গৃহ বধূদের জন্য সপ্তাহের সহজ ডায়েট প্ল্যান (Easy diet for homemakers)

  • by

অনেক গৃহ বধূরা খেতে বসে তরকারি বা ভাত কম পড়লে আগের দিনের বাসি খাবার খেয়ে ফেলেন, বা সারাদিনের কাজের ফাঁকে জল কম খান ইত্যাদি নানা কারণে একজন গৃহবধূর শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন এবং মিনারেলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

যার ফলে একজন গৃহ বধূ নানান ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই গৃহবধূদের একটি ডায়েট প্ল্যানের মধ্যে থাকা ভীষণ জরুরী।

এবার প্রশ্ন হল কী এই ডায়েট প্ল্যান?

এটি এমন এক খাবার তালিকা যা আপনাকে সুসংগঠিত রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের প্রয়োজনীয় কোনও পুষ্টি উপাদান যাতে মিস না হয় তার জন্যই প্রয়োজন একটা পরিকল্পনার মধ্যে দিয়ে যাওয়া।
এবার জেনে নিন কীভাবে করবেন এই ডায়েট প্ল্যান?

তাহলে দেরি না করে জেনে নেওয়া যাক একজন গৃহবধূর ডায়েট প্ল্যান ঠিক কী হতে পারে।

১:-প্রাতঃরাশ বা সকালের খাবার

সাধারণত একজন গৃহ বধূ সকালের খাবার খান ১১ টার সময় । তবে আদর্শ সময় হল সকাল ৮-৮.৩০।
কিন্তু সকালের খাবারে এমন কিছু খান যা বানাতে খুব কম সময় লাগে, যেমন- দুধ-কর্নফ্লেক্স, জলে ভেজানো শুকনো ফল, ওটস বা ডিমসেদ্ধ। এরপর দেখবেন কাজের ফাঁকে ঠিক ১১টা নাগাদ আপনার বেশ খিদে পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে সপ্তাহের এক একদিন এক একরকম খাবার খেতে পারেন যেমন –
পরোটা (কোনও সবজী বা ছাতুর পরোটা), সঙ্গে দই ।
অমলেট এবং পাউরুটি ।
পোহা বা উপমা এবং কোন চাটনি ।
স্যান্ডউইচ এবং গ্রিন টি ।
পরোটায় মোড়া ভেজিটেবিল রোল (আপনার পছন্দের সবজী দিয়ে বানাতে পারেন)
সঙ্গে খান জুস বা ডাবের জল
মনে রাখবেন সকালের এবং দুপুরের খাবার খাওয়ার মাঝে অন্তত একটি মরশুমি ফল খান। যেমন শীতের দিনে একটি করে কমলালেবু খেতে পারেন।

২:-দুপুরের খাবার

দুপুরের খাবার খেতে হবে ১-১.৩০এর মধ্যে। আর দুপুরের খাবারে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান-
রুটি বা ভাত, সবজী এবং দই ।
বিনস, ভাত অথবা রুটি, দই এবং আচার ।
ভাত বা রুটি, ছোলার ডাল এবং দই ।
ভাত বা রুটি এবং মুরগীর মাংস ।
ভাত বা পাউরুটি, সোয়বিন, দই ।
আর হ্যাঁ আপনি যদি ভাত খেতে ভালবাসেন কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় পাচ্ছেন , তাহলে ব্রাউন রাইস ট্রাই করতে পারেন।
প্রথম দিকে ভাল না লাগলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।

৩:-বিকেলের টিফিন

বিকেলের টিফিনের আদর্শ সময় হল ৪-৫.৩০। বিকেলের টিফিনে আপনি নিজের পছন্দ অনুসারে কিছু খেতে পারেন।
যেমন –
চা বিস্কুট।
চা মুড়ি।
ঘরে তৈরি ডায়েট মিক্সার।
ভাজা ছোলা এবং গুড়।
ফলের রস এবং বাদাম

৪:-রাতের খাবার

চেষ্টা করুন সন্ধে সাড়ে সাতটা থেকে সাড়ে আটটার মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নেওয়ার । প্রথমে হয়তো একটু অসুবিধা হতে পারে কিন্তু কয়েকদিন অভ্যেস করে দেখুন, কোনও অসুবিধাই হবে না।
রাতের ডায়েটে রইল-
রুটি এবং সবুজ শাকসবজী (আলু, বাধাকপি, কড়াইশুঁটি, গাজর, বীট)।
সেদ্দ করা বা রোস্ট করা মুরগীর মাংস এবং সালাদ।
এক বাটি মুসুর ডাল এবং সালাদ।
রুটি ও ডিমের তরকারি বা সেদ্ধ ডিমও সালাদ দিয়ে খেতে পারেন।
কোনও একদিন রাতে খান শুধুই মরশুমি ফল এবং সবজী সেদ্ধ।
তবে যাই খান না কেন রাতের খাবারে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ যেন কম থাকে সেই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন।
যাই খান শরীরকে সুস্থ রাখতে জিম বা যোগ ব্যয়াম করুন প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা করে।

আশা করছি এই ডায়েট প্ল্যানটি অবশ্যই আপনার পছন্দ হয়েছে।যদি এই ডায়েট থেকে আপনি কোন উপকার পেয়ে থাকেন তাহলে আমাদের কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন । নিজের খেয়াল রাখুন সবার আগে, তবেই তো সবার খেয়াল রাখতে পারবেন ঠিকঠাক.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।