাজি হন ভগবান গণেশ. কিন্তু শর্ত দেন, একবার লেখা শুরু করলে, তিনি থামবেন না. বেশ কিছুটা অংশ লেখার মাঝেই হঠাৎ গনেশজির পালকের কলমটি ভেঙে যায়. কিন্তু সেই সময় কলমের জন্য লেখা আটকে দেওয়া বা নতুন কলমের জন্য অপেক্ষা করা- দুটোই করতে গেলে, ব্যাসদেবের মহাভারত বর্ণনাতে ছন্দপতন ঘটবে বলে মনে করেন, গণেশ ঠাকুর. তাই তিনি কোনো কিছুর পরোয়া না করেই, নিজ শরীরের হানি করে শ্রী গনেশ ভেঙে ফেলেন একটি দাঁত। সেটিকেই কলমের মতো ব্যবহার করে মুহুর্ত মাত্র সময় নষ্ট না করে রচনা এগিয়ে নিয়ে যান. এটিতেও একই ভাবে তার নিস্বার্থ, এবং তার অনুগতদের প্রতি তার ত্যাগের প্রকৃষ্ট উদাহরণ ফুটে ওঠে.

এই কারণ গুলির জন্যই হয়তো গণপতি এতটা প্রিয় সকলের কাছে. একাধারে তিনি যেমন শক্তিশালী, তেমন বুদ্ধিমান, অন্যদিকে সকলকে সাহায্য করা বা ভুল করলে, তার শাস্তি প্রদান, আবার সঠিক কাজে, নিজেকে উজাড় করে দেওয়া- সব গুনই তার মধ্যে বিদ্যমান. আপনি কি পূজা করেন ভগবান গণেশের? কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।