ঘটি – বাঙালের তর্ক যুদ্ধে এগিয়ে কে? (Five Differences Between Bangal and Ghoti)

  • by

ঘটি বাঙালের লড়াই- দেশ ভাগাভাগির পর থেকে শুরু হলেও, থামার সম্ভাবনা খুব একটা নেই বললেই ভালো। একসাথে থাকা , পথ চলা সব কাজ একসাথে হয়ে, কখন যে তারা মাইল মিশে গেছে, তার ঠিক নেই, কিন্তু যেকোনো অজুহাতে, এই বিখ্যাত ঝামেলাকে ক্ষনিকের জন্য চাঙ্গা করে তোলা, এই বুঝি দুই পক্ষেরই পছন্দের কাজ। কেউ আতিথেয়তার খোটা দেয় তো কেউ রান্না-বান্নার। চলুন দেখা যাক- কি কি নিয়ে এই দুই পক্ষের ঝাল মিষ্টি তর্ক লেগেই থাকে বরাবর।

ঘটি মানে ১০০% বনেদিয়ানা আর বাঙাল মানে শুটকির সঙ্গে কচুরিপানা – এরকম নানান মজাদার কথা আমরা সকলেই অল্পবিস্তর জানি, বাঙাল ঘটির মধ্যে হাজারো অমিল রয়েছে , কেও  কারোর এক চিলতে জমি ছাড়তে নারাজ, এ বলে আমাকে দ্যাখ তো ও বলে আমাকে দ্যাখ।

আতিথিয়তা-

বাঙালরা দাবি করেন -অতিথিয়তার ব্যাপারে বাঙালরা সব থেকে এগিয়ে, কেও তাদের কাছে এক বেলা খেতে এলেও তারা তাদের থেকে যেতেই বলবেন এটাই নাকি রীতি। আর ঘটিরা আবার অতিরিক্ত লোকজন একেবারেই পছন্দ করেননা, লোক দেখলেই তাদের জ্বর আসে প্রায়। নিজেদের স্বাধীনতা নষ্ট করতে একেবারেই পছন্দ করেননা।

খাওয়া দাওয়া –

বাঙ্গালরা বসে বসে তেলে ঝোলে খেতে ওস্তাদ, ঝাল ছাড়া তাদের মুখেই রোচেনা আবার ঘটিরা একেবারেই মিষ্টি জিভের এর লোক, ঝাল থেকে শত হাত দূরে থাকেন এনারা , সব খাবারে চিনি দিয়ে মিষ্টি করে তবেই এরা খান। বাঙালদের দাবি ঘটিরা আলুপোস্ত বিউলির ডাল ছাড়া কিছুই খেতে জানেনা আবার ঘটিদের দাবি বাঙালদের কচু ঘেচু ছাড়া কিছুই রোচেনা,তাই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিস্তর স্বাদের পার্থক্য রয়েছে।

লোক লৌকিকতা –

বাঙালরা এসো জন- বসো জন নিয়েই দিন কাটিয়ে যান আর ঘটিরা একটা সময়ের পর আর নিজেদের ছাড়া কারোর সঙ্গেই সহজ হতে পারেন না। মোটের উপর বাঙাল ঘটি নিয়ে বেশ মজার তরজা  চলতেই  থাকে চিরকাল। শুধুতাই নয়, ইলিশ, চিংড়ির লড়াই তো আছেই। বাঙাল ঘটি মানেই ইস্টবেঙ্গল মোহনবাগান।

সাজগোজ-

জামাকাপড়ের দিক দিয়ে বাঙালরা ফিটফাট থাকে বেশী। আর ঘটিরা সেই একই গদের জামা পড়েই কাটিয়ে দিতে পারে। ঘটিদের সংস্কৃত মন্ত্র উচ্চারণ বাঙালদের থেকে অনেক স্পষ্ট। বাঙালদের পুজোর সরঞ্জাম গোছানো, ঘটিদের তুলনায় অনেক সুন্দর। ভাষার ক্ষেত্রে বাঙালেরা ‘চ’-কে ‘স’-এর মতোন উচ্চারণ করে উচ্চারণ করে। কথায় আছে বাঙালেরা পচাগলা খাওয়ার খেয়েই অভস্ত্য তবে ঘটিরা, ফ্রেশ টাটকা খাওয়ার খেতে বেশী ভালোবাসে।

বাঙালদের বেশী ক্ষ্যাপায়, ঘটিরা, এমনটাই অভিযোগ তাদের, আবার অন্যদিকে কান রাখলে, একই অভিযোগ জর্জরিত ঘটিরা। ঘটি মানেই রাতে থাকবেন তো? চাল নেব রাতের? ঘটিদের ঝগড়াঝাটি, তোর সাথে আমার আড়ি। বাঙালদের ঝগড়াঝাটি, ঝাঁটা-খুন্তি চুলোচুলি। সকালে কাকের আওয়াজে ঘুম না ভাঙলেও, বাঙালদের ঝগড়ার আওয়াজে ঘুম ভাঙে। ঘটি -বাঙালে এই ঝগড়া থাকবে চিরন্তন। তো বলেই ফেলুন দেখি আপনি বাঙালি না ঘটি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।