পাঁচটি মন্ত্র যা বদলে দেবে আপনার জীবন (Five chants that help you bring happiness and positive vibe in your life)

স্ট্রেসফুল লাইফ এই মুহূর্তে কার নেই বলাটা খুব মুশকিল. বয়স বাড়ার সাথে সাথে, জীবনে সমস্যার সংখ্যা বাড়তে থাকে দ্বিগুন মাত্রায়. সোম থেকে শুক্র বা সোম থেকে শনি একভাবে কাজ করার পর সত্যি সপ্তাহান্ত গুলিও কিভাবে কেটে যায় বোঝাই যায় না. মনে হয় উইকেন্ডস পড়তে না পড়তেই বুঝি আবার সোমবার চলে এলো. আসলে কি জানেন, আমাদের অতিরিক্ত অমানসিক চাপ আমাদেরকে রিলাক্স হতেই দে না. অফিসের কাজে চাপ যদি সপ্তাহের দুটি দিন নাও থাকে, বাড়ির বা পারিবারিক চাপ, সন্তানদের ভবিষ্যতের চাপগুলি তো থেকেই যায়. তাই চাইলেও নিজের মনকে মাথাকে আমরা শান্ত করতে পারি না.

কিন্তু সত্যি বলতে কিছু উপায় কিন্তু রয়েছে, যেগুলি ম্যাজিকের মতো কাজ করে. মনকে শান্ত করে, স্থির করে. কথা বলছি মন্ত্রে. আমাদের হিন্দু পুরাণে এমন কিছু মন্ত্র রয়েছে যেগুলি এক কথায়, আমাদের কাছে অমূল্য সম্পদ ছাড়া কিছু নয়. আগেকার দিনের মানুষরা কোন অসুবিধার সম্মুখীন হলেই, বা কোনো বিপদের অশনি সংকেত বুঝতে পারলেই, ভগবানের সামনে হাত জোর করে মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ধ্যান করতে বা বলা প্রার্থনা করতেন, একমনে. আর বিভিন্ন বাধা বিঘ্নের থেকে মুক্তিও পেতেন. তাই জন্যই তো বলছি কিছু ম্যাজিক্যাল মন্ত্র আছে আমাদের পুরাণে, যেগুলি উচ্চারণের মাধ্যমে আপনি আপনার জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারেন.

ওঁম-

ওঁম ধ্বনি উচারণের মাধ্যমেই শরীরে একটি কম্পন অনুভূত হয়. শব্দটি যতটাই ছোট তার থেকেও বেশি শক্তিশালী। অনেকের মতে, এটি বিশ্বের সর্বশক্তিমান একটি শব্দ। আর তার জন্যই হয়তো এই ধ্বনিটিকে নিয়ে গবেষণা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতীয় থেকে অভারতীয়দের মধ্যেও।

জীবনের কোনো কঠিন সময়ে, যখন জীবন একের অধিক সমস্যায় ঘেরা থাকে, মানুষ ঠিক ভুল পথের সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, সেই সময় যদি এক মনে চোখ বুজে ওম ধ্বনি উচ্চারণ করতে থাকেন বা কানে হেডফোন লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনতে থাকেন, তাহলে সকল বাধা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ পাওয়া যায়। কেন বলুন তো? আপনি যখন খুব স্ট্রেসড থাকেন, তখন আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা হারিয়ে যায়। ওমম ধ্বনি আপনাকে মানসিক শান্তি দেয়, আপনার স্নায়ু শিথিল করে। ফলে আপনি চিন্তা করার ক্ষমতা পান।

২. ওম মানি পদ্মে হুম –

এটি বৌদ্ধ ধর্মের একটি বিখ্যাত মন্ত্র. যেটির আক্ষরিক অর্থ হলো – পদ্মের মধ্যে রত্ন. মানা হয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কের কিছু সুপ্ত অংশকে প্রস্ফুটিত করে তোলে. যাতে আমাদের চিন্তা শক্তি আরো উন্নত হয়. আমাদের সবসময় পজিটিভ চিন্তা করতে শেখায়.

যারা নিজেদের ভালোবাসার বা পারিবারিক কোন সম্পর্কের চাপানউতোর আটকে পড়েছেন, তাদের সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আন্তে ভীষণ মাত্রাতে সাহায্য করে.

৩. ওম নমঃ শিবায়-

হিন্দু পূরণের আরেকটি বিখ্যাত মন্ত্র. একভাবে বসে বা ধ্যানের সময়েই যদি এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করা যায়- তো বলাই বাহুল্য শরীরে একটা আলাদা তেজ তৈরী হয়. ওঁম ধোনির মাহাত্ম্য তো আগেই বলেছি. আর এই মন্ত্র মানেই হলো একমনে ভগবান শিবকে ডাকা. কথাতেই আছে, ভগবান শিব হলেন সবচাইতে তাড়াতাড়ি তুষ্ট হওয়ার দেবতা. আর এই মন্ত্রটিই হলো সরাসরি তার আশীর্বাদ পাওয়ার পথ.

সারাক্ষন নাই হোক সারাদিনে একটু সময় করে যদি বার ৫০ একভাবে এই মন্ত্রটি উচ্চারণ করেন, দেখবেন সব দুশ্চিন্তা নিমেষে উধাও হয়েছে. সমস্যার সমাধান খুতেও সময় লাগবে না.

৪. লোকঃ সমস্যাহ সুখীন ভবন্তু-

যারা যারা যোগ ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ নেন, তারা হয়তো এই মন্ত্রটির সাথে পরিচিত. মন্ত্রটির মানে হলো- পৃথিবীর সকলেই যেন সুখে থাকেন, সমস্ত হিংসা, অহংকার, রাগ ভুলে. এটি কিন্তু সত্যি একটি শক্তিশালী মন্ত্র. এটি আমাদের সব রকমের রাগ, হিংসা ভোলাতে সাহায্য করে. আসলে ভেবে দেখুন বেশির ভাগ মসস্যাই কিন্তু রাগ হিংসা অহংকারের কারণে জন্মায়. তাই এই মন্ত্র উচারণে এই সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব.

৫. ওম গম গানপাতায়েই নামাহ-

সিদ্ধিদাতা গণেশের মূল মন্ত্র এটি. মন্ত্রটির অর্থ হলো- আমি ভগবান গণেশের কাছে নিজের মাথা নিচু করে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন তার আশীর্বাদের মাধ্যমে আমার জীবনের সকল সমস্যার নিবারণ করেন.

সকালে উঠেই বা স্নানের পরে, পরিষ্কার জামা কাপড় পরিধান করে বিশেষ করে বুধবার কোনো ভগবান গণেশ মূর্তির সামনে এই মন্ত্রটির উচ্চারণ সত্যি আপনার জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে উঠবে.

ব্যাস এইভাবেই নিজের স্ট্রেস লেভেলকে কমিয়ে আনুন এই মন্ত্র গুলির সঠিক উচ্চারণের মাধ্যমে. দেখবেন খুব শীঘ্রই আপনার জীবন অনেকটা সহজ হয়ে গেছে.

2 thoughts on “পাঁচটি মন্ত্র যা বদলে দেবে আপনার জীবন (Five chants that help you bring happiness and positive vibe in your life)”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।