ডিপ্রেশন দূর করার জন্য যোগব্যায়ামের কার্যকারিতা (Effectiveness of yoga to overcome depression)

বর্তমানে ডিপ্রেশন যেন আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গ আঙ্গিকভাবে জড়িয়ে পড়েছে, আমরা অনেকেই নানান কারণে ডিপ্রেশনের কবলে পড়ি। কিন্তু জানেন কি এই ডিপ্রেশনকে আপনি কন্ট্রোল করতে পারেন সহজ কিছু যোগব্যায়ামের মাধ্যমে।

একথা হয়তো ঠিক যে যোগব্যায়াম পৃথিবীতে কখনও কেউ ভালবেসে শুরু করেনি। আসলে এই ব্যাপারটার উপকারিতা এতটাই বেশি যে, খুব বোরিং মনে হলেও, এটা অনেকেই নিয়মিত করেন এবং উপকারও পান। তিনটি এমন প্রাণায়াম নিয়ে আলোচনা করা হবে যার ফলে শরীর মন দুটোই সুস্থ্য এবং চনমনে থাকবে আপনাদের। প্রাণায়াম হল একেবারে বেসিক যোগা টেকনিক, এগুলির প্রতিটিই আমাদের প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলে। অন্য নানা যোগব্যায়ামের মতো এগুলি অতটা বোরিং নয়, কিন্তু উপকার রয়েছে প্রচুর। তবে একটা কথা মাথায় রাখবেন, প্রাণায়াম সব সময় খালি পেটে করতে হয়। তাই এগুলি অভ্যাস করার সবচেয়ে ভাল সময় হল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে। কষ্ট করে দিনকয়েক যদি করতে পারেন, তা হলে দেখবেন অভ্যেস তৈরী হয়ে যাবে।

১) কপালভাতি প্রাণায়াম

বাবা রামদেবের সৌজন্যে কপালভাতি প্রাণায়াম এখন সকলের কাছেই খুবই পরিচিত। এই প্রাণায়ামটি মূলত শ্বাস প্রশ্বাসের কন্ট্রোলের উপর নির্ভর করে করতে হয়। এটি করার জন্য ঘরের কোনও শান্ত জায়গা বেছে নিন, এবার পদ্মাসনে বসুন দুই পা মুড়ে। বড় বড় করে বুক ভরে নিঃশ্বাস নিন। তারপর একদম ধীরে ধীরে সেই শ্বাস ছাড়ুন। ছাড়াটা হবে একটু জোরে। এই প্রাণায়ামটি আপনার পুরো শরীরকে জাগিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর পাশাপাশি এই প্রাণায়ামটি হজমের শক্তি বাড়ায়, আপনাকে আরও কর্মক্ষম করে তোলে। ডিপ্রেশন দূর করা জন্য কপালভাতি প্রাণায়াম খুবই কার্যকরী।

কপালভাতি প্রাণায়াম তিন প্রকারের হয়:

বাতক্রম :

এই পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। পদ্মাসনে বসে শিরদাঁড়া সোজা রেখে মুখ দিয়ে বড় করে শ্বাস নিতে হবে যাতে পেট ফুলে যায়। এরপরে কিছুক্ষণ বাতাস ধরে রেখে ধীরে-ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস ছাড়তে হবে এবং সেসময় পেট ক্রমশ ভিতর দিকে ঢুকে যাবে – একেই বলা হয় কপালভাতি প্রাণায়াম।

ভ্যূতক্রম:

এই পদ্ধতিতে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার সময় জলও টেনে নিতে হয় এবং মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ার সময় জল বাইরে ফেলে দিতে হয়।

শীতক্রম:

এটি ভ্যূতক্রমের ঠিক উল্টো। এই পদ্ধতিতে মুখ দিয়ে জল টেনে নাক দিয়ে বের করতে হয়। প্রথাগত প্রশিক্ষণ না নিয়ে ভ্যূতক্রম এবং শীতক্রম প্রাণায়াম করা একেবারেই উচিত নয়।

সকালে ঘুম থেকে উঠে করতে পারলে তো ভালই, কিন্তু তা সম্ভব না হলে সারা দিনে নিজের ব্যস্ত রুটিনের মধ্যে নানা সময়ও আপনি এই প্রাণায়ামটি করতে পারেন। যেমন ধরুন, ট্রাফিকে যখন আটকে আছেন, কিংবা শাওয়ারে স্নান করছেন বা ঘুম সদ্য ভেঙেছে কিন্তু উঠতে ইচ্ছে করছে না, এমন সময়েও আপনি চট করে একটু কপালভাতি অভ্যেস করে ফেলতে পারেন।

২) ভ্রমরী

আপনি কি খুব অ্যাংজাইটিতে ভোগেন? তা হলে এই প্রাণায়ামটি আপনার সবথেকে কার্যকরী। এই প্রাণায়ামটি করার সময় বাইরের দুনিয়ার যাবতীয় আওয়াজ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারবেন। দেখবেন, কত সহজে ডিপ্রেশন অ্যাংজাইটি সব দূরে পালিয়েছে। এটি করার জন্য দুই হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে দুই কান বন্ধ করুন এবং হাতের বাকি আঙুলগুলি রাখুন চোখের পাতার উপরে। তারপর বুক ভরে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে মউমাছির মতো মুখ দিয়ে ভোঁ করে আওয়াজ করতে থাকুন। এভাবে যতক্ষণ করতে পারবেন, করে যেতে হবে।

যখনই কাজের প্রেশারে বা কোনও কারণে আপনার জীবনে অশান্তি কিংবা চাপ আসবে, তখনই ওষুধ খাওয়ার মতো করে কিছুক্ষণের জন্য এই প্রাণায়ামটি করে নেবেন। যেমন ধরুন, কোনও চাপের মিটিংয়ের আগে, পরীক্ষায় আগের দিন রাতে, সারা রাত জেগে অফিসের কাজ শেষ করতে হলে ইত্যাদি। এই ছোটখাটো সমস্যা, যেগুলো কোনওভাবেই কাটানো সম্ভব নয়, সেগুলি এই প্রাণায়ামের সাহায্যে খুবই সহজে কাটিয়ে ফেলা সম্ভব।

৩) শীতলী এবং শীতকারী

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে যে, এই দু’টি প্রাণায়ামই শরীরের তাপমাত্রা কমিয়ে শরীরকে শীতল করার জন্য করা হয়ে থাকে। আর শরীর শীতল হলে তার সঙ্গে ঠান্ডা হবে আপনার মনও। এই দু’টি করাও খুব সোজা। সহজেই করে ফেলতে পারবেন যেকোনো জায়গাতেই। শীতলী করতে গেলে জিভটি উল্টো করে মুখের ভিতরে ঢোকান। তারপর মুখ দিয়েই শ্বাস নিন এবং শ্বাস ছাড়ুন। শীতকারী করার সময় দাঁত চিপে মুখ দিয়ে শ্বাস নিন এবং শ্বাস ছাড়ুন। এটা করার সময় মুখ দিয়ে হিসহিস শব্দ হবে।

যোগের শারীরিক উপকারিতা

প্রাণায়াম সঠিক পদ্ধতিতে করলে খুব তাড়াতাড়ি পেটের বাড়তি মেদ ঝরে। পেটের মাংসপেশি মজবুত হয় এবং পেটের নানা সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। প্রাণায়ামে মধুমেহ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যাঁদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাঁরা কপালভাতি করলে এই সমস্যা দূর হবে। শরীর সুস্থ্য থাকলে মনকিন্তু আপনার তরতাজা থাকবে।

যোগের ফলে মানসিক উপকারিতা

প্রাণায়ামের সাহায্যে স্নায়ুতন্ত্রে রক্ত চলাচল সঠিকভাবে হয়। ফলে আমাদের মস্তিস্কের প্রতিটি কোষ সচল হয়ে ওঠে। সারাদিনের সবরকম ধকল থেকে মুক্তি পেতে এবং মন শান্ত করতে প্রাণায়াম খুবই কার্যকরী। মনঃ সংযোগ বাড়াতে এবং স্মৃতিশক্তি প্রখর করতে যোগব্যায়াম খুবই কার্যকরী। মনের যাবতীয় স্ট্রেস, দুঃশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন থেকে নিজেদের ভালো রাখুন প্রতিদিন যোগব্যায়ামের মাধ্যমে।

Spark.Live এ রয়েছেন স্বনামধন্য সব যোগ বিশেষজ্ঞেরা যাদের কাছে ট্রেনিং নিয়ে আপনারা সঠিক নিয়মের দ্বারা যোগব্যায়াম শিখে তার উপকার পেতে পারবেন। তাহলে আর দেরি না করে যোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অনলাইন সেশন বুক করে নিজেদেরকে ডিপ্রেশনের হাত থেকে দূরে সরিয়ে রেখে আনন্দে বাঁচুন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।