মা লক্ষীর আটটি অবতারকে একসাথে প্রসন্ন করবেন কিভাবে? (Eight significance of eight different avtars of goddess Laxmi)

  • by

বন্দে লক্ষ্মীং বরশশিময়ীং শুদ্ধজাম্বূনদাভাং
তেজোরূপাং কনকবসনাং সর্বভূষোজ্জ্বলাঙ্গীম্ ।
বীজাপূরং কনককলশং হেমপদ্মে দধানাং
আদ্যাং শক্তিং সকলজননীং বিষ্ণুবামাঙ্কসংস্থাম্ ॥

-নিশ্চয়ই জানেন এটি কার মন্ত্র? প্রতি বৃহস্পতিবার প্রায় সবকয়টি হিন্দু ঘরে যার ভক্তি ভরে সাধনা ছাড়া ভাবাই যায় না- এটি সেই মহাদেবী মানে মহালক্ষীর বা এককথায় অষ্টলক্ষীর ধ্যান মন্ত্র।

আজ কথা বলব ধন সম্পত্তির অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা লক্ষী সম্মন্ধে। জানেন পুরাণমতে মা লক্ষীর কতগুলি রূপ? একটি নয়, দুটি নয়, মোট আটটি মানে মন আটটি অবতার রয়েছে মা লক্ষীর। আর প্রতিটি রূপেরই আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট যেমন আছে তেমনি এক একটি রূপ আলাদা আলাদা শক্তির প্রতীক। তো চোখ রাখা যাক সেই সকল রূপগুলির বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্বের ওপর।

আদি লক্ষী –

আদি লক্ষী বা মহা লক্ষী হলো আদিরূপ মা লক্ষীর। এই মা লক্ষী হলেন অফুরন্ত ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী। শাস্ত্র মোতে এই দেবীর পূজার চল আছে ঘরে ঘরে।

মন্ত্র-

সুমনোবন্দিতসুন্দরি মাধবি চন্দ্রসহোদরি হেমময়ি
মুনিগণকাঙ্ক্ষিতমোক্ষপ্রদায়িনি মঞ্জুলভাষিণি বেদনুতে ।
পঙ্কজবাসিনি দেবসুপূজিতে সদ্গুণবর্ষিণি শান্তিয়ুতে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি আদিলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

ধন লক্ষী-

নামটি শুনেই বুঝতে পারছেন এই দেবী হলেন ধনসম্পদের প্রতীক রূপ। এই দেবীর ছটি হাত এবং মূলত লাল শাড়িতেই অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিটি হাতে থাকে একে একে চক্র, শঙ্খ, একটি ঘটে বা পবিত্র কলসি, তীর – ধনুক এবং একটি পদ্ম। সর্বশেষ হাতটি অভয় মুদ্রার ন্যায় রাখা এবং তা থেকে সোনার মোহর বা মুদ্রা বের হয়।

মন্ত্র-

অয়ি কলিকল্মষনাশিনি কামিনি বৈদিকরূপিণি বেদময়ি
ক্ষীরসমুদ্ভবমঙ্গলরূপিণি মন্ত্রনিবাসিনি মন্ত্রনুতে ।
মঙ্গলদায়িনি অম্বুজবাসিনি দেবগণাশ্রিতপাদয়ুগে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি ধান্যলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

ধন্য লক্ষী-

এই দেবী খাদ্যশস্যএর প্রতীক। দেবীর এক হাত চাষের জমির শস্য সম্পদের আশীর্বাদ স্বরূপ রয়েছে এবং আরেক হাতে থাকে মানব জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদায়ক শস্যের সমাহার। এই দেবীর পরনে থাকে শস্যের রঙের সবুজ শাড়ি।

মন্ত্র-

ধিমিধিমিধিন্ধিমিদুন্দুমদুমদুমদুন্দুভিনাদবিনোদরতে
বম্বম্বোং বম্বম্বোং প্রণবোচ্চারশঙ্খনিনাদয়ুতে ।
বেদপুরাণস্মৃতিগণদর্শিতসত্পদসজ্জনশুভফলদে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি ধনলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

ধরিয়া লক্ষী-

ধরিয়া মানে ধৈর্য্য। বুজতেই পারছেন এই দেবী হলেন ধৈর্য্যশক্তির প্রতীক। এই দেবীর আরাধনা মনের শক্তি, ধৈর্য্য যোগায়, যা জীবনের কঠিন ও ভালো সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার শক্তিও যোগায়।

মন্ত্র-

জয় বরবর্ণিনি বৈষ্ণবি ভার্গবি মন্ত্রস্বরূপিণি মন্ত্রময়ি
সুরগণবিনুতে অতিশয়ফলদে জ্ঞানবিকাসিনি শাস্ত্রনুতে ।
ভবভয়হারিণি পাপবিমোচিনি সাধুসমাশ্রিতপাদয়ুগে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি ধৈর্যলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

গজ লক্ষী-

গজ মানে হাতি। এই দেবী হাতির ওপর সরাসরি অধিষ্ঠাত্রী না হলেও, তার চারিদিক আবর্ত থাকে হাতি দ্বারা। রাজকীয় ধোন সম্পদের প্রতীক এই দেবী। কথিত আছে সমুদ্র মন্থন কালে ভগবান ইন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া ধোন সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবী।

মন্ত্র-

জয় জয় দুর্গতিনাশিনি কামিনি বহুদে শুভকলহংসগতে
রথগজতুরগপদাদিসমাবৃতপরিজনমণ্ডিতরাজনুতে ।
সুরবরধনপতিপদ্মজসেবিততাপনিবারকপাদয়ুগে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি গজলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

সন্তান লক্ষী –

এই দেবী পরিবারের সন্তানদের মঙ্গলার্থে আবার সন্তান প্রাপ্তির প্রার্থনা স্বরূপ ও পূজা করা হয়।

মন্ত্র-

অয়ি খগবাহে মোহিনি চক্রিণি রাগবিবর্ধিনি সন্মতিদে
গুণগণবারিধে লোকহিতৈষিণি নারদতুম্বুরুগাননুতে ।
সকলসুরাসুরদেবমুনীশ্বরভূসুরবন্দিতপাদয়ুগে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি সন্তানলক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

বিজয় লক্ষ্মী –

এই দেবী সর্বদা বিজয়এর প্রতীক স্বরূপ। কোনো সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে বা বলা সাফল্য পেতে এই দেবীর পূজা হয়ে থাকে।

মন্ত্র-

কমলনিবাসিনি সদ্গতিদায়িনি বিজ্ঞানবিকাসিনি কামময়ি
অনুদিনমর্চিতকুঙ্কুমভাসুরভূষণশোভি সুগাত্রয়ুতে ।
সুরমুনিসংস্তুতবৈভবরাজিতদীনজানাশ্রিতমান্যপদে
জয় জয় হে মধুসূদনকামিনি বিজয়লক্ষ্মি পরিপালয় মাম্ ॥

বিদ্যা লক্ষ্মী-

পরিবার এবং মানব জীবনের অমূল্য আরেকটি সম্পদ বিদ্যার প্রতীক এই দেবী। সরস্বতী ঠাকুরের মতোই এই দেবী পদ্মের ওপর সাদা শাড়িতে অধিষ্টাত্রী হন।

মন্ত্র-

প্রানাথ সুরেশ্বরী, ভর্তি, ভার্গ্যাভি
শোক বিনাশিনী, রাথনা মায়ে,
মানি মায়া ভূষিতা কর্মা বিভূষণা,
সান্থি সমাভরুথ হাস্যমুখে,
নাভা নিধি দায়িনী কালিমালা হারিণী,
কামিঠা ফালাপরাধ হাস্থায়উঠে,
জয় জয় হে মধুসূধন কামিনী
বিদ্যালক্ষ্মী সাদা পালায়া মাম।

এইভাবে প্রতি বৃহস্পতিবার পাঞ্চালি পড়ার সাথে সাথেই যদি ভক্তি ভরে উচ্চারণ করেন মা লক্ষীর আট অবতারের এই মন্ত্র গুলি, আপনার জীবনে সাফল্য আসার থেকে কেউ বিরত করতে পারবেনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।