কোন পাঁচটি লক্ষণ দেখলে বুঝবেন, আপনার মানসিক কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজন? (Do I Need Therapy? 5 Signs You Need To See A Therapist)

বেশ কয়েকদিন ধরে মনটা কেমন উসখুস করছে, কোনো কাজেই মন বসাতে পারছেন না? কাজের জায়গায় বেশি কারো সাথে কথা বলতে গেলেও, বিরক্ত লাগছে? অফিসে ডোকার পর থেকেই, শুধু ঘড়ির কাঁটার ওপর নজর রেখে বসে থাকছেন, প্রহর গুনছেন কখন ছুটির ঘন্টা বাজবে আর আপনি সোজা বাড়ি। এই অবস্থায় মনে হতেই পারে, আপনার কাজে একঘেয়েমি আসার দরুন, আপনি একটু দোলাচলে রয়েছেন, কিন্তু সমস্যাটি যে কতটা তীব্রতর তার টের পাচ্ছেন বাড়ি ফিরে।

কিভাবে? বাড়ি ফিরেও আপনি শান্তি পাচ্ছেন না, পরিবারের নিজের সদস্যদের কোলাহল আপনাকে ভীষণ মাত্রায় বিরক্ত করছে। ফ্রেশ হয়ে তাদের সাথে সময় কাটানো তো অনেক দূরের কথা, কেউ হাসির কথা বললেও, আপনার পছন্দ হচ্ছে না। চাইছেন, স্নান সেরে যেই ঘরের খাটের ওপর আপনি একটু গা মেললেন, তারপর যেন কেউ আর আপনার ঘরেই না আসে। ঘরের দরজাটি বন্ধ থাকলেই ভালো। সকলের থেকে একটু দূরে থাকাটাই আপনি ভালো মনে করছেন। কিন্তু তাতেও কি শান্তি পাচ্ছেন? কিছুক্ষন এক থাকার পর, যদি কেউ আপনাকে না ডাকতে আসেন, তাতেও চটে যাচ্ছেন, এ এক অদ্ভুত সমস্যা। বেশি কথা হলেই আপনি ভয় পাচ্ছে তার সাথে না আপনার ঝগড়া বেঁধে যায়- ঠিক এই সময়েই কিন্তু আপনাকে বুঝতে হবে আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের হিলিংয়ের প্রয়োজন। আর এই ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারেন একমাত্র একজন সাইকোলজিস্ট বা কাউন্সিলার। আজ চলুন কথা বলা যাক, ঠিক কোন কোন লক্ষণগুলি আপনাকে বুজিয়ে দেবে যে আপনার কাউন্সিলিংয়ের প্রয়োজন?

১. কাজে অনীহা –

কাজে অনীহা আসার কারণ কিন্তু অনেকরকম হতে পারে। যেমন- ধরুন যে ক্ষতি আপনার পছন্দ নয়, সেই কাজটিই আপনাকে করতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। আবার শারীরিক কোনো সমস্যা থাকলেও, কাজে মন বসে না। বাড়ির কোনো অশান্তির জের এতটাই যে সেটি আপনাকে সর্বক্ষণ ভাবাচ্ছে, তখন আমাদের কাজে মন বসাতে অসুবিধা হয়। কিন্তু যদি আপনার পরিবারেও কোনো শান্তি না থাকে, আপনি আপনার পছন্দের কাজই করছেন, তাও কোনো মতে কাজে মন বসাতে পারছেন না, একটা অস্থিরতা কাজ করে চলেছে সর্বক্ষণ। আর তাই জন্য দিনের পর দিন আপনার পারফরমেন্সও খারাপ হচ্ছে, আর সেই চিন্তাও আপনার মাথায় চেপে বসছে। আপনি চাইছেন, নিজের মন মেজাজ ঠিক করে আবার আগের মতো কাজে মন দিতে, কিন্তু করে উঠতে পারছেন না। এই অবস্থাটিতে কিন্তু বুঝতে হবে , আপনি কোনো মানসিকগত সমস্যার শিকার হয়েছেন, যেটির কারণ আপনার কাছে অজানা। একদম দেরি করবেন না, আপনি কি ফিল করেন, কি করতে ইচ্ছা করে আপনার সবটাই খুলে বলুন একজন মনোবিদকে

২. একা থাকার ইচ্ছা –

একাকিত্ব – শব্দটি যতটা না ভারী তার থেকে ভারী তার সংজ্ঞা। মানুষের জীবনে একাকিত্ব এতটা ভয়ঙ্কর অবস্থা আনে, যে নিজের প্রাণ নিতেও অনেকে পিছ পা হয় না। আবার অন্যদিকে এই একাকীত্বকেই মানুষ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করতেও দেখা যায়। কিন্তু যারা উপভোগ করতে পারেন না, তাদের শেষটা বড্ডো মর্মান্তিক হয়। কিন্তু জানেন তো সবকিছু শেষ হওয়ার আগেও, মানসিক অসুস্থতা বার বার জানান দেয়, আমাদের হাতে সময় সুযোগ থাকে নিজেকে সারিয়ে তোলার, কিন্তু শুধুমাত্র অবহেলার কারণে আমরা হেরে যাই, নিজের কাছে কোন মানুষকে হারতে দেখি।

আরও পড়ুন – কোন লক্ষণগুলি দেখে বুঝবেন আপনার সম্পর্ক শেষের পথে?

মনোবিদদের মতে, এই সময়টিতে মানুষের মনে যেটি জায়গা করে নেয় সেটি হল কিছু বদ্ধ ধারণা। যেমন- তাকে কেউ ভালোবাসে না, পছন্দ করে না, কেউই তার সাথে সময় কাটাতে আগ্রহী নন এমনকি সকলেই তাকে ইগনোর করছে- এই সব রকম চিন্তাগুলিই ধীরে ধীরে জমতে জমতে মনের ভিতরে দৃঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর তার পরেই, মানুষ নিজেকে একা করে নেইই, পাশাপাশি কেন সে এতটা একা সেটি নিয়েও দুঃখ পায়। এইভাবেই শুরু হয়ে যায় অবসাদের অধ্যায়। এইরকম দেখা যায়, কেউ যদি মানুষটির একাকিকত্ব ভাঙার জন্য আসে, তাকেও এনারা ইগনোর করে। ফোন বেজে গেলেও তা তুলতে তাদের ইচ্ছা করে না, কথা বলা, বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা সবটাতেই অনিচ্ছা লক্ষ্য করা যায়। আপনার বা আপনার চারপাশে কারোর এই ধরণে সমস্যা আপনার নজরে এলে, একমুহূর্ত দেরি করবেন না তাকে একজন অভিজ্ঞ সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিতে। আপনি বাড়িতে বসেই নিজের মোবাইল ফোনটির সাহায্যে সরাসরি ভারতের বিখ্যাত সাইকোলজিস্টদের সাথে অনলাইন কসাল্টেশন নিতে পারেন, নিজের ভাষায় একমাত্র Spark.Live -এ ।

৩. চোখে জল আসা –

সকালে ওঠার থেকেই, মাথাটা ভার ভার লাগা। বিছানা থেকে উঠতেও মন চায় না, আর অফিসে যাওয়া! সেটিকে ক্যানসেল করার জন্য কোনো অজুহাতের যুক্তি টেনে প্রানপন চেষ্টা করা। অফিস থেকে ছুটি না হয় পাওয়া গেল, কিন্তু তারপর সারাটা দিন ওই বিছানাতেই থাকা। এমনকি দিনের আলোও বড্ডো চোখ ঝলসানোর মতো মনে হয়, ঘরের দরজা জানলা বন্ধ করে, মোটা মোটা পর্দাগুলি টানটান করে, যাতে এক টুকরো আলোও না ঘরে প্রবেশ করতে পারে, তারপর অগোছালো খাটটিতে বালিশ জড়িয়ে শুয়ে থাকা।

কিছু পরেই লক্ষ্য করা চোখ থেকে অবিশ্রান্ত ভাবে জল পড়ছে। তখন কি মাথায় আসছে না! বহু পুরোনো অপমান, নিজের মানুষকে হারানোর কথা, ভবিষ্যতে অবিশম্ভাবীরূপে কাউকে হারিয়ে ফেলার চিন্তা- সব যেন একসাথে মাথার মধ্যে কিলবিল করতে থাকে। সন্ধ্যার অন্ধকার যতটা ঘন হতে থাকে ততই নিশ্চুপে চোখের জল পড়ার পরিমাণও বাড়তে থাকে। মনে হতে থাকে খুব জোরে কাঁদি, কিন্তু কেউ শুনে নিলে, কারণ জিজ্ঞাসা করলে, কি বলব? কারণ কান্নার সঠিক কারণটাই যে অজানা। – এই অবস্থায় আপনি নিজেও কিন্তু বুঝছেন, ইমোশনালি আপনি কতটা ভেঙে পড়েছেন? এই অবস্থায় নিজেকে একা করে না রেখে, আমাদের সাইকোলোজিস্টকে মনের সব গোপন কথা খুলে বলুন, নিশ্চিন্তি থাকুন – আপনার গোপনীয়তাকে গোপন রাখায় আমাদের প্রধান কর্তব্য।

৪. ঝামেলায় জড়িয়ে পড়া –

মন মেজাজ এতটাই খারাপ যে ভালো কথাও আপনার পছন্দ হচ্ছে না। শুধু পথ খুঁজছেন, কোনো কথোপকথন থেকে পালাবার। নিজেই বুঝতে পারছেন, মাথা এতটাই ভরে রয়েছে যে কেউ কোনো বেফাঁস কথা বলে ফেললেই, আপনি তাকে ছেড়ে কথা বলবেন না। সেটি কাজের জায়গা হলে বিপদ বেশি। কারণ এইরকম বহুবার দেখা গেছে, শুধুমাত্র, রাগের বশে অনেকেই নিজেকে গুরুত্বহীন ঝামেলায় জড়িয়ে ফেলেছে। কলিগদের সাথে বাজে ব্যাহার যেমন তার রেপুটেশন নষ্ট করেছে, তেমনি রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত তাকে কাজ হারাতেও বাধ্য করেছে।

আরও পড়ুন –আপনি কি কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত মানসিক চাপ অনুভব করছেন?

আবার অন্যদিকে বাড়িতে, নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথে কোনো কারণ ছাড়াই বাজে ব্যবহার, আপনাকে দিনের শেষে ভাবতে শুরু করেছে। ভয়ও পাচ্ছেন, সম্পর্কগুলি যেন নষ্ট না হয়ে যায়। চিৎকার-ঝামেলা করার পর বুঝতে পারছেন যে বিষয়টি নিয়ে এতো কিছু করলেন সেটি আসলে ভীষণই নগন্য। কিন্তু কিসের জন্য এতো রাগ, সেই কারণও আপনার অজানা। দেরি করবেন না, আজই নিজের ফোনটিতে ডাউনলোড করুন Spark.Live -অ্যাপটি, আর নিজের ভাষায় ভারতের স্বনামধন্য কাউন্সিলারদের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করুন।

৫. নিজেকে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা-

জীবনের কোনো মানে, কোনো উদ্দেশ্য বা বঁচে থাকার কোনো উদ্দেশ্য খুঁজে না পাওয়া। আপনার কাছে সব আছে, থাকার জন্য ভালো ঘর, দুবেলা পেটপুরে খাওয়ার মত খাবার, পরিবারের সদস্যরা কিন্তু তাও কিছুর কমতি আপনার জীবনে রয়েই যাচ্ছে। কিছুতেই আপনি খুশি হতে পারছেন না। সর্বক্ষণ মনে হচ্ছে আপনি বাড়তি, নিজের পরিবারের কাছে এমনকি নিজের কাছেও। ভাবছেন আপনি বেঁচে থাকুন বা মরে যান, তাতে কারোর কিছু ক্ষতি হবে না- আর এই ভাবনাটিই আপনাকে এতো দুঃখী করে তুলছে যে আপনি বারবার চেস্ট করছে নিজের প্রাণ নিয়ে নেওয়ার।

আবার যাদের সাথে অনেক বাজে কোনো ঘটনা ঘটেছে, সেই স্মৃতি গুলি তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে, সেই ক্ষেত্রেও মানুষ নিজের জীবন নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ক্ষেত্রে মনকে হিল করা, সারিয়ে তোলা ভীষণ প্রয়োজন, যেটি একমাত্র করতে পারেন একজন মনোবিশেষজ্ঞ। আমাদের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সাইকোলজিস্টরা সদা প্রস্তুত আপনাদের সাহায্য করতে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।