জানেন কি কিভাবে শিশুর স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি করা সম্ভব?(Do you know how to increase the healthy weight of the baby?)

  • by

বেশিরভাগ ভারতীয় মায়ের কাছে শিশুদের ওজন বৃদ্ধি এক প্রাথমিক উদ্বেগের বিষয়, কিন্তু এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে- আপনার লক্ষ্য একটি সুষম খাবার নির্বাচন করা, যা আপনার সন্তানের বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত পুষ্টি সরবরাহ করবে এবং তাকে সুস্থ্য রাখবে। আপনার সন্তানকে দিনে তিনবার সুস্থ, সুষম খাবার এবং উপযুক্ত ব্রেকফাস্ট দিন। একটি বৈচিত্রময় খাবার অভ্যাস থাকলে শিশু যথেষ্ট পুষ্টি, নানা ভিটামিন এবং সমস্ত খনিজ পদার্থ পায়, যেগুলি তাদের মস্তিষ্ক এবং শরীরের সার্বিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয়।তাই এই ন্যাশনাল নিউট্রিশন মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটু আলোচনা করা হলো।

শিশুদের ওজন বাড়ানোর কিছু বিশেষ উপায়

আজই লগ-ইন করুন-https://spark.live/dietician-nutritionist-consultation/

এমন অনেক শিশু আছে যাদের ওজন কিছুতেই বাড়তে চায় না এবং এর পিছনে বহু কারণ থাকতে পারে, যেমন- বাবা মায়ের জন্মগত গঠনপ্রকৃতি। যদি বাবা এবং মা উভয়েই রোগা হন, তাহলে শিশুও একই রকম শারীরিক বৈশিষ্ট্য পেতে পারে। মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াও শিশুর ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনার শিশু যদি সক্রিয় এবং স্বাস্থ্যবান হয়, তাহলে সঠিক ওজন ঠিকই ছুঁয়ে ফেলবে। আপনার শিশুর জন্য একটি খাবার ডায়েরি রাখতে পারেন। যেখানে আপনি তার পছন্দ, অপছন্দ, বেছে নেওয়া খাবার ও অ্যালার্জিগুলি লিখে রাখতে পারেন।

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস

জীবনের প্রাথমিক বছরগুলিতে শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আপনার শিশুকে তার প্রাথমিক পর্যায়ে যখন স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস করান, তখন এটা সম্ভাবনা থাকে যে, সেটি তার সারাজীবনের সঙ্গী হবে। এটি তাদের বড় হওয়ার পর খাবার সময়ের মারামারি ও বিরক্তিকর মুখ করাও নিশ্চিতভাবে কমিয়ে দেয়, এর ফলে বাইরে খেতে গেলে বা কোথাও বেড়াতে গেলে আপনার ক্ষেত্রে অনেকটাই সহজ হবে। সে জাঙ্কফুড না ফল ও স্যালাড, কিসের প্রতি আসক্ত হবে, এই পর্যায়ে আপনিই তা নির্ধারণ করবেন। স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি, আপনার বাচ্চা যেন সক্রিয় থাকে এবং খেলা ও সূর্যের আলোয় বেরোনোর মতো যথেষ্ট সময় পায়, তা আপনাকে ঠিক করতে হবে। এটা রোগপ্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে এবং ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কম করে।

আরও পড়ুন-করোনার প্রকোপ সঙ্গে আবার বর্ষাকালের নানা রোগ ব্যাধি! দেখে নিন সঠিক ডায়েট করে কিভাবে সুরক্ষিত থাকবেন(With the outbreak of corona again various diseases of the rainy season! Take a look at how to stay safe with the right diet)

কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবার:

মায়ের বুকের দুধ

শিশুকে তার প্রথম ৬ মাসে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি পুষ্টিকর, সহজপাচ্য, পুরোপুরি সুষম এবং স্বাস্থ্যকর সুপারফুড, যেটা সারাজীবনের জন্য রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। এটা মা ও শিশুর মধ্যে থাকা বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে তোলে। যদি আপনার শিশু সক্রিয় হয়, দেখতে স্বাস্থ্যবান লাগে, অ্যালার্জিমুক্ত থাকে, দিনে ৪-৬ বার মলত্যাগ করে এবং ৬-৮টি ডাইপার ভিজিয়ে ফেলে, সেটা ইঙ্গিত দেয় যে, সে যথেষ্ট বুকের দুধ পাচ্ছে। আপনি নিশ্চিত হতে পারেন যে, আপনার শিশুর বৃদ্ধি স্বাস্থ্যকর। ৬ মাস বয়সের পর, আপনি বাচ্চার খাবারের তালিকায় বুকের দুধের সঙ্গে তরল এবং হালকা কঠিন খাবার রাখা শুরু করতে পারেন । আপনি সদ্য হাঁটতে শেখা শিশুর স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় কি কি খাবার যোগ করতে পারেন, তা বলা হলঃ

কলা

আজই লগ-ইন করুন-https://spark.live/dietician-nutritionist-consultation/

কলা এমন একটি ফল যা পটাসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং কার্বোহাইড্রেটে পূর্ণ। এটি ক্যালোরিতেও পূর্ণ এবং শিশুদের ওজন বৃদ্ধির নিখুঁত উৎস। কলা বেটে অথবা স্ম্যুথি করে পরিবেশন করুন। ভাপানো কেরালা কলা বেটে শিশুদের খাওয়ালে খুব ভালো ফল দেয়। ভ্রমণের সময় একটি সুবিধাজনক জলখাবার হিসাবে এটি আপনার শিশুর ব্যাগের একটি অংশ হিসাবে থাকতে পারে।

মিষ্টি আলু

মিষ্টি আলু খুব সহজে সিদ্ধ হয়ে যায় এবং সহজে বাটা যায়। এগুলি সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য এবং স্বাস্থ্যকর। এগুলি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬, কপার, ফসফরাস, পটাশিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিযে ভরপুর- শিশুদের ওজন বৃদ্ধির জন্য এগুলি শ্রেষ্ঠ ভিটামিন ।মিষ্টি আলুতে ডায়েটের উপযুক্ত ফাইবার আছে যথেষ্ট পরিমাণে। আপনি এই সবজি দিয়ে সুস্বাদু পিউরি এবং স্যুপ তৈরি করতে পারেন।

ডাল

ডাল বা কলাই পুষ্টিগুণে ভরপুর। এগুলি প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, লোহা, ফাইবার এবং পটাসিয়ামে সমৃদ্ধ। ৬ মাস পর, আপনি ডালের স্যুপ বা ডাল পানির আকারে আপনার শিশুর সঙ্গে পরিচয় করাতে পারেন, যেটি বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সবথেকে জনপ্রিয় ওজনবৃদ্ধির পানীয়। আপনি ভালোভাবে বাটা খিচুড়িও খাওয়াতে পারেন। মুগডাল খুব সহজপাচ্য এবং শিশুদের জন্য একটি ভালো বিকল্প। পুষ্টিকর এবং ফাইবার-পূর্ণ খাবারের জন্য চালের সঙ্গে অথবা সবজি দিয়ে ডাল রান্না করুন।

রাগি

ফিঙ্গার মিলেট অথবা ‘নাচানি’ নামেও পরিচিত, এই সুপারফুড শিশুর বিকাশ ও ওজন বৃদ্ধির জন্য একেবারে উপযুক্ত। এটি ডায়েট-উপযুক্ত ফাইবার, ক্যালসিয়াম, লোহা, প্রোটিন এবং নানান অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল বা খনিজতে ভরপুর।

এটি সহজপাচ্য এবং ইডলি, ডোসা, পরজ, মল্ট বা সিরিয়ালস রূপে শিশুদের দেওয়া যেতে পারে এবং সদ্য হাঁটতে শেখা শিশুদের জন্য কেক, কুকিজ এবং পুডিং আকারে দেওয়া যাবে।

ঘি

আজই লগ-ইন করুন-https://spark.live/

ঘি বা পরিশোধিত মাখনে উচ্চ পুষ্টিগুণ আছে। আপনার বাচ্চার ৮ম মাসের আশেপাশের সময়ে এটির সঙ্গে পরিচয় করান। কয়েক ফোঁটা ঘি পরজে যোগ করুন অথবা বাটা খিচুড়ি অথবা ডালের স্যুপের উপর ছড়িয়ে দিন।

আপনি যদি ভেজাল নিয়ে চিন্তিত থাকেন, তাহলে বাড়িতে দুধ অথবা মালাই/ক্রিম থেকে তৈরি ঘি সবথেকে ভালো বিকল্প । শিশুদের স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি খুব ভালো খাবার । ঘি-এর ব্যবহার বিষয়ে সীমাবদ্ধ বা পরিমিত হওয়ার কথা মনে রাখবেন, কারণ এটি অতিরিক্ত খেলে আপয়ানার শিশুর পেত খারাপ করতে পারে ।যখন আপনার শিশু ৮-১০ মাস বয়সে পৌঁছায়, আপনি ওজন বৃদ্ধির জন্য নিম্নলিখিত খাবারগুলি তাদের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারেনঃ

দই

আপনার বাচ্চার খাবারে দইয়ের মতো দুগ্ধজাত পণ্য যোগ করা উপযুক্ত । শিশুদের স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির জন্য দইয়ে ফ্যাট এবং পুষ্টিকর ক্যালোরি থাকে ।

ডিম

১২ মাস পূর্ণ হওয়ার পরেই শুধুমাত্র, শিশুদের প্রোটিনে ভরপুর এই উৎসের সঙ্গে পরিচয় করানো উচিত । ডিম সাচ্যুরেটেড ফ্যাট, প্রোটিন, ভিটামিন এবং মিনারেল বা খনিজতে পূর্ণ; আপনি একে অমলেট, ভুজিয়া, সিদ্ধ, ডিম-ভাত অথবা ফ্রেঞ্চ টোস্ট হিসাবে পরিবেশন করতে পারেন ।

অ্যালার্জির পরীক্ষা এবং ভালো মানের জন্য যত্ন নেওয়া উচিত, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এড়াতে রোগ-মুক্ত কৃষিজ ডিম নিতে হবে । যেসব পরিবার আমিষ খাবার বেশি পছন্দ করে, তাঁরা শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে মাংস বা মাছ খাওয়ানো শুরু করতে পারেন ।

ড্ৰাই ফ্রুইট এবং বীজ

আমন্ড, পেস্তা, আখরোট, শুকনো খেজুর (এপ্রিকট), কাজু, কিশমিশ এবং তিন, কুমড়ো, মসিনা প্রভৃতি বীজ বাচ্চাদের ওজন বৃদ্ধির জন্য শ্রেষ্ঠ ভিটামিনের জোগান দেয় । নানা আকর্ষণীয় উপায়ে এগুলিকে খাবারে যোগ করা যায় । এগুলিকে গুঁড়ো করে দুধে দিন অথবা সিরিয়ালসের উপর ছড়িয়ে দিন, অথবা সহজে খাওয়ার জন্য তাদের এক মুঠো করে বাদাম ও বীজ হাতে দিন ।

পিনাট বাটার অথবা আমন্ড-দুধ স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধির জন্য সুস্বাদু বিকল্প । আপনি ‘এনারজি বার’ তৈরি কোরতে পারেন অথবা রুটি বা পরোটা তৈরির সময় এগুলিকে আটার সঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন । দুধের সঙ্গে খেজুরের সিরাপ যোগ করলে, বাচ্চাদের জন্য লোহা-পূর্ণ খাবার বিকল্প হবে । এটা প্রায়ই ওজন বৃদ্ধির পানীয় হিসাবে ব্যবহার করা হয় ।

আরও পড়ুন-ইন্টারন্যাশনাল নিউট্রিশন সপ্তাহের গুরুত্ব কী?(What is the significance of International Nutrition Week?)

চিকেন

সহজপাচ্য প্রোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস । সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ী, এটি শিশুকে পেশির ভর তৈরি করতে সাহায্য করে এবং এইভাবে স্বাস্থ্যকর ওজন অর্জন করা যায় ।মুরগির মাংস একটি বহুমুখী খাবারের বিকল্প এবং যেকোনো রূপে পরিবেশ করা যায়- তাজা স্যালাড থেকে গাঢ় ভারতীয় কারি, অথবা মনমুগ্ধকর কাবাব ।

ফল এবং সবজি

আজই লগ-ইন করুন-https://spark.live/

প্রাকৃতিক শর্করা, অপরিহার্য ভিটামিন এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনকারী খনিজতে ভরপুর; গ্রীষ্মকালীন ফল ও সবজিগুলি প্রত্যেক শিশুর খাদ্যতালিকায় থাকা অপরিহার্য । এতে পেঁপে, আম এবং আনারস অন্তর্ভুক্ত ।সিদ্ধ সবজিকে মাখনে উল্টেপাল্টে নিয়ে অথবা রঙিন ফলের স্যালাডের সঙ্গে নিয়ে আপনার শিশুকে জলখাবারে দিন ।

Spark.Live-এ রয়েছেন বিশিষ্ট সকল ডায়টেশিয়ানরা

বর্তমানে দেশের নিজস্ব অ্যাপের মধ্যে Spark.Live অন্যতম। একাধিক বিশিষ্ট পুষ্টিবিদরা যুক্ত হয়েছেন Spark.Live এ, এবং তারা অনলাইন কন্সালটেশনের সুযোগ রাখছেন আপনাদের সকলের জন্যই। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কেন্দ্রীভূত করে আপনাদের ডায়েটের যেকোনো ধরণের সমস্যার সমাধান খুব সহজেই করে দিচ্ছেন আমাদের ডায়েটিশিয়ানরা দক্ষতার সঙ্গে এবং সব থেকে সুবিধে হল নিজের বাড়িতে বসেই স্বল্প মূল্য ব্যায় করে আপনারা নিজেদের ডায়েট চার্টটি পেয়ে যাবেন।

তাই আর দেরি না করে, আজই নিজের সেশন বুক করুন এই লিংকটিতে ক্লিক করে-https://spark.live/dietician-nutritionist-consultation/

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।