ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠার কাছে রয়েছে ডায়েট সম্পর্কিত কিছু প্রশ্নের সহজ উত্তর (Dietitian Manjistha has simple answers to some diet related questions)

ডায়েট নিয়ে আমরা অল্প বিস্তর সকলেই চিন্তিত থাকি, ঠিক কি কি খেলে সুস্থ্য থাকতে পারবো বা কোন রোগের জন্য কোন খাবার উপযুক্ত এই ধরণের নানান প্রশ্নের উত্তর আমরা পেয়ে যাবো ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠার কাছে।

প্রশ্ন ১) নিরামিষাশীদের জন্য প্রোটিনের সঠিক উৎস কি?

উত্তর – ভেজিটেবল সোর্সের খুব ভালো প্রোটিন হচ্ছে ডাল ও সিম্বো গোত্রীয় খাদ্য সামগ্রী যেমন- সোয়াবিন, মুগ,মুসুর,ছোলা,রোহর,মটর ইত্যাদি ডাল। তাছাড়াও পালং শাক, নোটেশাক, কীনোয়া, মিলেট, হোল গ্রেইন সিরিয়ালস, ওটস এবং ওয়াল নাটস, পেস্তা, কাজুবাদাম, আলমন্ড এগুলো থেকেও যথেষ্ট পরিমানে শরীরের জন্য উপযুক্ত প্রোটিন আমরা পেয়ে থাকি। তাই নিরামিষাশীদেরও প্রোটিন নিয়ে চিন্তায় থাকার কোনো কারণ নেই, উপযুক্ত খাবারগুলো খাদ্যতালিয়ায় রাখলেই শরীরে সঠিক পরিমানে প্রোটিন থাকবে।

প্রশ্ন ২) কোন ধরণের ফ্যাট খাওয়া উচিত?

Spark.Live এ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/weight-management-for-immunity-diabetes-fatty-liver-hypertension-with-dietician-manjistha-roy-bengali

উত্তর- আমাদের অনেকেরই ধারণা থাকে ফ্যাট শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক বা ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলেই শুধু ওজন বৃদ্ধি হয়। কিন্তু শরীরের জন্য কিছু কিছু ফ্যাট ভীষণই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরের জন্যে উপযুক্ত ফ্যাট গুলি হচ্ছে- চীজ , ডার্ক চকোলেট, ডিমের কুসুম, মাছ ও মাছের তেল, যেকোনো ধরণের নাটস ও অয়েল সিড্স, চিয়া সিড্স, ফ্লেক্স সিড্স, অলিভ অয়েল, দই ইত্যাদি। তাই এবার থেকে সঠিক ফ্যাট জাতীয় খাদ্য অবশ্যই নিজেদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে ভুলবেন না।

প্রশ্ন ৩) দুধ / দুগ্ধজাত খাবারে অ্যালার্জিযুক্ত লোকেরা, ক্যালসিয়াম গ্রহণের জন্য তারা কী ধরণের পরিপূরক খাবার খেতে পারেন?

Spark.Live এ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/weight-management-for-immunity-diabetes-fatty-liver-hypertension-with-dietician-manjistha-roy-bengali

উত্তর- ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট হিসেবে আমরা দুধের পরিবর্তে রাখতে পারি – সোয়া মিল্ক বা সয়াবিনের যেকোনো প্রোডাক্ট কারণ সয়াবিনের যেকোনো প্রোডাক্টের মধ্যে ক্যালসিয়াম যথেষ্ট পরিমানে থাকে তাছাড়াও বেকড বিনস ,ব্রকোলি ,গাজর,ফুলকপি,বাঁধাকপি এগুলো আমরা খাদ্যতালিয়ায় রাখতে পারি, ফ্রেঞ্চ বিনস রাখতে পারি, সোয়াবিনের বীজ খাবারও বিপুল উপকারিতা রয়েছে। বিভিন্ন রকমের ফল যেরকম পাকা পেঁপে, কমলা লেবু, খেজুর , ব্ল্যাকবেরি, ব্ল্যাক কারেন্ট এগুলো থেকেও কিন্তু আমরা যথেষ্ট পরিমানে ক্যালসিয়াম পেতে পারি। এছাড়াও ডিম, মাছ এগুলো থেকে আমরা যথেষ্ট পরিমানে ক্যালসিয়াম পাই, যদি কেউ নন ভেজিটেরিয়ান হন তার যদি ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স থাকে তাতেও কোনো সমস্যা নেই কারণ তারা যথেষ্ট পরিমানে রোজকার ডায়েটে ডিম এবং মাছ রাখতেই পারেন। তাছাড়াও আলমন্ডস, তিল, তিসি খেতে পারি কারণ এগুলো থেকেও খুব ভালো ক্যালসিয়াম আমরা পেতে পারি।

প্রশ্ন ৪) আয়রনের ঘাটতির জন্য ডায়েটে কোন ধরণের খাবার অন্তর্ভুক্ত করা উচিত?

Spark.Live এ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংটিতে ক্লিক করুন-https://spark.live/consult/weight-management-for-immunity-diabetes-fatty-liver-hypertension-with-dietician-manjistha-roy-bengali

উত্তর- আয়রনের ঘাটতি বা এনিমিয়া প্রতিরোধ করতে হলে আমাদের যে খাবার গুলো নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে সেগুলোকে দুভাগে ভাগ করা যেতে পারে। এক হল- এনিম্যাল সোর্স যেমন- চিকেন, মাটন ,মিট লিভার এবং অনান্য অর্গানস, মাছ, বিফ,ল্যাম্ব,ক্যান্ড স্যালমন ফিশ, ডাকস ইত্যাদি।দুই হল- প্ল্যানড সোর্স যেমন- বিভিন্ন প্রকারের ডাল ও ডাল জাতীয় খাদ্য সামগ্রী, সবুজ শাক সবজি, হোল গ্রেইন সিরিয়ালস এবং সিরিয়াল প্রোডাক্ট, খেজুর , কিসমিস ইত্যাদি।

তবে আয়রন ঘাটতির ক্ষেত্রে আমাদের কিছু কথা মাথায় রাখা একান্ত প্রয়োজন তা হল শুধু ডায়াটারি আইরন ঠিক থাকলেই হবেনা তার সঙ্গে ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন B12, ভিটামিন C এগুলো যথাযত পরিমানে আমাদেরকে গ্রহণ করতে হবে আইরন ঘাটতি আটকানোর জন্য, তার কারণ ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন B 12, ভিটামিন C বিশেষ ভাবে আইরন ডেফিসিয়েন্সি বা আইরন ঘাটতি রুখতে আমাদেরকে সাহায্য করে।

ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন B 12, ভিটামিন C আইরন শোষণে সাহায্য করে বিশেষ ভাবে তাই এগুলোর খামতি যাতে না থাকে তাই আমাদের ডিমের কুসুম , বিভিন্ন রকমের মাছ, গোট মিট এবং লিভার, ছোলা ও ছোলার ডাল , পালং শাক, পুদিনা পাতা, ভেন্ডি, আমলকি, কমলা আবু, পেয়ারা এগুলো অবশ্যই খাদ্যতালিয়ায় রাখতে হবে।

প্রশ্ন ৫) থাইরয়েড রোগীদের কি কোনও বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করা প্রয়োজন?

উত্তর- প্রথমেই বলি থাইরয়েড একটা গ্লান্ড, থাইরয়েড প্রিতিটি মানুষেরই থাকে। মানুষের গলায় এটি থাকে ঠিক প্রজাপতির মতো দেখতে হয় থাইরয়েড গ্লান্ডটিকে। এই গ্লান্ড থেকে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় যেগুলো আমাদের মেটাবলিসমের জন্য ভীষণ ভাবে প্রয়োজনীয় , সেই হরমোনগুলোর ক্ষরণে যদি কোনো রকমের সমস্যা দেখা দেয় যেমন হরমোন সিক্রিয়েশন যদি খুব বেশি হয় তাহলে এক ধরণের সমস্যা হয় আবার সেই হরমোন সিক্রিয়েশন যদি খুব কম হয় তাহলে আরেক ধরণের সমস্যা হয়। এই সমস্যা গুলো আবার বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ভাবে কাজ করে, এই সমস্যার উপর ভিত্তি করে আমরা ডায়েট চার্ট তৈরী করি। কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট অভাবে তৈরী করা যায়না, আমরা ওজন,বিএমআই,তার ফ্যাট পার্সেন্টেজ সব কিছু দেখে এবং তার সঙ্গে T3,T4,TSH এগুলোর মাত্রা দেখে তবে আমরা ডায়েট নির্দিষ্ট করি।

তবে একথা সত্যি যে হাইপো বা হাইপার থাইরোয়েডিজম যেকোনো সমস্যার ক্ষেত্রেই হোক না কেন কোয়েট্রোজেন রয়েছে এই ধরণের খাবার প্রধানত এড়িয়ে চলার কথা আমরা বলে থাকি, অবশ্যই আমরা বলি সমস্ত শাক সবজি ফুটিয়ে জলটা ফেলে দিয়ে তারপর খেতে। বর্তমানে আপনারা যেকোনো সব্জিকেই ভালো ভাবে কেটে ধুয়ে সেদ্ধ করে জল ফেলে দিয়ে তবে খাবেন। থাইরক্সিন বা এলট্রক্সিন আপনারা যেটাই নিচ্ছেন না কেন সেটার দু ঘন্টা আগে বা পরে কোনোভাবেই সোয়া জাতীয় প্রোডাক্ট কিছু খাবেন না। এমনিও এই ওষুধ গুলো খালি পেটে খেতে হয় তাই ওষুধ খাবার দু ঘন্টা পরেই কিছু খাওয়া উচিত আমরা সব পেশেন্টকেই সেটা বলে থাকি।

থাইরয়েড পেশেন্টদের সব থেকে জরুরি হল লাইফস্টাইল মডিফিকেশন করা, নিয়মিত কিছু এক্সসারসাইস করা, পরিমান মতো খাবার গ্রহণ অর্থাৎ একবারে খুব বেশি পরিমানে খাওয়া উচিত নয়।

কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠা রায়

Spark.Live এ আমাদের সঙ্গে রয়েছেন দীর্ঘ ৬ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কনসালট্যান্ট ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠা রায়, তিনি ফুড এন্ড নিউট্রিশন নিয়ে মাস্টার ডিগ্রী করেছেন। মঞ্জিষ্ঠা কলকাতার বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যেমন S.S.K.M.(পি.জি) হাসপাতাল, চার্ণক হাসপাতাল ইত্যাদি। ডায়াবেটিকস নিয়ে C.M.C.(Vellore), তামিলনাড়ু থেকে তিনি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কল্যাণীর সুশ্রুত হাসপাতের সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন, ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথ,পার্ক সার্কাসেও তিনি বহুদিন কাজ করেছেন, রানাঘাট Lions Diwalima Diagnostic Centre, নদিয়াতেও বেশ কিছুদিন তিনি যুক্ত থেকে কাজ করেছিলেন। ইন্ডিয়ান ডায়াবেটিস এসোসিয়েশন এর লাইফ মেম্বার ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠা রায়। বর্তমানে তিনি Rainbow Clinic and Diagnostic Centre, নদিয়াতে যুক্ত রয়েছেন এবং বহু মানুষকে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে সুস্থ্য করে তুলছেন। Spark.Live এ এবার থেকে ডায়েটিশিয়ান মঞ্জিষ্ঠা রায় থাকছেন আপনাদের সকলের ডায়েট সম্পর্কিত যাবতীয় সমস্যার সমাধানের জন্যে। তাহলে আর দেরি না করে আজই অনলাইন সেশন বুক করে তার সঙ্গে ডায়েট সম্পর্কিত পরামর্শ নিয়ে নিন।

Spark.Live এ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে অনলাইন কন্সালটেশনের জন্য লিংটিতে ক্লিক করুন- https://spark.live/consult/weight-management-for-immunity-diabetes-fatty-liver-hypertension-with-dietician-manjistha-roy-bengali

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।