অতিরিক্ত চিনি আপনার শরীরে আলজাইমার রোগের প্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে না তো? (Does Sugar Intake Increase Cancer Risk?)

  • by

চিনি খাওয়া যে একেবারেই ভালো নয়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে. কোনো কারণেই ডাক্তার ভিসিট করলেই, প্রায় সবার মুখেই একটাই কথা শোনা যায়, যে যতটা সম্ভব প্রতিদিনের ডায়েট থেকে সুগারকে দূরে রাখতে. তাতেই ভালো থাকবে আপনার পুরো হেলথ সিস্টেম.

কিন্তু সবটা কি মানা হয়? বিশেষ করে শীতকালে, যখন কিনা, শীতের আমেজকে ভরপুর নেওয়ার জন্য, রোদে বসে বা পর্যন্ত বিকেলে, চা কফির সংখ্যার পরিমাণটি তুলনামূলক অনেকটাই বেড়ে যায়. আর যতই ডাক্তাররা বলুক না কেন, চিনি ছাড়া চা কফি তো ভাবাই যায় না. তো স্বভাবতই চা কফির সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে চিনির পরিমানটাও বৃদ্ধি পায়. আর তাতেই আমাদের শরীরে দ্রুত বাসা বাঁধতে থাকে নানা জটিলতার.

অন্যদিকে, অনেকেই আছেন, যারা রান্নাতে লবন ও ঝালের ব্যালেন্স ভালো রাখতে, কিছু চিনি অ্যাড করেন, রান্নায়. আবার খাবারের শেষ পাতে যদি থাকে, চাটনি, টক, বা দই. মিষ্টি দই হলে তো কিছু বলার নেই, আবার অনেকেই টক দইও সামান্য চিনি দিয়েই খেতে ভালোবাসেন. তাহলে সেই মানুষটির শরীরে কত চিনি ঢুকলো একবার ভাবুন তো. সকালের করা মিষ্টি দেওয়া চা কফি ছাড়াও, তার শরীরে যে অতিরিক্ত চিনি প্রবেশ করলো, তা কিন্তু ওয়ার্কআউট করেও কমবে না. কারণ ওই পরিমান শর্করা, রক্তের সাথে মিশে, শরীরে এক ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি করবে.

কি কি সমস্যা হয় দেখা যাক-

১.একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে একজন মানুষ যদি এক দিনে গৃহীত চিনি থেকে ১৫০ ক্যালোরি গ্রহণ করে, তাহলে তার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় অনেকটা, প্রায় ১.১ শতাংশ।

২.অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার দরুন লিভারের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বির একটি স্তর তৈরী হয়। এর ফলে লিভারের আকৃতির পরিবর্তন হয়. যেটি বহুল ভাবে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দিতে পারে।

৩.অতিরিক্ত চিনি আপনার রক্তচলাচলে বাধা তৈরি করতে পারে। এটি ধমনির দেয়ালের পুরুত্ব বাড়িয়ে দেবার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায় ও এর ফলে দেহে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে। হার্ট পযন্ত রক্ত সরবরাহে বাধাপ্রাপ্ত হয়, তার জেরে হার্ট এট্যাকের মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারেন.

৪. সবচাইতে গুরুতর সমস্যাটি হলো- অতিরিক্ত চিনি আপনার স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে. মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়, কমে যেতে পারে স্মরণশক্তি ৷ হতে পারে অ্যালজেইমারের মতন রোগও।

৫. অতিরিক্ত সুগার কোনসুমিং আপনার শরীরে ক্যালোরির পরিমান বাড়িয়ে দেয়, দ্রুত. ফলে আপনার ওজন বৃদ্ধি পায় তাড়িয়ে তাড়িয়ে.

৬. আবার স্কিন খারাপ করতেও অনেকটাই দায়ী চিনি. স্কিনকে আরো তৈলাক্ত করে তোলে, যার দরুন, পিম্পলেস, একনেতে ভোরে যায় মুখ. চিনি খাওয়া কমালেই, স্কিন হয়ে ওঠে, পরিষ্কার.

তো আর একটুও দেরি নয়. আজ থেকেই কমান আপনার ডায়েটে চিনির পরিমান.

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।