মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ভারত তথা আমাদের রাজ্য কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ? (How Committed Is India to Mental Health?)

মানসিক অবসাদ-

এই মুহূর্তে হট টপিকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। বিশেষ করে বলিউড তারকা, বহু মানুষের হার্টথ্রব সুশান্ত সিং রাজপুতের আকস্মিক মৃত্যু অনেকের মনেই নতুন করে চমক দিয়েছে এই টপিকটিতে। অনেকের মনের এককোনে লুকিয়ে থাকা অবসাদ এখন অনেকটা প্রশস্থ হয়ে উঠেছে, এই ঘটনাটির পর। নিজেদের নিয়ে ভাবতে, নিজের মধ্যে চেপে রাখা সমস্যাগুলি নিয়ে কথা বলতে মানুষ তৎপর হয়ে উঠেছেন। সেই সময়ে ভারতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে চিকিৎসা বা ভাবনা-চিন্তা ঠিক কি রকম স্থানে দাঁড়িয়ে আছে, সেটা আমরা অনেকেই জানি না। মানসিক অসুস্থতার মতো সিরিয়াস ব্যাধিকে ভারতে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটাই জানতে আমরা চোখ রেখেছিলাম কিছু তথ্যে-

কথায় কথায় মন খারাপ? সবসময় কান্নাকাটি! এইটাই ভয়ঙ্কর মানসিক অবসাদের একমাত্র লক্ষণ। আর এতে কমবেশি আক্রান্ত আমি আপনি সকলেই। কোভিডের সংক্রমণকে রুখতে সারা দেশ জুড়ে শুরু হয় লকডাউন। আর এতেই প্রায় তিনমাস সকলে,ঘরবন্দী অবস্থায় কাটিয়েছেন। ফলে কাজে কোনোরকম ইনভলভ না থাকার কারণে অনেকেই বাড়িতে বসেই মানসিক অবসাদের শিকার হচ্ছেন। আমাদের মতোন দেশে প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন মানসিক অবসাদে ভোগেন। এখন প্রশ্ন হলো এই মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ভারত তথা আমাদের রাজ্য কতটা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ?

নিজেকে হাসিখুশি করে তুলুন Spark.Live-এর মনোবিশেষজ্ঞদের সাহায্যে

খরচ ও সুবিধা –

কোভিড -১৯ এর বিশ্বব্যাপী বিস্তার সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে, ভারত সরকার এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহায়তা করার জন্য একটি চুক্তি করেছে। অবশ্যই এটি একটি ভালো উদ্যোগ। যেহেতু পুরো বছরটিতে একটি মানসিক স্বাস্থ্য রোগীর জন্য ৩৩ পয়সা অর্থাৎ ১ মার্কিন ডলার খরচ করা হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেব্রুয়ারিতে ভারতে প্রথম সফরের সময় স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে, মানসিক অসুস্থতার জন্য যোগব্যায়াম এবং আয়ুর্বেদ ওষুধের মতো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় থেরাপিকে কাজে লাগিয়ে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে উন্মুক্ত বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একমাত্র এইটিই মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণাকেও অ্যাক্সেস দেবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডাব্লুএইচও) মতে ৯০ মিলিয়নেরও বেশি ভারতীয় বা দেশের জনসংখ্যার ১.৩ বিলিয়ন। জনসংখ্যার ৫.৫ শতাংশ লোকজনই একরকম মানসিক ব্যাধি নিয়ে ভুগছেন।

তবে, স্বাস্থ্য হার ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আওতাধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ভারতের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ও নিউরোসিয়েন্সেস ইনস্টিটিউট (নিম্মানস) দ্বারা দেশব্যাপী ২০১৫ থেকে ২০১৬ একটি সমীক্ষা অনুসারে, মানসিক অবসাদে পরিপূর্ণ বিস্তরের হার অনেক বেশীই হতে পারে। প্রায় দেড় মিলিয়ন ভারতীয়দের সক্রিয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন ছিল। তাতে ৩০ মিলিয়নেরও কম মানুষজন এই সুবিধাটি পেয়েছিলেন।

আরো পড়ুন –জানেন কি নিয়মিত সূর্য নমস্কারের মধ্যে রয়েছে হরেকরকম সুফল?

নিজেকে হাসিখুশি করে তুলুন Spark.Live-এর মনোবিশেষজ্ঞদের সাহায্যে

ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি-

সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতের জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে ১৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মানসিক অবসাদে ভোগার পরিমান অনেকটাই বেশী। ফলে ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ স্টাডি অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০১৬ সালে ১৫ – ৩৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে অবসাদ থেকে আত্মহত্যার প্রবনতা অনেকটাই বেশী লক্ষ্য করা গেছিলো।

এতে স্পষ্ট এইটাই সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি ও দায়বদ্ধতার কিছুটা অভাব হলেও এই মুহূর্তে এই বিষয়টিকে নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে এই বিষয়টি থেকে আমাদের বাংলাও পিছিয়ে নেই। আমাদের রাজ্যে অনেকেই আছেন যারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারণে অবসাদে ভোগেন। অনেকেই আছেন এই অবসাদ থেকে বাঁচাতে নিজেরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। ফলে এই মুহূর্তে অনেকেই ডাক্তারি পরামর্শ মেনেই অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে কাউন্সিলিং করান। কাউন্সিলিং-এর মাত্রা আমাদের দেশে যেমন বেড়েছে, তেমনী আমাদের বাংলাতেও এর প্রতি দশজনের মধ্যে ৫ জন কাউন্সিলিং করাতে এগিয়ে আসছেন। মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে দেশের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যও অনেকটা এগিয়ে এসেছে।

আরো পড়ুন -জীবনে সফল হতে, মানসিক স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে যোগব্যায়াম কতটা ফলদায়ী?

পরিবর্তন –

এখন খোলাখুলি প্রচারের জেরেই হোক, বা বার বার অবসাদের ভয়াবহতা দেখার জন্যই হোক মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা এসেছে। সমস্যাকে মনের মধ্যে দাবিয়ে রেখে, সকলের সামনে হাসিমুখে একটা অভিনয় করে যাওয়া, কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের মধ্যে অস্বস্তিকে আরো দ্বিগুন বাড়িয়ে তোলা- এই সব ক্ষেত্রগুলিকেই মানুষ গুরুত্বের নজরে দেখতে শুরু করেছেন। প্রয়োজনকে মনোবিশেষজ্ঞদের মতো পেশাদারদের সাহায্য নিতেও এখন মানুষ কুন্ঠা বোধ করছেন না। কারণ, অবসাদের সাথে এডজাস্ট করে নেওয়া মানে যে পরোক্ষ ও প্রতক্ষ ভাবে নিজের ভবিষ্যৎকে অনেকটা বিপদগ্রস্থ করে তোলা সেটা এখন সকলেই বুঝেছেন, হয়তো বেড়ে চলা অপঘাতের, আত্মহননের ঘটনাই এই সচেতনতা বাড়িয়ে তুলেছে।

SPARK.LIVE -এ অনলাইন কনসালটেশন-

SPARK.LIVE – এমন একটি মাধ্যম, যেটি আপনাকে আপনার আরামদায়ক পরিবেশের মধ্যে রেখেই আপনার অবসাদ কাটিয়ে তুলতে বহুল ভাবে সাহায্য করবে। হ্যাঁ, এই কথাগুলি সকলের সামনে হয় না, তাই জন্য আপনি নিজের ঘরে একাকী বসে নিজের মোবাইল ফোনটির মাধ্যমে তার সাথে দীর্ঘ সময় ধরে কনসালটেশন করতে পারেন। তাকে নিজের গোপন কথাগুলি বলুন, আপনার গোপনীয়তার দায়িত্ব আমাদের। একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মতো নিজের জীবনকে পরিবর্তন করতে শুরু করুন। হয়তো একদিনে আপনার সমস্যার সমাধান হবে না, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। SPARK.LIVE – আপনার সাহায্যে সর্বদা রয়েছে। সমস্যার সমাধানে যতবার প্রয়োজন ততবার সেশন বুক করতে পারবেন।

নিজেকে হাসিখুশি করে তুলুন Spark.Live-এর মনোবিশেষজ্ঞদের সাহায্যে

আমরা আশা করব আপনার জীবনের, ভালোবাসা, সুখ আবার নতুন জায়গা করে নেবে। আর মন খুশি থাকলেই, জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করে তুলতে কেউ বাধা দিতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।