ডায়েটিশিয়ান উত্তীয়া জানার কাছে রয়েছে ডায়েটের নানান প্রশ্নের সমাধান (Dietitian Uttiya Jana know the answer to the various questions of diet)

ডায়েট নিয়ে আমাদের সকলের মধ্যে এক অজানা আগ্রহ থাকে, এই কারণে আমরা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখে কিংবা ম্যাগাজিনে পরে নতুন নতুন ডায়েট নিজেরা ট্রাই করতে শুরু করি। কিন্তু সঠিক গাইড লাইন মেনে ডায়েট না করলে অনেকসময় আমরা নানান রোগের কবলে পড়তে পারি। Spark.Live এ রয়েছেন স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ান উত্তীয়া জানা, ওনার কাছে আমরা পেয়ে যাবো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সহজ উত্তর আসুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক-

১) সহজে ওজন কমানোর মিথ?

আমরা অনেকেই এটা মনে করি যে কম খেলেই আমরা রোগা হতে পারবো বা ফ্যাট ও কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবারগুলো বন্ধ করলেই রোগা হওয়া সহজ হবে। ব্যাপারটা কিন্তু একদমই সেরকম নয়, আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট এবং ফ্যাট এই দুটো নিউট্রিয়েন্ট এর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তাই এই জাতীয় খাবারগুলো যদি কমিয়ে দেওয়া হয় বা বন্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে আরও অন্য ধরণের কমপ্লিকেশন্স বা জটিলতা শরীরে দেখতে পাওয়া যাবে।
তাই যেটা করতে হবে সেটা হল আমাদের ব্যালান্সড খাবার খেতে হবে। সঠিক পরিমানে সঠিক খাদ্য নির্বাচন এবং তার সাথে শারীরিক কিছু ব্যায়াম এই দুটোর সমন্বয়ে ওয়েট কন্ট্রোল করা বা ওজন কমানো অনেকটাই সহজ। এই ভুল ধারণা সবার আগে মুছে ফেলতে হবে যে না খেয়ে বা কম খেয়ে ওয়েট কমানো।

২) আপেল সিডার ভিনিগার, জিরে ভেজানো জল, দারচিনির জল – এগুলি কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ান উত্তীয়া জানার সঙ্গে অনলাইন সেশনের জন্যে লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/nutritional-counselling-for-health-mood-and-depression-by-uttiya-jana-bengali

এটা একদম সত্যি কথা আপেল সিডার ভিনিগার, জিরে ভেজানো জল, দারচিনির জল খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তার পিছনে অবস্যই কিছু বিজ্ঞানসম্মত কারণ আছে।

প্রথমত, আপেল সিডার ভিনিগারে এসিটিক অ্যাসিড থাকে যেটা আমাদের শরীরে ডাইজেশন বা হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। এসিটিক অ্যাসিড আসলে ক্ষুদ্রান্তে যে গুড ব্যাক্টেরিয়া থাকে তাদের একটিভ রাখতে সাহায্য করে ফলে এই মাইক্রোঅর্গানিজমরা এমন কিছু এঞ্জাইম্স এবং কম্পোনেন্টস তৈরী করে শরীরে যারা হজম শক্তিকে বাড়িয়ে তোলে এবং তার সাথে বডি ফ্যাট বার্ন করতেও সাহায্য করে।

দ্বিতীয়ত, জিরে এবং দারচিনি এই দুটোর মধ্যেই কিন্তু যথেষ্ট ফাইবার আছে যেটাকে বলা হয় প্রিবায়োটিক, সেটাও আমাদের খিদে পাওয়াকে কন্ট্রোল করা আর এমন কিছু এন্টিঅক্সিডেন্ট ফ্যাভোনোইডস আছে যারা মেটাবলিক রেটকে অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে যা বডি ফ্যাট বার্ন করতে খুবই সাহায্য করে ফলে ওয়েট কমানো সহজ হয়।

৩) ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি কার্যকরী? এই উপায়টি কি শরীরের জন্য ভালো না খারাপ?

Spark.Live স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ান উত্তীয়া জানার সঙ্গে অনলাইন সেশনের জন্যে লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/nutritional-counselling-for-health-mood-and-depression-by-uttiya-jana-bengali

হ্যাঁ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের মাধ্যমে ওয়েট কমানো সম্ভব। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সাধারণত ৮ ঘন্টা থেকে ১২ ঘন্টা কোনো খাবার না খাওয়া, তাই এই সময়ে আমাদের বডির ফিজিওলজিক্যাল এক্টিভিটি এবং কায়িক পরিশ্রম বা ফিজিক্যাল এক্টিভিটি করার জন্য যে শক্তি প্রয়োজন সেই শক্তি বডি ফ্যাট ভেঙেই তৈরী হয় তাই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এ বডি ফ্যাট খুব তাড়াতাড়ি বার্ন হতে থাকে যার ফলে ওজন কমে খুব সহজে।

কিন্তু আমি একজন ডায়েটিশিয়ান হিসেবে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংকে কখনোই সাপোর্ট করবো না। নিশ্চয়ই এতে ওজন কমে, কিন্তু এই ৮ ঘন্টাতে বডির যে ফ্যাট বার্ন হচ্ছে সেই ফ্যাট মেটাবলিজম করার জন্য বডিতে কার্বোহাইড্রেট দরকার কিন্তু ৮ ঘন্টা ফাস্টিংয়ের জন্য কার্বোহাইড্রেট নেই ফলে বডিতে প্রচুর কিটোন বডি তৈরী হয় এবং এই কিটোন বডি জমতে থাকলে সেটা থেকে কিটোসিস রোগ দেখতে পাওয়া যায় যেটা আমাদের শরীরের জন্য ঠিক নয়।

তাই আমি একজন ডায়েটিশিয়ান হিসেবে অবশ্যই সাপোর্ট করবো আপনি সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খেয়ে সুস্থ থাকুন এবং নিজের অতিরিক্ত ওজন কমান। শুধুমাত্র ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করে ওয়েট কমাতে গিয়ে অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোনো মানে হয় না।

৪) কম খাওয়া কি ওজন কমাতে সাহায্য করে?

হ্যাঁ কম খাওয়া অবশ্যই ওয়েট কমাবে, কারণ শরীরের এনার্জির জন্য ফ্যাট ও গ্লুকোজেন প্রয়োজন যেটা আমাদের লিভার ও মাসেলে থাকে সেগুলো সব ভাঙতে থাকবে। ফলে অবশ্যই রোগা হবে ওয়েট কমবে।

এইখানে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে ওয়েট কমাতে গেলেই সবাই ফ্যাট জাতীয় খাবারটা আগে বন্ধ করে দেয়, কিন্তু আপনারা কি জানেন “fat does not make us fatty”, এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা যে ফ্যাট ছেড়ে দিলেই ওয়েট কমবে। ফ্যাটের সাথে কার্বোহাইড্রেট এই দুটো যদি সমানতালে মাত্রাতিরিক্ত আপনি খান তাহলে ওয়েট বাড়বে।

তাই খাওয়া কমিয়ে দিয়ে ওজন কমানোটা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, সঠিক সময় সঠিক খাবার নির্বাচন করে সঙ্গে শারীরিক কিছু ব্যায়ামে মাধ্যমে ওজন কমানোটাই বুদ্ধিমানের কাজ। খাওয়া কমিয়ে পেটে খিদে আর মনে দুঃখ নিয়ে ওজন আপনার কমবে ঠিকই কিন্তু আপনি জানবেননা কখন আপনার শরীরে অন্য কোনো রোগ এসে বাসা বেঁধেছে।

তাই ডায়েট করা মানেই কম খাওয়া নয়, পুষ্টিকর খাওয়া ও সময় মতন খাওয়া সাথে ফিজিক্যাল এক্সসারসাইস। এই টিপস মেনে চললে আপনাকে রোগা হওয়া ও সুস্থ্য থাকা থেকে কেউ আটকাতে পারবেনা।

৫) যেকোনো ডায়েট প্ল্যান শুরু করার সময় কি বিষয় মাথায় রাখতে হবে?

কোনো ডায়েট চার্ট করার আগে আপনি সবার প্রথমে এটা দেখবেন যে আপনার কি এই ডায়েট সুট করবে? সবার শরীরের জন্য সব রকম ডায়েট প্রযোজ্য হয় না। ডায়েট সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কি রুটিনে থাকছেন সারাদিন, কতটা ফিজিক্যাল এক্টিভিটি করেন, আপনার কোনো মেডিক্যাল সমস্যা আছে কিনা, কত বয়স আপনার, এরকম নানান ফ্যাক্টর রয়েছে। এই সব কোটা ফ্যাক্টর আপনি যে ডায়েট চার্ট করবেন তার সঙ্গে মিলবে কিনা সেটা যাচাই করাটা খুবই দরকার। আর এই কারণে সঠিক গাইডলাইনের জন্য যোগাযোগ করা উচিত একজন বিশিষ্ট ডায়েটিশিয়ান বা নিউট্রিশনিস্টের সঙ্গে।

সব থেকে বড় ভুল যেটা মানুষ করেন সেটা হলো কোনো ম্যাগাজিন বা ইউটিউব দেখেই ডায়েট শুরু করে দিলেন আর তারপর ১৪ দিন বা ১ মাস পরে ওই ডায়েটের সাইড এফেক্ট নিয়ে আপনি কিন্তু কোনো ডায়েটিশিয়ানের কাছেই সাহায্য চাইতে যাবেন। তার থেকে ভালো নয় কি সাহায্যটা আপনি ডায়েট শুরু করার থেকে নিয়ে নিন। তাতে যেটা ভালো হবে তা হল আপনাকে বিনা কারণে ভুল ডায়েটের জন্য মানসিক বা শারীরিক কোনো সমস্যার কবলে পড়তে হবেনা।

ডায়েটিশিয়ান বা নিউট্রিশনিস্টের থেকে সঠিক পরামর্শ নিয়ে তবেই কোনো ডায়েট শুরু করুন, কারণ মনে রাখবেন- ” Prevention is better than cure”, তাই সঠিক জায়গায় সঠিক মানুষের থেকে সাহায্য নিয়ে সুস্থ্য ও সুন্দর ভাবে বাঁচুন।

Spark.Live এ স্বনামধন্য ডায়েটিশিয়ান উত্তীয়া জানার সঙ্গে অনলাইন সেশনের জন্যে লিংকটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/nutritional-counselling-for-health-mood-and-depression-by-uttiya-jana-bengali

https://spark.live/consult/nutritional-counselling-for-health-mood-and-depression-by-uttiya-jana-bengali

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।