নকল হতে সাবধান: অনলাইনে করোনা ভাইরাস টেস্ট কিট কিনবেন না (Fake alert: Don’t buy corona testing kit from online )

করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। ভারতবর্ষে এই মুহূর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। আর এতে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার কথা বলা হলে, অনলাইনে বিভিন্ন টুল বা কিট বিক্রি করা হচ্ছে। অনেকেই সর্দি-কাশি হলেই করোনা টেষ্টের জন্য মুহূর্তের মধ্যে চলে যাচ্ছেন সরকারি হাসপাতালে। আবার অনেকে অনলাইন থেকে টেষ্ট কিট কিনে নিচ্ছেন। কিন্তু মনে রাখবেন, এখন পর্যন্ত কোনো অফিশিয়াল টেস্ট কিট বাজারে আসেনি। তাই অনলাইনে করোনা ভাইরাস শনাক্তের কিটের নামে যেসব বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে, তা সমস্তটাই ভুয়ো।

এই সুযোগে অনলাইনে ভুয়ো অনেক তথ্য ছড়াচ্ছে সাইবার হ্যাকাররা। এছাড়াও আরও কতগুলি কাজ রয়েছে যেগুলি অনলাইনের মাধ্যমে করা যাবে না। সেইগুলি হল,

১) করোনাভাইরাস ছড়ানোর পর থেকেই ফেস মাস্কের ব্যবহার খুব বেড়েছে। এতে মাস্কের দাম ও চাহিদাও বেড়েছে। আর ঠিক এরই সুযোগ নিচ্ছে সাইবার দুষ্কৃতিরা। করোনাভাইরাসের আতঙ্কে অনলাইনে বিশেষ ফেস মাস্কের বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারিত হবে না। বিশেষ অফার, ছাড় বা অগ্রিম অর্থ দিয়ে মাস্ক কিনতে গেলে প্রতারিত হতে পারেন। অনলাইনে ফেস মাস্ক কেনার আগে সাবধান থাকুন। অনলাইনে যেসব বিজ্ঞাপন দেখেন, এর বেশির ভাগই ভুয়ো।

২) অনলাইনে করোনাভাইরাস সুরক্ষায় কোনো ওষুধের খোঁজ করবেন না।বা কোনো ওষুধ অনলাইনে থেকে কিনবেন না। করোনাভাইরাস ঠেকানোর ওষুধ হিসেবে দাবি করা পোস্টগুলো ভুয়ো। অনেক সময় অনলাইনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী তেল, পানীয় বা নানা খাবারের কথা বলে বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হচ্ছে। সারা বিশ্বে এখনও পর্যন্ত করোনা ভাইরাস ঠেকাতে কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক তৈরী হয়নি। তাই এসব পণ্যের ওপর ভরসা করবেন না।এগুলো আপনার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একমাত্র কৌশল।

৩) সন্দেহজনক বা ক্লিকবেইট ওয়েবসাইটগুলোয় করোনাভাইরাস নিয়ে পোস্ট করা তথ্য কখনোই পড়তে যাবেন না। এতে আপনি বিভ্রান্ত হবেন। অনেক সময় ভুয়ো ও আজগুবি তথ্য দিয়ে আপনাকে সাইটে বেশিক্ষণ ধরে রাখার চেষ্টা করবে। এছাড়াও নানা কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। বিশ্বস্ত কোনো সাইট ছাড়া অন্যকোনো সাইটে ঢুকবেন না।

৪) করোনাভাইরাস নিয়ে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে আসা কোনো বার্তাকে কখনোই প্রশ্রয় দেবেন না। সাইবার দুস্কৃতীরা নানা উপায়ে আপনাকে এসব তথ্য ছড়াতে এবং বিশ্বাস করাতে বাধ্য করবে। অনেক সময় আপনার ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুর অ্যাকাউন্ট থেকেও এই সমস্ত লিংক আসতে পারে। এ ধরনের বার্তায় ক্লিক করলে আপনার অ্যাকাউন্ট বেহাত হতে পারে।

৫) এখন মানুষ ইউটিউব ভিডিও গুলিতে বেশী আস্থা রাখে বেশি। করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক ইউটিউবার এই সুযোগ নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন। তাই ইউটিউবার বা ভিডিও প্ল্যাটফর্মে অন্য কোনো প্রভাবশালী কারও পরামর্শ নেবেন না। এসব তথ্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মনগড়া তথ্য হতে পারে। ফলে এতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অতন্ত্য জরুরী।

৬) করোনাভাইরাসের উপসর্গগুলো কেমন হতে পারে, এমন কোনো তথ্য অনলাইনে খুঁজবেন না। যদি অসুস্থ বোধ করেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। অনলাইনে করোনাভাইরাসের তথ্য দেওয়ার নামে অনেকেই প্রতারণার ফাঁদ পাতে। তাই এই ধরনের তথ্য খোঁজ করলে আপনাকে প্রতারকের খপ্পরে পড়তে হতেই পারে।

৭) আপনার ই–মেইলে আসা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত কোনো মেইল থেকে সাবধান থাকুন। এই মেইল পাঠিয়ে সাইবার হ্যাকাররা আপনার কৌতূহলের সুযোগ নিতে পারে। অনলাইন মেইলে পাঠানো লিংকে ক্লিক করার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন। এই সংক্রান্ত কোনো ফর্ম ফিলআপ করবেন না। সাইবার দুষ্কৃতিরা এই বিষয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ায়।

তো একেবারেই এই সময়ে অসাধু সংস্থাগুলির প্রকোপে পরে প্রতারণার শিকার হবেন না. নিজের চোখ কান খোলা রাখুন.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।