কম কার্বোহাইড্রেট ডায়েট বা কিটো ডায়েট শরীরের পক্ষে কতটা কার্যকরী? (How effective is a low carbohydrate diet or keto diet for the body?)

ওজন নিয়ে আমরা আজকাল সকলেই কম বেশি চিন্তিত থাকি, অতিরিক্ত ওজন বেড়ে গেলেই তৈরী হয় শরীরের নানারকম সমস্যা। খাদ্যতালিকা থেকে যদি কার্বোহাইড্রেটের পরিমান কমিয়ে ফেলা যায় তাহলে কতটা ভালো কাজ হয়, আসুন একটু আলোচনা করা যাক।

খুব দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টায় বেশিরভাগ মানুষই ভাত খাওয়া ছেড়ে দেন। একই কারণে অনেকে রুটির সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতেও পিছুপা হন না। তারা মনে করেন, কার্বোহাইড্রেট বেশি খেলে যদি ওজন বেড়ে যায়, তখন তো মহা বিপদ। একথা ঠিক যে শরীরে প্রয়োজন অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটের প্রবেশ ঘটা ঠিক নয়, তাতে ওজন বাড়ার আশঙ্কা থাকে।

ওজন কমানোর নতুন ট্রেন্ড কিটো ডায়েট

Spark.Live এর স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন পরামর্শ করার জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/dietician-sharmishtha-roy-dutta-advice-on-various-nutrition-mantras

কিটোজেনিক ডায়েট প্ল্যানটি মেনে চললে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে। পরিবর্তে বেশি করে খেতে হবে প্রোটিন এবং ফ্যাট জাতীয় খাবার আর তা থেকেই শরীরের এনার্জির ঘাটতি মিটবে। মস্তিষ্কের দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাতে যে যে উপাদানের প্রয়োজন পড়বে, শরীর তা সংগ্রহ করবে প্রোটিন এবং ফ্যাটি খাবার থেকেই।কার্বোহাইড্রেড জাতীয় খাবার খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিলে শরীর যে বিশেষ Metabolic State এ চলে যায়, তাকেই চিকিৎসার ভাষায় কিটোসিস নামে ডাকা হয়ে থাকে। আর সেই থেকেই এই ডায়েটের নাম কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। চিকিৎসকেদের মতে শরীর যখন কিটোসিস স্টেটে থাকে, তখন প্রচুর মাত্রায় ফ্যাট বার্ন হয়, যে কারণে ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার না খাওয়ার কারণে ব্লাড সুগার এবং ইনসুলিন লেভেল একেবারে ঠিক থাকে। এছাড়াও আরও অনেক উপকার পাওয়া যায়। তবে জেনে রাখা জরুরি যে ইন্টারেনেটে কিটো ডায়েট চার্ট নিয়ে যে সব তথ্য পাওয়া যায়, তা কিন্তু সব সময় ঠিক হয় না। তাই কিটো ডায়েট প্ল্যান অনুসরণ করার আগে কখন, কী ধরনের কিটো ডায়েট খাবার খাওয়া উচিত, সে সম্পর্কে ডায়েটিশিয়ানের থেকে জেনে নেওয়াটা জরুরি। না হলে কিন্তু শরীরের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এমনকী বেশ কিছু স্কিন ডিজিজ যেমন মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারে, তেমনি শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

এই ডায়েট প্ল্যান কতটা উপকারী

Spark.Live এর স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন পরামর্শ করার জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/key-to-wellness-online-consultation-in-bangla-with-dietician-somosree

এই বিশেষ ডায়েট প্ল্যানটি মেনে খাবার খেলে একদিকে যেমন ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমন ব্লাড প্রেসারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। সেই সঙ্গে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রাও কমে চোখে পড়ার মতো। ফলে হার্টের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না। চিকিৎসকেদের মতে বেশি পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার খেলে ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এক্ষেত্রে যেহেতু একেবারেই কার্ব রিচ খাবার খাওয়া হয় না, তাই ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া কারণে হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা আর থাকে না

বেশ কিছু স্টাডির পর একথা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে কিটো ডায়েট প্ল্যান মেনে কিটো ডায়েট খাবার খেলে শরীরে প্রদাহের মাত্রা কমে। ফলে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন থাকে না, তেমনি ছোট বড় নানা রোগের কবলে পড়ার আশঙ্কাও যায় কমে। তাই এই বিষয়ে দ্বিমত নেই যে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি লুকিয়ে কিটো ডায়েটের চার্টে।

বিশেষজ্ঞদের মতে কিটোজেনেটিক ডায়েট মেনে খাবার খেলে শরীরে ইনসুলিন লেভেল ঠিক থাকে, যে কারণে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমের প্রকোপ কমতে সময় লাগে না। তবে এই ব্যাপারে একবার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত।

শুধু কম কার্বোহাইড্রেট খেলেই কি ওজন কমবে?

একটা জিনিস আমাদের বোঝা খুব জরুরি। ওজন কমার সঙ্গে ক্যালরির কিন্তু সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই মেদ ঝরাতে হলে হাই ক্যালরি জাতীয় খাবার খাওয়া কমাতে হবে। তা না করলে কোনও ডায়েট প্ল্যান মেনেই কিন্তু ওজন কমবে না। এক্ষেত্রে কার্ব সাইক্লিং চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নিয়ম করে অল্পবিস্তর হাঁটাহাঁটি বা জগিং করুন। সঙ্গে হাই ক্যালরি খাবার এড়িয়ে চলুন। দেখবেন, ওজন কমবেই কমবে, প্রয়োজনে এই বিষয়ে একবার ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে পারেন। তাতে কোনও ভুল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আর থাকবে না।

কিটোজেনিক ডায়েট কি কি খাওয়া যেতে পারে?

Spark.Live এর স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন পরামর্শ করার জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/nutrition-tips-from-koyel-pal-chowdhury-to-make-your-diet-healthier

কার্বোহাইড্রেট ছাড়াও প্রচুর খাবার রয়েছে যেগুলো আপনারা এই ডায়েট চলাকালীন খেতে পারেন নির্দ্বিধায়। যেমন- অলিভ এবং নারকেল তেল, আভাকাডো, ক্রিম, পনির, সবুজ শাক-সবজি, বাদাম, শসা, ব্রকলি এবং ফুলকপির মতো সবজি, ডিম, মাছ, মুরগির মাংস এবং মটন

কম কার্বোহাইড্রেট খাবার আরও কিছু উপকারিতা

Spark.Live এর স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন পরামর্শ করার জন্য লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/diet-chart-to-stay-fit-and-cure-diseases-by-nutritionist-tuli-halder-bengali

এই ডায়েট মেনে খাওয়াদাওয়া করলে ইনসুলিনের ক্ষমতা বাড়বে। সঙ্গে মেটাবলিজম রেটেরও উন্নতি ঘটবে, যে কারণে ওজন যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকতে বাধ্য় হবে, তেমনই গ্যাস অম্বলের মতো হজমের সমস্যার প্রকোপও কমবে। আপনারা বর্তমানে Spark.Live এর স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ানদের সঙ্গে অনলাইন পরামর্শ নিতে পারেন। নিজেদের স্বাস্থ্য সুন্দর থাকলে তবেই আপনারা বাকি জীবনটা আনন্দে কাটাতে সক্ষম হবেন। তাই আর দেরি না করে লিংটিগুলিতে ক্লিক করুন এবং পেয়ে যান আপনার জন্য সঠিক ডায়েট চার্ট।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।