বাঙালি মেয়েকে ইমপ্রেস করবেন কিভাবে?

  • by

বড্ড কঠিন প্রশ্ন. কিভাবে বা কি করলে ইমপ্রেস করা যাবে একটি মেয়েকে. তও আবার যে সে মেয়ে নয়, একজন বাঙালি রমণীকে?
বলুন দেখি কিভাবে মন জয় করা যেতে পারে এক বাঙালি মেয়ের?
অরে ভয় কি আমরা তো আছি. বাঙালি মেয়েকে ইমপ্রেস করার সবরকম টিপস নিয়ে হাজির. চলুন চোখ রাখা যাক সেই টিপ্সগুলির ওপর.
আছে ধরে নেওয়া যাক আপনার আগে থাকতেই কাউকে খুব পছন্দ. কিন্তু বলে উঠতে পারছেন না. কিন্তু সেই মেয়েটিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা, বা তার সাথে হাতে হাত রেখে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলার ইচ্ছা আপনার ষোলোআনা. আর সে যদি হয় আপনার কলেজের ক্লাসমেট কিংবা অফিসের সহকর্মী, তাহলে তো এটা ভালোই অনুমান করা যায়, যে তার অফিসে আসা না আসার ওপর আপনার দিন ভালো যাওয়াটা নির্ভর করে. এমনকি প্রতিদিন নিয়ম করে তার আউটফিট থেকে কানের দুল, ঠোঁটের আভা সবটাই লক্ষ্য রাখে. আর কাজের ফাঁকে একটু কথা, বা আপনার দিকে কতবার চোখ তুলে তাকালো তা গুনেই আপনার দিন কাটছে.
কলেজের স্যার বা অফিসের বসের কাছে সে বোকা খেলে, আপনার মুখটাই বেজার হয়ে যায়. সে মুহূর্তে তাকে সান্ত্বনা দিতে আপনাকে পৃথিবীর কোন শক্তি আটকাতে পারে না. আবার তার সাথে অন্য ছেলেদের বাড়তি ঘনিষ্ঠতা, আপনাকে ভীষণ স্ট্রেস দেয়. এই সব সিম্পটম গুলি যদি আপনার মধ্যে বিদ্যমান, তবে তো নিশ্চিত যে আপনি সেই রমণীর প্রেমে পড়েছেন.
কিন্তু মশাই, প্রেমে পড়ে শুধু দূর থেকে তাকে দেখে মন ভরালেই হবে. একেবারে না. কি ভাবছেন প্রপোস করার কথা বলছি. আরে না না. সেইদিন কিন্তু আর নেই. এখন মেয়েরা শুধু সাদামাটা প্রপসেই পটে যাবে, সেই আশা ছেড়ে দিন. নিজের সঙ্গী চয়নে এখন মেয়েরা আগের থেকে অনেক বেশি সচেতন.
হ্যা প্রেমিক চয়নে যেমন মেয়েরা, ছেলেটির পকেটের স্টেটাস দেখেন, তার সাথেই কিন্তু ছেলেটি মেয়েটিকে সত্যি ভালোবাসে কি না, সেটিও পরখ করে নেয়. তাই বলছি, শুনুন, শুধু সাদা মাতা প্রপসে হবে না. প্রেম নিবেদনের আগে মেয়েটিকে ইমপ্রেস করতে হবে. তার মনেও আপনার কিছু ভালো গুন্ দিয়ে দাগ কাটতে হবে. আপনি তার প্রতি কতটা যত্নশীল সেটি তাকে না বুঝালে, সে আপনার প্রতি কেন আকৃষ্ট হবে বলুন তো?
এই যেমন অফিসের বা পড়ার ব্যাচের তার থেকে দেখতে যতই সুন্দরী মেয়ে আসুক না কেন, আপনি নিয়ম করে তাকেই attension দেবেন. কারণ বেশির ভাগ মেয়েরাই প্যাম্পার হতে ভালোবাসেন. আর সব রকম পরিস্থিতিতেই তাদের এই চাহিদাটি একই থাকে.
অফিস বা ব্যাচ থেকে বেরিয়ে আপনার বাড়ি মেয়েটির বাড়ির উল্টোদিকে হলেও, আগে মেয়েটিকে তার বাড়িতে ছেড়ে আসুন, তার সাথে যদি অন্যান্য বন্ধুরাও থাকে, তাও আপনি পিছু হটবেন না. গাড়িতে লিফ্ট দিতে পারেন, কিংবা ওলা বা উবের বুক করে বাড়ি অবধি পৌঁছে দিন. আর তার বাড়ি যদি অনেকটাই দূরে হয়, মানে ধরুন সল্টলেক থেকে নৈহাটী, তাহলে বিধাননগর স্টেশন অবধি কিন্তু আপনি আসতেই পারেন.
আর বাড়ি পৌঁছে তাকে আপনাকে ইনফর্ম করতে বলে দিন. এতে মেয়েটি বুঝবে আপনি তার সেফটি নিয়ে খুবই চিন্তিত. আর তার সাথেই আপনাকে দায়িত্ববান ভাবতেও দ্বিধা করবে না. কিছুদিন যেতে না যেতেই যদি সেও আপনাকে ফোন করে খোঁজ নেয় যে আপনি ঠিকঠাক বাড়ি পৌঁছেছেন কিনা – তো বুঝতে হবে কেল্লা ফতে. আপনার পরিশ্রম ঠিক দিকে যাচ্ছে.
আপনি যদি অফিসে তাড়াতাড়ি পৌঁছে যান, তো ফোন করে সে কতটা দূরে আছে জানুন. আপনি যদি নিজের বাইকে যাতায়ত করেন, তো তাকে লিফ্ট দেওয়ার অফার করুন, এই ক্ষেত্রে বলতে পারেন- যে সে দেরিতে এলে, বস তার ওপর চিৎকার করবে, সেটা কাটাতেই আপনি তাকে লিফ্ট দিতে চাইছেন.
কাজের ফাঁকে, নিজেই উঠে নিজের জন্য আর তার জন্য কফি বা চা নিয়ে যান. আবার তাকে পাঁচ মিনিটের ব্রেক নিতেও বলতে পারেন. সেই ফাঁকে একটু বেলকনিতে দুজনে চা বা কফির কাপ হাতে নিয়ে, দু একটা কথা বলুন. অথবা চা বা কফি খাওয়ার জন্য তাকে ইনসিস্ট করুন আর বলুন যে এতে কাজের স্ট্রেস একটু কমবে. তাতে সেই বাঙালি মেয়েটি বুঝবে, যে আপনি কিন্তু তার খেয়াল রাখছেন পদে পদে.
এটি অবশ্যই লাঞ্চ টাইমে তার সাথে ম্যাক্সিমাম সময়টা কাটান. সেই ফাঁকে তার কাছে তার পরিবারের সম্পর্কে, তার ভালো লাগা, খারাপ লাগা নিয়ে জানতে চান. পুরোনো প্রেমের কথা কিন্তু জানতে চাইবেন না. একমাত্র সে নিজে থেকে বলতে চাইলে, তবেই তাতে আগ্রহ দেখান. এই ফাঁকে যদি সেও আপনার পরিবার ও পছন্দ- অপছন্দের বিষয় জানতে চায়, তো এটা কিন্তু আপনার জন্য ভালো সাইন.
যদি জানতে পারেন, তার পরিবারের কোনো অসুবিধার কথা, বা কারো অসুস্থতার কথা, খোঁজ নিতে থাকুন. আর যদি মেয়েটি নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তবে তো খোঁজ নেওয়ার মাত্রা সিরিয়াসলি বাড়াতে হবে. এমনকি সে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছে কি না, ঠিকঠাক ওষুধ কাছে কি না, সবটাই কিন্তু খোঁজ নিন. দেখতে হবে আপনি তার সুস্থ হওয়ার জন্য কতটা কনসার্ন.
এর পর আসি আর একটু ডিটেল্সে. এতো কিছুর পর সে কিন্তু আপনার তার প্রতি দুর্বলতা বেশ টের পেয়েছে. এইবার পালা আপনার চোখে সে কতটা সুন্দরী সেটা বোঝানোর. প্রথমেই কিন্তু তার পোশাক নিয়ে আপনার বিশিষ্ট টিপ্পনীটা দেবেন না. সে যে পোশাকেই আসুক না কেন, মুখে মিষ্টি হাসি রেখে বলুন, ভালো লাগছে. প্রতিদিন আপনার মুখে ভালো লাগছে শুনতে শুনতে সে কিন্তু বিরক্ত হবে না. বরং বুজবে, অফিসে কেউতো এমন রয়েছে যে তাকে সুন্দরী ভাবে, তাকে অন্তত নোটিস করে.
কিছুটা সময় কাটানোর পর, গল্প করার অছিলায় তাকে জানান, আপনার পছন্দের পোশাক সম্পর্কে. বলুন- আপনার মনে হয়, তাকে অমুক পোশাকে ফাটাফাটি লাগবে. আর অপেক্ষা করতে থাকুন, সে কোনদিন সেই পোশাক পড়ে. যদি সে আপনার পছন্দ মতো পোশাক পড়ে আসেন, তবে এটা পরিষ্কার, সে আপনার প্রতি আগ্রহী. এইবার কিন্তু বুঝতে হবে সে পুরোপুরি আপনার ওপর ইম্প্রেসেড. ব্যাস আর দেরি নয়, বলেই ফেলুন নিজের মনের কথা. 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।